ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে আরো তিন আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ। বুধবার মুম্বাইতে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা যুদ্ধজাহাজ তিনটি নৌবাহিনীতে কমিশন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই প্রথম দিল্লি সম্পূর্ণরূপে ভারতে নির্মিত তিনটি যুদ্ধজাহাজ একসাথে কমিশন করলো। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত।

কমিশন করা জাহাজ তিনটির মধ্যে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাট, স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস নীলগিরি এবং সাবমেরিন আইএনএস ভাগশির। ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাট পি১৫বি স্টিলথ ফ্রিগেট প্রকল্পের প্রথম জাহাজ। এটি ১৬৪ মিটার দৈর্ঘ্য এবং আট হাজার টন ভার বহনে সক্ষম। এই জাহাজে ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস নীলগিরি নতুন শ্রেণির ফ্রিগেট। এর বহরে সাতটি জাহাজ থাকবে এবং এটি বর্তমানে পরিষেবায় থাকা শিবালিক-শ্রেণির আপডেট সংস্করণ। 

আইএনএস ভাগশির পি৭৫ স্করপিয়ান প্রজেক্টের শেষ সাবমেরিন। সবথেকে আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর সাবমেরিন এটি। ফ্রান্স নাভাল গ্রুপের সাহায্যে এই সাবমেরিন তৈরি করা হয়েছে। এতে আধুনিক মিসাইলসহ সেন্সর যুক্ত করা আছে। শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এই সাবমেরিন।

ঢাকা/শাহেদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

ইমরানের সঙ্গে কারও সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার আদিয়ালা কারাগারে বন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সব ধরনের সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন। তিনি ইমরান খানকে ‘যুদ্ধোন্মাদনায় আচ্ছন্ন এক চরমপন্থী’ বলে আখ্যা দেন। গত শুক্রবার জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে তারার এ কথা বলেন।

এর আগে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ইমরান খানকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইমরান খানের সঙ্গে অন্যদের সাক্ষাৎ বন্ধ করার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন।

তারার বলেন, ‘আইন ও নির্ধারিত বিধি অনুসারেই বন্দীদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এখন ইমরান খানের সঙ্গে সব ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ।’ কারাগারের বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর দাবি, কারা বিধি অনুযায়ী যেকোনো সাক্ষাতের সময় কারা সুপার উপস্থিত থাকেন। কর্মকর্তারা ইমরানের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করতে আসা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আলোচনা এবং ইমরানের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি লক্ষ করেছেন।

পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত নানা ধরনের অসংখ্য মামলা রয়েছে।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধ্বংসের চেষ্টা এবং রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে ক্ষমতাসীন জোট সরকার।

তারার বলেন, ইমরান খান ও তাঁর দল দেশকে দেউলিয়া করার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। পাকিস্তানকে দেউলিয়া করতে আইএমএফে (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ৯ মে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেখতে না পেয়েই সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রবিরোধী বয়ান তৈরি করছেন।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন

তথ্যমন্ত্রী তারার বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন জারির বিষয়টি ফেডারেল সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সমঝোতার সুযোগ নেই

পিটিআইয়ের সঙ্গে এখনো সমঝোতার সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারার বলেন, ‘তারা সুযোগ নষ্ট করেছে। যারা বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাসবাদ বা চরমপন্থী চিন্তাধারা ছড়ায়, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’ তবে পিটিআই ক্ষমা চাইলে ও অনুশোচনা করলে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।’

ইমরানের বোনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

জিও নিউজের অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ কথা বলতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ইমরান খানের বোন উজমা খানের সাম্প্রতিক ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার সাবেক ক্ষমতাসীন দলের জন্য কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। তিনি বলেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা সব সময় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সংলাপে বসতে অস্বীকার করেছেন এবং দলটির কোনো সদস্যের পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধেও পিটিআই কখনো নিন্দা জানায়নি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ