৫২ ম্যাচে ১৪৫ গোল, বার্সেলোনা একাডেমির ১২ বছর বয়সী বিস্ময়বালকের সঙ্গে চুক্তি নাইকির
Published: 29th, November 2025 GMT
লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সের্হিও বুসকেটস, কার্লোস পুয়োল, পেপ গার্দিওলা... নামের তালিকাটা অনেক লম্বা। আপনি চাইলে আরও কিছু নাম যোগ করতে পারেন—ভিক্টর ভালদেস, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, জর্দি আলবা, থিয়াগো আলকানতারা, গাভি, আনসু ফাতি, লামিনে ইয়ামাল।
তাঁরা সবাই একসময় বার্সেলোনার জার্সি পরেছেন। তবে এর বাইরে তাঁদের আরেকটি বড় মিল আছে। তাঁরা সবাই উঠে এসেছেন বার্সেলোনার বিশ্বখ্যাত ফুটবল একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে! এই একাডেমি যেন প্রতিভাবান ফুটবলার বানানোর এক অফুরন্ত কারখানা, যেখানে একের পর এক নতুন প্রজন্ম বেরিয়ে আসছে। ১২ বছর বয়সী ডেসটিনি কোসিসো এজিফোর লা মাসিয়ার তেমনই এক ঝলমলে প্রতিভা।
নামটা বেশ লম্বা লাগলে তাকে ডেসটিনি কোসিসো বলেও ডাকা যায়। এই মুহূর্তে সে বার্সার বয়সভিত্তিক দলে খেলছে। ভবিষ্যতে সে কত দূর যাবে, তা কেবল সময়ই বলতে পারে। তবে এখনই তার নাম জড়িয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লা মাসিয়ার আরেক বিস্ময় লামিনে ইয়ামালের সঙ্গে! অসম বয়সী এই তিনজনের মধ্যে তুলনা উঠছে কেবল একটি কারণে—গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা।
আরও পড়ুনএই দশকে লা মাসিয়ার সেরা ছয় ফুটবলার০৫ আগস্ট ২০২৫আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, বার্সার অনূর্ধ্ব–১২ দলে ডেসটিনি যখন প্রথম মৌসুম কাটায়, তখন তাকে তার বয়সের চেয়ে কিছুটা বড়দের দলে খেলানো হয়েছিল। ১১ জনের দলে খেলে সেই প্রথম মৌসুমেই সে ৯ ম্যাচে ১৬ গোল করে।
কিন্তু সত্যিকারের বিস্ময় জাগায় তার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স। সাতজনের দলে খেলে ৫২ ম্যাচে সে গোল করেছে ১৪৫টি! এই পারফরম্যান্সের পরই আলোচনায় উঠে আসে তার নাম। আরেকটা কারণও আছে—এতটুকু বয়সেই ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে সে। এই চুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্কও।
ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে ডেসটিনি কোসিসো এজিফোর.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
কঠিন পথ মাড়িয়ে সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ
কে বলবে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। কোনো হাক-ডাক নেই, কোনো উত্তেজনা নেই। অথচ সন্ধ্যা ৬টায় দুই দল মাঠে নামবে টি-টোয়েন্টি খেলতে।
টেস্ট সিরিজে আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর টি-টোয়েন্টিতে ভালো করার প্রত্যাশা আকাশচুম্বি। সেই প্রত্যাশা হয়তো লিটন অ্যান্ড কোং পূরণ করতে পারবেন। তবে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়েই সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। শক্তিমত্তা, পরিসংখ্যান বা অভিজ্ঞতা—সব দিক থেকেই এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে টেস্টে যেভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে সফরকারী দল, টি-টোয়েন্টিতে এত সহজে হাল ছাড়ার দল নয় তারা।
দুই বছর আগে চট্টগ্রামে দুই দলের সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি বাংলাদেশ জিতলেও ছেড়ে কথা বলেনি আয়ারল্যান্ড। শেষ টি-টোয়েন্টিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন পল স্টার্লিংরা। দলটির একাধিক ক্রিকেটার এখন নিয়মিত বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলেন। বাংলাদেশকে তাই সতর্ক থাকতেই হবে।
সঙ্গে চট্টগ্রামে সবশেষ সিরিজটি একটুও ভালো যায়নি বাংলাদেশের। একমাস আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে লিটনের দল। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে শুরু করে আইরিশ সিরিজের আগ পর্যন্ত পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের চারটি জিতেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটাই নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ। এরপর বিপিএল খেলবে। তবে প্রস্তুতির বড় সুযোগ এই সিরিজই। তাইতো অধিনায়ক লিটনের চাওয়া, ২২ গজে কঠিন সময় আসুক তাদের জন্য।
‘‘আমি চাই, আমাদের খেলোয়াড়েরা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ুক। কিন্তু যে জিনিসটা হয়েছে, শেষ সিরিজে আমরা জিততে পারিনি। এবার চেষ্টা করব কঠিন সময় থেকে বের হয়ে যেন ম্যাচগুলো জিততে পারি।’’
দলীয় সাফল্যে বাংলাদেশ এই ফরম্যাটে এখন আত্মবিশ্বাসী তবে ভাবনা বাড়াচ্ছে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স বেশ ভোগাচ্ছে দলকে। এর মধ্যে শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াতে দুই মেরুতে চলে গেছেন অধিনায়ক ও নির্বাচক। নতুন করে দলে যুক্ত করা হয়েছে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে। তার ওপর এখন রাজ্যের সব চাপ।
তবে লিটনের আশা দল ঘুরে দাঁড়াবে, ‘‘খুব একটা চিন্তিত না মিডল অর্ডার নিয়ে। অবশ্যই আমাদের খেলোয়াড়েরা শেষ দুয়েকটা সিরিজে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে পারেনি। কিন্তু তারা সবাই প্রুভেন। আমি আশাবাদী, তারা এই সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে।’’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে ৫টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। নিজেদেরকে ফেভারিট মেনেই আজ বন্দরনগরীতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ঢাকা/ইয়াসিন