খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন দ্রুতই
Published: 29th, November 2025 GMT
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুতই তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন। দলীয় সূত্রগুলো থেকে এ আভাস পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কখন তিনি ফিরবেন, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর গুরুতর অসুস্থতার খবরে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুব উদ্বিগ্ন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ডা.
গতকাল শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি রাতে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সেখানে ভিড় জমান। এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।
আগামী ডিসেম্বর মাসের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য তারিখ আলোচনায় ছিল।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুব উদ্বিগ্ন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন। জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একজন নেতা গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন। দেশে ফিরেই তিনি ভোটার হবেন এবং নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হবেন।
বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, ১৭ বছর পর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার, অফিস সজ্জাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, বিএনপির এমন নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এমন পরিকল্পনা ছিল যে পবিত্র ওমরাহর জন্য সৌদি আরবে যাবেন তিনি। এরপর সরাসরি লন্ডন থেকে ঢাকায় আসবেন।
বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, ১৭ বছর পর দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার, অফিস সজ্জাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।কিন্তু হঠাৎ মায়ের গুরুতর অসুস্থতা এসব পরিকল্পনা পাল্টে দিতে পারে এবং দ্রুতই তাঁকে দেশে ফিরতে হতে পারে।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ত র ক রহম ন ব এনপ র অবস থ
এছাড়াও পড়ুন:
ব্যাট–প্যাড কিনতে পেছাচ্ছে বিপিএল
পিছিয়ে যাচ্ছে বিপিএল শুরুর দিনক্ষণ। ১৭ ডিসেম্বর মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা হবে ২৪ ডিসেম্বর। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ ১৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে হবে ২৬ ডিসেম্বর।
দলগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দিতেই বিপিএল পিছিয়ে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সাখাওয়াৎ হোসেন কাল প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘ব্যাট–প্যাডসহ ক্রিকেটের অনেক সরঞ্জাম কেনারও ব্যাপার থাকে। এসবের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যেন পর্যাপ্ত সময় পায়, সে জন্য আমরা এক সপ্তাহ বাড়তি সময় দিতে চেয়েছি।’
তবে বিপিএলের খেলোয়াড় নিলাম পূর্বনির্ধারিত ৩০ নভেম্বরই অনুষ্ঠিত হবে। নিলামের জন্য খেলোয়াড় তালিকাও মোটামুটি চূড়ান্ত। এবারের নিলামে একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে থাকবেন ২০১২ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা পীযুষ চাওলা।
জাতীয় পর্যায়ে ভারতীয় কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন—বিপিএলে এর আগে এমন মাত্র একজন ক্রিকেটারই খেলেছেন। তবে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা সেই উন্মুক্ত চাঁদ ২০২২-২৩ মৌসুমের বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে। নিলামে কোনো দল কিনে নিলে এবারের বিপিএলেই প্রথম ভারতীয় হিসেবে খেলবেন চাওলা। ভারতের জাতীয় দলে খেলা প্রথম ক্রিকেটার হিসেবেও বিপিএলে নাম লেখাবেন সাবেক এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার।
বিপিএলের এবারের আসরের নিলামের জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন পাঁচ শতাধিক বিদেশি ক্রিকেটার। তবে যাচাই-বাছাই করে তাঁদের মধ্য থেকে ২৫০ জনের মতো ক্রিকেটারকে নিলামে তোলা হবে। বিদেশিদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১৩ জন ক্রিকেটার আছেন শ্রীলঙ্কার, সব মিলিয়ে দেশটির ৫১ জন ক্রিকেটারের নাম থাকবে ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় বিপিএলের নিলামে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ জন ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন পাকিস্তানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার আছেন ৩০ জন।
নিলামের তালিকায় একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পীযূষ চাওলাও আছেন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। আছেন দাসুন শানাকা, দুষ্মন্ত চামিরা, জোনাথন চার্লস, শোয়েব মালিক, ওয়েইন পারনেল, মাতিশা পাতিরানার মতো ক্রিকেটাররাও। বিপিএলে একটি দল যত ইচ্ছা বিদেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করাতে পারবে, তবে এক ম্যাচে খেলানো যাবে সর্বোচ্চ চারজনকে।
নিলাম তালিকার বাইরে থেকেও চাইলে যেকোনো সময় বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া যাবে। তবে নিলাম থেকে অন্তত দুজন বিদেশি ক্রিকেটার নিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। স্থানীয় ক্রিকেটার সরাসরি চুক্তিতে ২ জন এবং নিলাম থেকে অন্তত ১২ জন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে—‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে অন্তত একজন, ‘বি’, ‘সি’ও ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে তিনজন এবং ‘ই’ ক্যাটাগরি থেকে দুজন করে ক্রিকেটারকে দলে নিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।
স্থানীয় ক্রিকেটারদের একটি খসড়া তালিকা পাওয়া গেলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের ৫০ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের ৩৫ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের ২২ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের ১৮ লাখ, ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ১৪ লাখ এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে ১১ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সরাসরি চুক্তিতে মেহেদী হাসান মিরাজকে সিলেট টাইটানস, মোস্তাফিজুর রহমানকে রংপুর রাইডার্স এবং তাসকিন আহমেদকে ঢাকা ক্যাপিটালস দলে নিয়েছে। এই তিনজনের বাইরে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস, ওপেনার তানজিদ হাসান ও নাঈম শেখ।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা হাসান মাহমুদ ও সৌম্য সরকারকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস, নুরুল হাসানকে রংপুর রাইডার্স, মেহেদী হাসান ও তানভীর ইসলামকে চট্টগ্রাম রয়্যালস, সাইফ হাসানকে ঢাকা ক্যাপিটালস এবং নাসুম আহমেদকে সিলেট টাইটানস সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন ও তানজিদ হাসানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।