হার্ভার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের ফেলোশিপ: ক্যারিয়ার গড়তে করুন আবেদন
Published: 29th, November 2025 GMT
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে তাদের মর্যাদাপূর্ণ লিড (LEAD) ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আবেদন চলছে। LEAD শব্দের পূর্ণরূপ হলো—Learn, Engage, Advance and Disrupt। এই বিশেষ ফেলোশিপ প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও ক্ষমতায়ন করা।
এই এক বছরের ফেলোশিপটি আয়োজন করছে হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট এবং হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন বিভাগ। প্রোগ্রামটি মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর পেশাজীবীদের জন্য উন্মুক্ত।
প্রোগ্রামের সময়সূচি
হার্ভার্ড লিড ফেলোশিপ ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রোগ্রামটি দুই ধাপে সম্পন্ন হবে—
*প্রথম ধাপ (ভার্চ্যুয়াল)
– ফেলোরা তাঁদের ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
– এক্সিকিউটিভ কোচিংয়ের মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
– একাডেমিক ক্রেডেনশিয়াল অর্জন, জে–ওয়ান ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও কোর্সের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
– অনলাইন মেন্টরশিপ সেশন ও ভার্চ্যুয়াল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা যাবে।
*দ্বিতীয় ধাপ (সরাসরি অংশগ্রহণ)
– ফেলোরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় সপ্তাহ অবস্থান করবেন (এপ্রিল ২০২৭)।
– লিডারশিপ ওয়ার্কশপ, এক্সিকিউটিভ এডুকেশন কোর্স, পাবলিক স্পিকিং ও টিম বিল্ডিং কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
– এই সময়ের সব খরচ (আবাসন, রাউন্ড ট্রিপ ফ্লাইট, কোর্স ফি ও দৈনিক ভাতা) ফেলোশিপ বহন করবে।
আরও পড়ুনহার্ভার্ড–অক্সফোর্ডসহ বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্রি অনলাইন কোর্স, যেভাবে আবেদন২৭ নভেম্বর ২০২৫*যোগ্যতার শর্তাবলি—
–সব অঞ্চল, পেশা ও সেক্টরের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত।
–প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কমপক্ষে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে।
–বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে ন্যূনতম ১০ বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
–বর্তমান নিয়োগকর্তা ও কোনো সিনিয়র মেন্টরের অফিশিয়াল সমর্থনপত্র থাকতে হবে।
–২০২৭ সালের এপ্রিলে ছয় সপ্তাহের ইন–রেসিডেন্স প্রোগ্রামে অংশ নিতে কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিতে হবে।
–জে–ওয়ান ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং বোস্টনে অবস্থান করতে হবে।
–গত দুই বছরের মধ্যে চার মাস বা তার বেশি সময়ের কোনো পূর্ণকালীন ফেলোশিপে অংশ নেওয়া যাবে না।
ফেলোশিপের সুবিধাগুলো—
–ব্যক্তিগত নেতৃত্ব উন্নয়নে এক্সিকিউটিভ কোচিং।
–হার্ভার্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যদের কাছ থেকে মেন্টরশিপ।
–হার্ভার্ড ইভেন্টে বক্তব্য রাখার সুযোগ।
–এক্সিকিউটিভ এডুকেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ।
–বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ব মাস্টারক্লাসে যোগদান।
–সম্পূর্ণ অর্থায়নে ছয় সপ্তাহের ইন–রেসিডেন্স প্রোগ্রাম (আবাসন, বিমানভাড়া ও দৈনিক ভাতা)।
আরও পড়ুনবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রি অনলাইন কোর্স: ২০টির বেশি ভাষা শেখার সুযোগ২৪ নভেম্বর ২০২৫প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—
–সিভি বা রিজিউম
–উদ্দেশ্যপত্র (১ দশমিক ৫ পৃষ্ঠার বেশি নয়)
–চারটি প্রবন্ধ (প্রতিটি দুই হাজার ক্যারেক্টারের মধ্যে)
–নিজ প্রতিষ্ঠানের কমিটমেন্ট লেটার
–মেন্টরের কমিটমেন্ট লেটার
–দুটি রেফারেন্স লেটার
আবেদনের প্রক্রিয়া—
–আবেদনকারীদের অনলাইনে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফরম পূরণ করতে হবে।
–নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।
–আবেদনকারীরা নিজেদের মনোনয়ন নিজেরাই জমা দেবেন।
আবেদনের শেষ সময়—
৩০ নভেম্বর ২০২৫
এই ফেলোশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৮টি দেশের পেশাজীবীরা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের কাজের ক্ষেত্র ছিল এইচআইভি বা এইডস, স্বাস্থ্য নীতি, ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে নেতৃত্বের সুযোগ পেতে চাইলে এই ফেলোশিপ হতে পারে আপনার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনযে ১০ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে কঠিন২৫ নভেম্বর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব শ বব দ য শ বব দ য ল বছর র
এছাড়াও পড়ুন:
১২ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে অস্ট্রেলিয়া
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জিম্বাবুয়ের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে আসছে তারা। ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। ২০১৪ সালের পর এটাই হবে জিম্বাবুয়েতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সফর।
২০২৭ সালে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগেই জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন বুঝে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সিরিজকে।
আরো পড়ুন:
জাতীয় দলে বাইরে অস্থিরতা, ভেতরে ‘ওয়েল সেট’!
গাব্বা টেস্টেও থাকছেন না কামিন্স, অস্ট্রেলিয়ার অপরিবর্তিত দল ঘোষণা
অস্ট্রেলিয়ার মূল টেস্ট ও ওয়ানডে সফর দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্ধারিত রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তার আগে অল্প সময়ের জন্য তারা জিম্বাবুয়েতে থামবে তিনটি ওয়ানডে খেলার জন্য। সিরিজটি হারারে এবং সম্ভাব্যভাবে বুলাওয়েতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বহুল প্রত্যাশিত ভিক্টোরিয়া ফলসের নতুন ১০ হাজার আসনের স্টেডিয়ামটি ওই সময়ের মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এই সফরে একটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের জন্য জোর চেষ্টা চালালেও সেটি হচ্ছে না। আসছে সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সূচি এতটাই আটসাঁট যে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৭ অ্যাশেজ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯টি টেস্ট খেলবে তারা। ফলে অতিরিক্ত কোনো ম্যাচ রাখার সুযোগ নেই।
তবে ওয়ানডে সিরিজকে অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। কারণ পরের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক জিম্বাবুয়ের পরিবেশে আগে থেকেই মানিয়ে নেওয়া দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
অস্ট্রেলিয়া–জিম্বাবুয়ের টেস্ট ইতিহাস খুবই সংক্ষিপ্ত। মোটে তিনটি ম্যাচ। সর্বশেষ দুই টেস্ট হয়েছিল ২০০৩ সালে, যেখানে প্রথম ম্যাচে ম্যাথু হেইডেন খেলেছিলেন তার বিখ্যাত ৩৮০ রানের বিশ্বরেকর্ড ইনিংস। একমাত্র টেস্ট যা জিম্বাবুয়েতে হয়েছিল তা ১৯৯৯ সালে। স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেটে জিতেছিল এবং এটিই ছিল উইকেটকিপার ইয়ান হিলির শেষ টেস্ট।
ওয়ানডে ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ে সফর করতে অস্ট্রেলিয়ার এই বিরতি আট বছরের; ২০১৪ সালে সর্বশেষ জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে খেলেছিল তারা। যদিও ২০১৮ সালে তারা পাকিস্তানকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল হারারেতে।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট না হলেও জিম্বাবুয়ে আশাবাদী, ইংল্যান্ডকে দিয়ে একটি টেস্ট আয়োজন করতে পারবে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের একটি বাড়তি অংশ হিসেবে এই ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে নতুন ভিক্টোরিয়া ফলস স্টেডিয়াম প্রস্তুত থাকলে এটি হতে পারে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি ম্যাচ।
সম্প্রতি ২২ বছর পর ইংল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের মাঝে টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছিল। গত মে মাসে ট্রেন্ট ব্রিজে চার দিনের সেই ম্যাচটি দিয়ে। ইতিহাসে দুই দল মোটে সাতটি টেস্ট খেলেছে, যার মধ্যে মাত্র দুটি হয়েছে জিম্বাবুয়ের মাটিতে, ১৯৯৬ সালে যা ড্র হয়েছিল।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছে যেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসা বড় দলগুলো যাত্রাপথে তাদের দেশে ছোট আকারের সিরিজ খেলতে রাজি হয়। ২০২৬ সালের শেষ দিককে তারা এই হাইপ্রোফাইল সিরিজ নিশ্চিতের আদর্শ সময় হিসেবে দেখছে।
ঢাকা/আমিনুল