অবৈধ পথে ইতালি: নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি
Published: 29th, November 2025 GMT
উন্নত জীবনের স্বপ্ন পূরণের আশায় লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে মানবপাচার চক্রের হাতে আটকা পড়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার তিন যুবক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি পরিবারের কাছে পাঠিয়ে পাচারকারীরা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে।
নিখোঁজ তিন যুবক হলেন- আলাউদ্দিন খানের আলমাস খান (২৫), চুন্নু তফাদারের ছেলে সবুজ তফাদার (২৫) ও নুর ইসলাম ফরাজীর ছেলে সজীব ফরাজী (৩৩)। তারা শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের নাওয়ারা চর শেখপুর এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় তারা দালালদের মাধ্যমে ছেলেদের ইতালিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। দালালরা নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতির সবই ভেঙে ছেলেদের ওপর শুরু হয় নিষ্ঠুর নির্যাতন।
আলমাস খানের বাবা আলাউদ্দিন খান বলেন, “ছেলেকে বাঁচাতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। ওরা ভিডিও পাঠিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের আর কোনো সামর্থ্য নেই।”
সবুজ তফাদারের বাবা চুন্নু দফাদার বলেন, “আমরা ধারদেনা করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম। এখন মুক্তিপণ দেওয়ার মতো আর ক্ষমতা নেই। পাচারকারীরা হুমকি দিচ্ছে, যদি টাকা না দিই তবে ছেলেকে হত্যা করা হবে।”
সজীব ফরাজীর পরিবারের সদস্যরা জানান, আতঙ্কে দিন কাটছে। তারা বারবার সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে এলাকায় দালালচক্র সক্রিয়। তারা যুবকদের পরিবারকে প্রলোভনে ফেলে বিদেশ পাঠানোর আশ্বাস দিচ্ছিলো। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
ঢাকা/বেলাল/এস
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর রক র র পর ব র
এছাড়াও পড়ুন:
বরেন্দ্র জাদুঘর প্রাঙ্গণে নতুন-পুরোনোর মিলনমেলা
প্রত্নবস্তুটির নাম কুষাণ মুদ্রা। এটি একটি স্বর্ণমুদ্রা। বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকে পাওয়া গেছে। পোস্টারে দেওয়া আছে মুদ্রাটির রঙিন ছবি, আয়তন, সংগ্রহ নম্বর, তৈরির উপাদান ও ইতিহাস। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের ভেতর থেকে ২৫টি প্রত্নবস্তুর পোস্টার প্রদর্শনী মেলায় স্থান পেয়েছে।
সেই সঙ্গে হালের কাঁসা-পিতল, মাটি ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র, হাতে তৈরি অলংকার, পুলি পিঠা থেকে শুরু করে রাজশাহী অঞ্চলের নতুন ঐতিহ্য কালাই রুটি মেলার স্টলগুলোতে আছে। শুক্রবার রাজশাহী নগরের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এমনই নতুন-পুরোনো ঐতিহ্যের মিলনমেলা বসেছিল।
জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে যেসব স্থানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঝুঁকির মুখে, সেসব স্থানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে কাজ করে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর কালচারের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক শাহনাজ হুসনে জাহান বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের জন্য একটি প্রকল্প দিতে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ডে আবেদন করেছিলেন। তারপর এখানে অর্থায়ন হয়। সেই অর্থে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাজ্যের দারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবিন কনিংহম। দলে ছিলেন অধ্যাপক এমিলি উইলিয়ামস, মার্ক ম্যানুয়েল, ক্রিস্টফার ডেভিস ও বাংলাদেশের ইউল্যাবের শাহনাজ হুসনে জাহান। দেড় বছরের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে এক দিনের এই ঐতিহ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।
বরেন্দ্র জাদুঘর প্রাঙ্গণে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষকেরাও। সকালে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল। বিকেলে ছিল ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা ও আলকাপ গানের আসর। দুপুরে জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্য উৎসব ঘিরে পুরো জাদুঘরই সাজানো হয়েছে। পথগুলোতে আঁকা হয়েছে আলপনা। এ দিন বিনা মূল্যে জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ ছিল। দর্শনার্থীরা জাদুঘরে ঢুকে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখেন। ঘুরে দেখেন ঐতিহ্য মেলা।
প্রত্নবস্তুর পোস্টার প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবসহ অতিথিরা