চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’। এমন পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থাকলেও একক সিদ্ধান্তে দেশ ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান। 

লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান ওই পোস্টে লেখেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।”

দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাঁদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।” 

সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, “একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।” 

মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার ব্যাকুলতা জানিয়ে তিনি বলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।” 

ঢাকা/ইভা 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র জন য স পর শ সকল র

এছাড়াও পড়ুন:

বরেন্দ্র জাদুঘর প্রাঙ্গণে নতুন-পুরোনোর মিলনমেলা

প্রত্নবস্তুটির নাম কুষাণ মুদ্রা। এটি একটি স্বর্ণমুদ্রা। বগুড়ার মহাস্থানগড় থেকে দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকে পাওয়া গেছে। পোস্টারে দেওয়া আছে মুদ্রাটির রঙিন ছবি, আয়তন, সংগ্রহ নম্বর, তৈরির উপাদান ও ইতিহাস। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের ভেতর থেকে ২৫টি প্রত্নবস্তুর পোস্টার প্রদর্শনী মেলায় স্থান পেয়েছে।

সেই সঙ্গে হালের কাঁসা-পিতল, মাটি ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র, হাতে তৈরি অলংকার, পুলি পিঠা থেকে শুরু করে রাজশাহী অঞ্চলের নতুন ঐতিহ্য কালাই রুটি মেলার স্টলগুলোতে আছে। শুক্রবার রাজশাহী নগরের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এমনই নতুন-পুরোনো ঐতিহ্যের মিলনমেলা বসেছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে যেসব স্থানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঝুঁকির মুখে, সেসব স্থানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে কাজ করে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর কালচারের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক শাহনাজ হুসনে জাহান বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের জন্য একটি প্রকল্প দিতে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ডে আবেদন করেছিলেন। তারপর এখানে অর্থায়ন হয়। সেই অর্থে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাজ্যের দারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবিন কনিংহম। দলে ছিলেন অধ্যাপক এমিলি উইলিয়ামস, মার্ক ম্যানুয়েল, ক্রিস্টফার ডেভিস ও বাংলাদেশের ইউল্যাবের শাহনাজ হুসনে জাহান। দেড় বছরের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে এক দিনের এই ঐতিহ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বরেন্দ্র জাদুঘর প্রাঙ্গণে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষকেরাও। সকালে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল। বিকেলে ছিল ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা ও আলকাপ গানের আসর। দুপুরে জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্য উৎসব ঘিরে পুরো জাদুঘরই সাজানো হয়েছে। পথগুলোতে আঁকা হয়েছে আলপনা। এ দিন বিনা মূল্যে জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ ছিল। দর্শনার্থীরা জাদুঘরে ঢুকে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখেন। ঘুরে দেখেন ঐতিহ্য মেলা।

প্রত্নবস্তুর পোস্টার প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবসহ অতিথিরা

সম্পর্কিত নিবন্ধ