এয়ারবাসের ৬ হাজার বিমান গ্রাউন্ডেড, বিশ্বজুড়ে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা
Published: 29th, November 2025 GMT
সৌর বিকিরণের প্রভাবে বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে এয়ারবাস তাদের কয়েক হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত (গ্রাউডেন্ড) করেছে। এতে করে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। খবর বিবিসির।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের প্রায় ৬ হাজার ‘এ৩২০’ মডেলের বিমান এই সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের মোট বৈশ্বিক বহরের অর্ধেক। এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ বলছে, একটি দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অধিকাংশ বিমানই পুনরায় উড্ডয়ন করতে সক্ষম হবে।
আরো পড়ুন:
চট্টগ্রামে রানওয়েতে শিয়াল, ফ্লাইটে আধঘণ্টা বিলম্ব
বিমান-ট্রাভেল খাতে সুশাসন নিশ্চিতে দুটি সংশোধনী অধ্যাদেশের অনুমোদন
গত অক্টোবরে জেটব্লু এয়ারক্রাফটের মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি বিমান উড়ন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে নিচে নেমে আসে। এরপর তদন্তে ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, সৌর বিকিরণের কারণে এমনটি হয়েছে। সৌর বিকিরণ বিমানের কম্পিউটারের একটি ডাটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এই ডাটা বিমানের উচ্চতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ওই সময় জেটব্লু এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। এরপর শুরু হয় কারণ খোঁজার কাজ।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, অধিক উচ্চতায় সূর্যের তীব্র বিকিরণ বিমানের অনবোর্ড কম্পিউটারের ‘এলিভেশন’ বা উচ্চতা নির্ণয়কারী ডাটা নষ্ট (করাপ্ট) করে দিতে পারে। এয়ারবাস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম। তবে সতর্কতাস্বরূপ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি জরুরি নির্দেশনায় জানিয়েছে, যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের আগে প্রতিটি বিমানে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
এয়ারবাসের জনপ্রিয় ‘এ৩২০’ মডেল ছাড়াও ‘এ৩১৮’, ‘এ৩১৯’ এবং ‘এ৩২১’ মডেলের বিমানেও এই ঝুঁকি রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আক্রান্ত প্রায় ৫,১০০টি বিমানে একটি সাধারণ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যা করতে সাধারণত তিন ঘণ্টা সময় লাগে।
তবে বিপত্তি বেধেছে পুরোনো সংস্করণের বাকি ৯০০টি বিমান নিয়ে। আপডেট নয়, বরং এই বিমানগুলোর অনবোর্ড কম্পিউটার পুরোটা প্রতিস্থাপন করতে হবে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলো যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পাবে না। কম্পিউটার যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে এগুলো ঠিক করতে কত সময় লাগবে।
ঢাকা/ফিরোজ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
চেলসির কাছে পাত্তা পেল না বার্সেলোনা
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ১০ জনের বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রায় ছন্দে ফিরল চেলসি। ম্যাচে সবচেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার এস্টেভাওয়ের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টার গোলটি। যা বহুদিন মনে রাখবে পশ্চিম লন্ডন।
জুল কুন্দের আত্মঘাতী গোলে আগে থেকেই এগিয়ে ছিল এনজো মারেৎস্কার দল। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ক্যাপ্টেন রোনাল্ড আরাউহোকে লাল কার্ডে হারানো বার্সা রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাদুকরি কিছু উপহার দিলেন তরুণ এস্টেভাও।
আরো পড়ুন:
দাপুটে জয়ে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার প্রত্যাবর্তন
‘যেভাবে বার্সেলোনা ছাড়ব ভেবেছিলাম, তা হয়নি’ মেসির হৃদয়ভরা আক্ষেপ
ডানদিক দিয়ে রিস জেমস একটি সূক্ষ্ম ফ্লিক করে বল বাড়ান তার দিকে। সেখান থেকে এস্টেভাও যেন নাচতে নাচতে পেরিয়ে যান পাও কুবারসি ও আলেহান্দ্রো বালদেকে। এরপর তীরের মতো এক শট পাঠান জালে। উঁচু পোস্ট ঘেঁষে ঢুকে যাওয়া সেই দুর্দান্ত ফিনিশে হতবাক ক্যাম্প ন্যুর প্রতিনিধিরা।
প্রথমার্ধেই চেলসি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনার ওপর। আক্রমণ, প্রেসিং, মধ্যমাঠের লড়াই সবকিছুর দখল ছিল তাদের হাতে। পাঁচবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন দলটি ছিল স্পষ্টতই পিছিয়ে; রক্ষণে দুর্বল, আক্রমণে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, আর চেলসির গোল-ক্ষুধার সামনে পুরোপুরি নিরুপায়।
মাঝমাঠে দারুণ লড়াই করলেও প্রায় সব বলেই দখল নেন ব্লুজদের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ শেষে কোচ মারেৎসকা বলতেই পারতেন- চেলসির দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসে এর চেয়ে ভালো ৯০ মিনিট তিনি দেখেননি।
শেষ দিকে মাঠে নেমে লিয়াম ডিল্যাপ করেন দলের তৃতীয় গোল। ক্লাব বিশ্বকাপের পর তার প্রথম গোল। এই জয় চেলসিকে সরাসরি নকআউটে যাওয়ার শক্ত ভিত গড়ে দিল। শুধু তাই নয়, মনে হলো- পুরনো সেই ইউরোপ-জয়ী চেলসি হয়তো ফিরছে।
ম্যাচের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজ বল জালে পাঠালেও, ওয়েসলি ফোফানার হাতছোঁয়ার কারণে গোল বাতিল হয়। এরপর সুযোগ পেয়ে ফাঁকা পোস্টে শট নষ্ট করেন ফেরান তোরেস। এস্টেভাওয়ের ফ্রি-কিক থেকে আবারও অফসাইডে হারিয়ে যায় এনজোর আরেকটি গোল।
তবে গোল পেতে এরপর আর দেরি হয়নি। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে কুকুরেয়ারার দারুণ দৌড় ও কাটব্যাকে পেদ্রো নেতোর শট লাইনে ক্লিয়ার করেন তোরেস। কিন্তু বল ফিরে লেগে যায় কুন্দের গায়ে আর ঘুরে ঢুকে পড়ে বার্সার জালে।
এরপর বার্সা আরও বিপদে পড়ে ক্যাপ্টেন আরাউহোর বেপরোয়া ট্যাকলিংয়ে। মাত্র ১২ মিনিটের ব্যবধানে তিনি দ্বিতীয় হলুদ দেখে মাঠ ছাড়েন। তাতে চেলসি পায় সংখ্যাগত সুবিধা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অফসাইডে বাতিল হয় আন্দ্রে সান্তোসের গোল। কিন্তু খুশি হওয়ার মতো মুহূর্ত বেশিক্ষণ অপেক্ষা করল না। এরপরই এলো এস্টেভাওয়ের সেই বিস্ময়কর গোল।
সবশেষে বদলি হিসেবে নামা ডিল্যাপ এনজো ফার্নান্দেজের পাস থেকে অনায়াসে দলকে তৃতীয় গোল এনে দেন আর নিশ্চিত করেন দাপুটে জয়।
এই জয়ে ৫ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে চেলসি। অন্যদিকে সমান ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা আছে ১৫তম অবস্থানে।
ঢাকা/আমিনুল