জেনে অথবা না জেনে সন্তানের প্রতি ‘গিল্ট-ট্রিপিং প্যারেন্টিং’ করছেন না তো? এ হলো প্যারেন্টিংয়ের এমন একটি ধরণ-যার মাধ্যমে বাবা মায়েরা তার সন্তানের অপরাধবোধ তুমুলভাবে জাগিয়ে তোলে। সন্তানকে ধারাবাহিকভাবে দোষারোপ করাও এই প্যারেন্টিংয়ের মধ্যেই পড়ে। যেমন—সন্তানকে এসব বলা যে, ‘তোমার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমার ক্যারিয়ার হলো না’,  ‘তোমাকে খাওয়াতে গিয়ে আমি নিজে খাওয়ার সময় পায়নি’, ‘তোর স্বাদ-আহ্লাদ পূরণ করতে করতে আমি আমার স্বাদ-আহ্লাদ ভুলে গিয়েছি’ ইত্যাদি।

সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড.

জন গটম্যান  এর মতে, ‘‘শিশুদের মধ্যে অপরাধবোধ জাগিয়ে তাদের বাধ্য করার চেষ্টা সাময়িক ফল দিলেও, এটি সন্তান এবং পিতামাতার মধ্যে গভীর আস্থার সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। শিশুরা বাধ্য হয় বটে, কিন্তু বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা বা শ্রদ্ধার কারণে নয়, বরং শাস্তি বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে।’’

আরো পড়ুন:

কালো গোলাপ প্রেম নাকি মৃত্যুর প্রতীক?

আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের বিখ্যাত দশটি উক্তি

গিল্ট-ট্রিপিং প্যারেন্টিং সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে সন্তানরা অতিরিক্ত উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং কম আত্মসম্মানবোধে ভুগতে শুরু করতে পারে। তারা বড় হয়ে অন্যের দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। 

গিল্ট-ট্রিপিং প্যারেন্টিং-এর বদলে সন্তানের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর প্যারেন্টিং। সন্তানের কাছ থেকে ভালো আউটপুট পেতে হলে সন্তানকে সামান্য কিছুতেই দোষ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। 

সাধারণ হতাশায় ভুগতে থাকা বাবা-মায়েরা সন্তানের প্রতি গিল্ড প্যারেন্টিং করে থাকেন। তারা ভাবেন এতে সন্তান সতর্ক হয়, বাধ্য হয়। অথচ অপরাধবোধে ভোগা সন্তানেরা দীর্ঘমেয়াদী ডিপ্রেশনে পড়ে যায়। অনেকেই জীবনের ন্যাচারাল রিদম হারিয়ে ফেলে দিনকে দিন নিজের পড়ালেখা, খেলাধুলা কিংবা দায়িত্বের প্রতি অমনোযোগী হয়ে ওঠে এবং ব্যাকফুটে চলে যায়। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী সন্তানেরা গিল্ড প্যারেন্টিংয়ের শিকার হলে অপরাধবোধ থেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে পারে।  

সন্তানের বেস্ট ভার্সন দেখতে চাইলে তাকে ভালোবাসা, উষ্ণতা, এবং আদর দিয়ে বোঝাতে হবে যে সে গুরুত্বপূর্ণ। ধৈর্য ধরে সন্তানের কথা শোনা এবং তাদের অনুভূতিকে সম্মান করা জরুরি। শাসন বা বকাঝকার পরিবর্তে ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ করে নিতে পারেন।  

ঢাকা/লিপি

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর সন ত ন র

এছাড়াও পড়ুন:

বুঝেশুনে খেতে হবে আলু 

চাল, ভুট্টা ও গমের পরেই বিভিন্ন দেশের প্রধান খাদ্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে আলু। বাংলাদেশেও প্রতিদিনের খাবারের একটা বড় অংশজুড়ে থাকে আলু। আলু এ দেশে খুবই জনপ্রিয়।

পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

১০০ গ্রাম আলুতে ক্যালরি থাকে ৮০ গ্রাম। এর মধ্যে শর্করা ১৮ গ্রাম, প্রোটিন ২ গ্রাম, ফাইবার ২ গ্রাম, ফ্যাট ০.১ গ্রাম। রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ফোলেট পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া আছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ক্যারোটিনয়েড ও ফ্ল্যাভোনয়েড।

শর্করা বেশি, তাই দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। আলুতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। অ্যাথলেট ও বডিবিল্ডারদের জন্য আলু দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। আলুর পটাশিয়াম হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী।

কতটুকু আলু খাবেন

আলু উচ্চ শর্করাযুক্ত বলে রক্তের সুগার ও ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাদা সেদ্ধ আলুর গ্লাইসিমিক ইনডেক্স প্রায় ৮৫ এবং গ্লাইসিমিক লোডও অনেক বেশি। তবে লাল আলুর গ্লাইসিমিক ইনডেক্স কিছুটা কম, ৭৫–এর কাছাকাছি। তবে আলু লো-গ্লাইসিমিক ইনডেক্স সবজির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করলে এর গ্লাইসিমিক ইনডেক্স কিছুটা কমে।

ডায়াবেটিস রোগীদের আলু পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। দিনে বড় জোর ৯০ গ্রাম আলু খেতে পারবেন। এর বেশি যদি খেতে চান তাহলে সমপরিমাণ ভাত কম খেতে হবে। অর্থাৎ অন্য শর্করা কম খেতে হবে। আর যাঁরা ওজন কমাতে চান তাঁরাও পরিমিত আলু খাবেন।

আলু কীভাবে খাবেন

আলু সব সময় অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করা উচিত। রুটি দিয়ে আলুভাজি, ভাতের সঙ্গে আলুভর্তা মানে এক শর্করার সঙ্গে আরেকটি শর্করা না খাওয়া উচিত। আলু ভালো করে ধুয়ে খোসাসহ রান্না করে খেলে ফাইবার বেশি পাওয়া যায়। সাদা আলু না খেয়ে লাল আলু খাওয়া ভালো। মিষ্টি আলুতে ফাইবার বেশি থাকে। নতুন আলুতে পুরোনো আলু অপেক্ষা শর্করা কম থাকে। আলু ভাজি বা চিপস করে খাওয়া যাবে না।

কোনো বেলায় যথেষ্ট আলু খেলে সেটাকেই শর্করার উৎস হিসেবে ধরতে হবে, অন্য শর্করা বাদ দিতে হবে। পটাশিয়াম বেশি থাকে, তাই কিডনির রোগীরা আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। আলুকে উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা বা বেক করা হলে খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামের যৌগ তৈরি হয়। এতে পরিপাকতন্ত্র ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। অঙ্কুরিত ও সবুজ আলুতে ‘গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড’ নামের বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা রান্না করেও সম্পূর্ণ দূর হয় না। এটি খেলে বমি, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা ও পেটে ব্যথা হতে পারে।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

সম্পর্কিত নিবন্ধ