যশোর আইনজীবী সমিতি: বিএনপিপন্থীদের জয়, সভাপতি সাবেরুল ও সম্পাদক গফুর
Published: 29th, November 2025 GMT
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম একচেটিয়া জয় পেয়েছে। তারা ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১১টি পদ পেয়েছে। দুটি পদে জিতেছেন জামায়াত–সমর্থিত ল ইয়ার্স কাউন্সিলের প্রার্থীরা। ভোট গণনা শেষে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহসীন আলী।
আগামী এক বছরের জন্য জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক হলেন এম এ গফুর। বিএনপি–সমর্থিত ফোরাম থেকে অন্য বিজয়ীরা হলেন সহসভাপতির দুই পদে গোলাম মোস্তফা ও বাসুদেব বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক নূর আলম, সহকারী সম্পাদক সেলিম রেজা ও আশরাফুল আলম, গ্রন্থাগার সম্পাদক কামরুল হাসান, কার্যকরী সদস্যের পাঁচটি পদের তিনটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াত–সমর্থিতরা জয়লাভ করেন। বিএনপি–সমর্থিত রেহেনা খাতুন, মঞ্জুরুল মাহমুদ ও মৌলুদা পারভীন। এ ছাড়া সদস্যপদে জামায়াত–সমর্থিত শফিকুল ইসলাম ও আজহারুল ইসলাম জয়লাভ করেন।
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ প্যানেল দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এবার তারা কোনো প্যানেল দেয়নি। এমনকি আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কোনো ভোটার নির্বাচনী মাঠে সরবও হননি। তাঁরা অনেকটা নীরবে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে বাম গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের দুজন প্রার্থীকে যুক্ত করে পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। বিএনপি–সমর্থিত প্যানেল যখন বামপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে শক্তিশালী ফোরাম গড়ে তোলে, তখন বসে থাকেনি জামায়াত–সমর্থিত প্যানেলও। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি আবু মোর্তজাকে (ছোট) সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী করে গঠন করে লতিফ-ছোট ঐক্য পরিষদ।
এবারের নির্বাচনে ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি–সমর্থিত সাবু-গফুর ঐক্য প্যানেলের ১৩ প্রার্থী, জামায়াত–সমর্থিত লতিফ-ছোট ঐক্য পরিষদের ৭ প্রার্থী ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাজী রেফাত রেজওয়ান।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: জ ম য় ত সমর থ ত আইনজ ব ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি লেভিটের ভাইয়ের সাবেক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে আইস
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত এক নারীকে চলতি মাসের শুরুতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত) হেফাজতে রয়েছেন।
ব্রাজিলের নাগরিক ব্রুনা ক্যারোলিন ফেরেইরা হচ্ছেন ক্যারোলিন লেভিটের ভাই মাইকেল লেভিটের সাবেক স্ত্রী। তাঁদের একটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে ফেরেইরা ও মাইকেল লেভিট আলাদা রাজ্যে বসবাস করেন। ওই নারীকে ১২ নভেম্বর ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বোস্টনের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী টড পোমারলিউ জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ফেরেইরার ১১ বছর বয়সী ছেলে জন্ম থেকেই তার বাবা মাইকেল লেভিটের (ক্যারোলিন লেভিটের ভাই) সঙ্গে নিউ হ্যাম্পশায়ারে থাকে। সূত্র আরও জানায়, ফেরেইরা ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির মধ্যে বহু বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ফেরেইরার ১৯৯৯ সালের জুনে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভ্রমণ ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান। মুখপাত্র বলেন, ফেরেইরা ‘মারধরের এক ঘটনায় আগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছেন’। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।
তবে ফেরেইরার আইনজীবী পোমারলিউ বলেন, তিনি একসময় ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালসের (ডিএসিএ) সুবিধাভোগী ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে নির্বাসন থেকে সুরক্ষা দেয়।
পোমারলিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করেন। ওই সময় ফেরেইরা তাঁর ডিএসিএ স্ট্যাটাস নবায়ন করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য ‘আইনগত অভিবাসনপ্রক্রিয়া’র মধ্যে রয়েছেন।
পোমারলিউ সিএনএনকে বলেন, নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে তাঁর ছেলেকে আনতে যাওয়ার সময় ফেরেইরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেরেইরা ও মাইকেল লেভিটের একসময় বাগদান হয়েছিল। তাঁদের ১১ বছর বয়সী সন্তান তাঁদের দুজনের কাছেই থাকে।
সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমইউআরকে মাইকেল লেভিট বলেন, ফেরেইরা তাঁদের ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর থেকে ছেলেটি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। তিনি পরিস্থিতিটিকে কঠিন বলে বর্ণনা করে বলেন, তিনি কেবল তাঁর ছেলের জন্য সেরা বিকল্পটাই চান।
ফেরেইরার আইনজীবী জানান, গোফান্ডমি (GoFundMe) পেজের মাধ্যমে ফেরেইরার বোন গ্রাজিয়েলা ডস স্যান্তোস রদ্রিগেস আইনি ফি ও অন্যান্য খরচের তহবিল সংগ্রহ করছেন। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ফেরেইরার বোন গোফান্ডমি ক্যাম্পেইনে লিখেছেন, ‘ব্রুনা ফেরেইরা ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে যখন শিশু ছিল, তখন আমাদের মা–বাবা আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছিলেন। তার পর থেকে তিনি এখানে স্থিতিশীল, সৎ জীবন গড়তে তার সাধ্যের সবকিছু করেছেন।’
স্যান্তোস রদ্রিগেস আরও উল্লেখ করেন, ফেরেইরা ডিএসিএর মাধ্যমে তাঁর আইনি স্ট্যাটাস বজায় রেখেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ডিএসিএ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, তাঁর প্রশাসন এটি করতে সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বর্তমান প্রশাসনে ব্যাপকভাবে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরুর পর ডিএসিএ সুবিধাভোগী অনেকেও গ্রেপ্তার হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ওবামা-যুগের কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীরা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাসন থেকে সুরক্ষিত নন’। তিনি যোগ করেন, ডিএসিএ এ দেশে কোনো ধরনের আইনি মর্যাদা দেয় না।