চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা থেকে ২২ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনী, আনসার ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। এর মধ্যে ছদাহা ইউনিয়ন থেকে ১০ জন এবং কেওচিয়া ইউনিয়নের নয়া খালের মুখ এলাকা থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, স্থানীয় ইটভাটা ও খেতে এসব রোহিঙ্গা নাগরিক শ্রমিকের কাজ করে আসছেন। তাঁরা শ্রমিক পরিচয়ে বাসা ভাড়াও নিয়েছেন সাতকানিয়ায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের শনাক্ত করে বাসা থেকেই আটক করা হয়। এর আগে ১৫ নভেম্বর সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকার একটি ইটভাটা থেকে ৮ রোহিঙ্গা শ্রমিককে আটক করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধভাবে বসতি গড়া রোহিঙ্গাদের অনতিবিলম্বে ক্যাম্পে ফেরত যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের এই যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নানা সময় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: উপজ ল

এছাড়াও পড়ুন:

‘অসুস্থ হয়ে মারা গেলে মনকে বোঝাতে পারতাম, থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়’

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়েছেন গৃহিণী নাহিদা সুলতানা। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবেন, সেই হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছেন না। গত বৃহস্পতিবার রাতে চা বিক্রি করে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তাঁর স্বামী মো. ইসমাইল। চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে ২০০ গজ দূরে জেলা পরিষদের সামনের সড়কে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় ইসমাইলকে।

ইসমাইলের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি পেশায় ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোতোয়ালি থানার কাছে ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন ইসমাইল। নিহত ইসমাইলের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মো. তায়িফের বয়স ৯ বছর, মেয়ে তায়িফার বয়স তিন বছর।

অসুস্থ হয়ে মারা গেলে মনকে বোঝাতে পারতাম, থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়। লাশ দেখে দুই সন্তান বারবার প্রশ্ন করছে, তাদের বাবা কথা বলছেন না কেন। কিন্তু তাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারছি না।নাহিদা সুলতানা, নিহত ইসমাইলের স্ত্রী

জেলা পরিষদের সামনে নগর পুলিশের নির্মাণাধীন সদর দপ্তর। পাশে চট্টগ্রাম আদালত ভবন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এমন স্থানে ছিনতাইকারী হাতে স্বামীর মৃত্যু কোনোভাবেই যেন মানতে পারছেন না নাহিদা সুলতানা। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্বামীর আয় দিয়ে বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সংসার চলত। প্রতিদিন রাতে চা বিক্রি করে সকালে বাসায় ফিরতেন স্বামী। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বের হয়ে আর ফিরতে পারেননি।

নাহিদা সুলতানা বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে মারা গেলে মনকে বোঝাতে পারতাম, থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়। লাশ দেখে দুই সন্তান বারবার প্রশ্ন করছে, তাদের বাবা কথা বলছেন না কেন। কিন্তু তাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারছি না।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ইসমাইল লালদীঘির পাড়, পুরোনো গির্জাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করতেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে সাইকেল চালিয়ে লালদীঘির পাড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ইসমাইল। জেলা পরিষদ ভবনের বিপরীতে কোতোয়ালিমুখী সড়কে তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ইসমাইল। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

নিহত ইসমাইলের ছোট ভাই মো. সুজন প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের পরিবার কীভাবে চলবে জানি না। কে এ ঘটনার দায় নেবে? আমি জড়িত ছিনতাইকারীদের শাস্তি চাই।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ