মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দিয়েছে, ‘জননিরাপত্তা’ রক্ষার স্বার্থে আফগান পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ইস্যু ‘অবিলম্বে’ স্থগিত করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর ভয়াবহ হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতি আরও কঠোর করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য সব আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার এই ঘোষণা এল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, পররাষ্ট্র দপ্তর ‘আফগান পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণকারী সব ব্যক্তির জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করছে।’

গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালের নাম প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওই হামলায় ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত অন্য সদস্যের অবস্থাও গুরুতর।

রুবিও বলেন, ‘আমাদের জাতি ও জনগণের সুরক্ষার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় কোনো অগ্রাধিকার নেই।’

অভিযোগ রয়েছে, হোয়াইট হাউসের কাছে টহল দেওয়ার সময় লাকানওয়াল পশ্চিম ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য সারাহ বেকস্ট্রম এবং অ্যান্ড্রু উলফের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এই সপ্তাহে সিআইএ নিশ্চিত করেছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা বাহিনী প্রত্যাহারের পরপরই লাকানওয়াল যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আফগানিস্তানে সিআইএর হয়ে কাজ করেছিলেন।

ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় শুক্রবার জানিয়েছে, লাকানওয়ালের বিরুদ্ধে হত্যা ও সশস্ত্র অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে দুটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার আরেক ঘোষণায় মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো বলেছেন, ‘মার্কিন জনগণের নিরাপত্তার’ স্বার্থে সংস্থাটি সব আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তও স্থগিত করেছে।

এর এক দিন আগে এডলো বলেছিলেন, ট্রাম্পের নির্দেশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্বেগের তালিকায় থাকা দেশ’ থেকে আসা প্রতিটি বিদেশি নাগরিকের গ্রিনকার্ড আবার পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ১৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড আবেদন আবার যাচাই–বাছাই করার নির্দেশ দেন। পরে বলেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থগিত করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

ট্রাম্প অবশ্য ‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটির সংজ্ঞা দেননি। তবে শব্দটি প্রায়শই গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত অর্থ সম্পদ নন বা আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম, এমন যেকোনো ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘(আমি) দেশের শান্তি ক্ষুণ্ণকারী অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করব এবং সরকারি সাহায্যের বোঝা, নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ যেকোনো বিদেশি নাগরিককে বের করে দেব।’

গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প অভিবাসন সীমিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত অক্টোবরে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ২০২৬ সালে মাত্র ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণ করবে, যা ১৯৮০ সালের পর সর্বনিম্ন।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র শ ক রব র ল ক নওয র র পর র জন য সদস য আফগ ন

এছাড়াও পড়ুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ সাতজনের নামে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনকে (৩৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নিহত সাদ্দাম হোসেনের বাবা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তু মিয়া বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলীপসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন (৪৯) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির বাসিন্দা। অন্য আসামিরা হলেন তাঁর সহযোগী একই গ্রামের বাবুল মিয়া (২৮) ও তাঁর ভাই শাকিল মিয়া (৩৫), পলাশ মিয়া (৩৫), টিটন মিয়া (৩৪), বাপ্পা মিয়া (২৬) ও দেলোয়ার হোসেনের ভাই কাজল মিয়া (৪৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নিহত সাদ্দামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর স্বজনেরা লাশ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে তাঁরা লাশ নিয়ে সদর থানায় যান। থানা চত্বরে লাশ রেখে মামলা নেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেন। রাত সোয়া আটটার দিকে স্বজনেরা মামলার লিখিত এজাহার নিয়ে থানায় পৌঁছান। দ্রুত এজাহার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আশ্বাস দিলে রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা সাদ্দামের লাশ নিয়ে থানা চত্বর ত্যাগ করেন। তবে ১৫ মিনিট পর তাঁরা আবার লাশ থানা চত্বরে এনে অবস্থান শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলা নেওয়ার পর অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন স্বজনেরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ওই নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে হত্যা করেছেন। নিহত সাদ্দাম হোসেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। তিনি শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির মোস্তফা কামালের ছেলে। তাঁর স্ত্রী ও দুটি মেয়ে আছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের নামে অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেলোয়ার ও একই এলাকার বাসিন্দা সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে ঝগড়া ও গোলাগুলি হয়। এতে দেলোয়ার আরও ক্ষিপ্ত হন। দেলোয়ার ও তাঁর সহযোগীরা সন্দেহ করেন, শাকিলের পক্ষের সঙ্গে সাদ্দামের যোগাযোগ আছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে সাদ্দামকে  ডেকে নিয়ে যান দেলোয়ার ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁরা সাদ্দামকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করেন। পরে কান্দিপাড়ার শংকর সাহার বাড়ির পূর্বপাশের রাস্তা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুনব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে২৮ নভেম্বর ২০২৫

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কান্দিপাড়ার মাদ্রাসা রোডে পপুলার প্রেসের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে শাকিল সিকদারকে বন্দুক হাতে গুলি করতে দেখা যায়। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত সাদ্দামের বাবা দেলোয়ার হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলার কপি পাওয়ার পর তাঁরা লাশ নিয়ে থানা চত্বর ত্যাগ করেন। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্র উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

আরও পড়ুনমামলা নেওয়ার দাবিতে লাশ নিয়ে থানায় স্বজনদের অবস্থান১৪ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ