কিয়েভের আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলা
Published: 29th, November 2025 GMT
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। খবর বিবিসির।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, রাশিয়ার ড্রোন রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে। শহরজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
আরো পড়ুন:
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই: ট্রাম্প
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি চলে এসেছি’: ট্রাম্প
তিনি জানান, হামলায় আহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, এই সপ্তাহের শুরুতে কিয়েভে একই ধরনের হামলায় সাতজন নিহত হয়। ইউক্রেনীয় আলোচকরা এই সপ্তাহান্তে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশোধিত মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সর্বশেষ বোমা হামলাটি ঘটেছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টাইমুর তাকাচেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবারের হামলা রাজধানীর উপকণ্ঠে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হেনেছে।
তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘শত্রুর ড্রোন শহরের উপর দিয়ে রয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।বর্তমানে কিয়েভে মোট একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে, যার মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে।’
তাকাচেঙ্কো জানান, শহরের পশ্চিমে সভিয়াতোশিনস্কি জেলায় উদ্ধারকারীরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
কিয়েভের পূর্বে ব্রোভারি শহরে আহতদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর অভিযোগ করেছেন যে, আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর মারাত্মক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন ধরে যায় ও সাতজন নিহত হয়, অন্যদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শনিবারের হামলাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি খসড়া শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য উভয় পক্ষকে চাপ দেওয়ার মধ্যেই ঘটল। খসড়া পরিকল্পনাটি প্রাথমিকভাবে মস্কোর অনুকূলে ছিল। পরবর্তীতে জেনেভায় ইউক্রেনীয় ও মার্কিন আলোচকদের মধ্যে আলোচনার সময় এটি সংশোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের অবসানের জন্য তার মূল দাবিতে দ্বিগুণ জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া কেবল তখনই আক্রমণ বন্ধ করবে যদি ইউক্রেনের সৈন্যরা মস্কোর দাবিকৃত অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
পুতিন জানান, মার্কিন খসড়া শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আগামী সপ্তাহের প্রথমার্ধে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সহ একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কোতে আসবেন।
ঢাকা/ফিরোজ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র শ য় ইউক র ন য দ ধ ইউক র ন ইউক র ন র ইউক র ন য স তজন
এছাড়াও পড়ুন:
স্বল্প আয়: কমছে নৈশপ্রহরীর পেশায় আগ্রহ, সংকটে নিরাপত্তা
শহুরে সভ্যতা যত আধুনিক হচ্ছে, নিরাপত্তার চাহিদা ততই বাড়ছে। শহরের জনজীবনের নিরাপত্তা এক মৌলিক স্তম্ভ হলো নৈশপ্রহরী বা নাইট গার্ড। অথচ এই পেশা ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নগরজীবনের মূল কাঠামো থেকে। এর মূল কারণ হলো স্বল্প মজুরি। কম বেতন, অনিরাপদ কর্মঘণ্টা এবং সামগ্রিক অবহেলার কারণে নৈশপ্রহরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মীর সংখ্যা দ্রুত কমছে।
অথচ এ পেশাই ছিল শহরের রাতের নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। নৈশপ্রহরী রাতের বেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে কোনো এলাকায়, ভবনে, পাড়ায় বা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। যখন পুরো শহর ঘুমিয়ে থাকে, তখন শুরু হয় তাঁর দায়িত্ব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নৈশপ্রহরীর কাজ হলো এলাকা বা ভবন টহল দেওয়া, শহরে বা এলাকায় চুরি, ডাকাতি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা। এককথায়, তাঁদের রাতে শহরের যেকোনো ঝুঁকির প্রথম প্রতিরক্ষা সারি বলা যায়।
শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক, নৈশপ্রহরীর অবদানের বিকল্প নেই। একটি ক্যামেরা ছবি তুলতে পারে কিন্তু আশঙ্কাজনক শব্দ শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না।
শহরের জনজীবনের এক স্বস্তির নিশ্বাস হলেন নৈশপ্রহরীরা। রাতের শান্তি বজায় রাখার মাধ্যমে নাগরিকের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন হাজারো নির্ঘুম প্রহরী।
গবেষণা বলছে, দৃশ্যমান নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করে। শহরে রাতের বেলা চুরি ও ডাকাতি কমাতে নৈশপ্রহরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দ্রুত বাড়তে থাকা জনঘনত্বপূর্ণ এলাকা, বহুতল ভবন, গাড়ির সংখ্যা—এই সবকিছু মিলিয়ে রাতের শহরটি ঝুঁকিপূর্ণ। নৈশপ্রহরী সেখানে মানবিক নজরদারির অপরিহার্য এক উপাদান।
তাহলে কেন এই গুরুত্বপূর্ণ পেশা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন মানুষ? ঢাকায় কোনো পরিবারের একজন উপার্জনকারীকে ২০-২৫ হাজার টাকার প্রাথমিক ব্যয় ধরতেই হয়। তা–ও কেবলই টিকে থাকতে, কোনো আরাম–আয়েশ ছাড়া। এদিকে নৈশপ্রহরীদের মাসিক বেতন অনেক এলাকায় মাত্র ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। যা জীবনযাত্রার মৌলিক ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পাশাপাশি এই পেশার নেই কোনো সামাজিক স্বীকৃতি। নৈশপ্রহরীর কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজে তাঁদের জন্য থাকে না সম্মান, না প্রশংসা। অনেক সময় তাঁদের কাজকে তুচ্ছ হিসেবে দেখা হয়, ফলে আত্মমর্যাদাবোধ কমে যায়। এসব কারণেই দিন দিন নৈশপ্রহরীর পেশায় অনীহা দেখা দিচ্ছে।
তাহলে এর সমাধান কোথায়? নৈশপ্রহরী পেশাকে টেকসই ও সম্মানজনক করতে কী করা দরকার?
প্রথমত, ন্যায্য ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বেতন নির্ধারণ করা। শিগগিরই সরকার, সিটি করপোরেশন ও হাউজিং কমিটিগুলোকে যৌথভাবে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করতে হবে। ১৮-২০ হাজার টাকা না হলে একজন প্রহরী জীবন চালাতে পারেন না। বেতনকাঠামো অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রহরীদের জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া সরকারিভাবে। তৃতীয়ত, আট ঘণ্টার কর্মঘণ্টা নিশ্চিতকরণ। এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রহরীকে কেয়ারটেকার বা কমিউনিটি সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে পরিচিত করা যেতে পারে। এতে সামাজিক মর্যাদার ফলে এ পেশায় কাজের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
পরিশেষে, রাতের অন্ধকারে শহরকে নিরাপদ রাখেন যেসব নৈশপ্রহরী, তাঁদের পেশাকে অবহেলার কারণে আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি আমাদের সামাজিক জীবনের নিরাপত্তা। যাঁরা রাতের বেলা জীবনের অনিশ্চয়তাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আমাদের ঘুম নিঃশব্দে রক্ষা করেন, তাঁদের যথার্থ সম্মান ও সঠিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।
মায়িশা ফাহমিদা ইসলাম শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়