পূর্বসূরি জো বাইডেনের জারি করা নির্বাহী আদেশের যেগুলো অটোপেন দিয়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে, তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এ কথা লেখেন। তাঁর ধারণা, বাইডেনের বেশির ভাগ আদেশই অটোপেনে স্বাক্ষর করা। অটোপেন হলো এমন এক ধরনের যন্ত্র যা কারও স্বাক্ষর হুবহু অনুকরণ করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ঘুমকাতুরে জো বাইডেন অটোপেন ব্যবহার করে যেসব নথিতে স্বাক্ষর করেছেন, তা এ মর্মে বাতিল করা হলো। এগুলোর আর কোনো প্রয়োগ বা কার্যকারিতা থাকবে না। বাইডেনের স্বাক্ষর করা মোট নথির আনুমানিক ৯২ শতাংশই এমন।’

গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়েন জো বাইডেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৮২ বছর। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বয়স বেশি এবং মানসিক অবস্থা ঠিকঠাক না থাকায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নির্বাহী দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ বাইডেনের হাতে ছিল না।

৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প গতকাল দেওয়া পোস্টে একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ডেমোক্র্যাট দলীয় বাইডেন এ কথা অস্বীকার করলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়েন জো বাইডেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৮২ বছর। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে বয়স বেশি এবং মানসিক অবস্থা ঠিকঠাক না থাকায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নির্বাহী দপ্তরের নিয়ন্ত্রণটা বাইডেনের হাতে ছিল না।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এ মর্মে ঘোষণা দিচ্ছি যে “বদমাশ” জো বাইডেন নিজ হাতে সরাসরি স্বাক্ষর করেননি এমন সব নির্বাহী আদেশ ও অন্য সব নথিপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। কারণ, অটোপেন পরিচালনাকারীরা এগুলো বেআইনিভাবে চালিয়েছেন।’

আমি পরিষ্কার করে বলছি, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আমার সিদ্ধান্তগুলো আমিই নিয়েছি। ক্ষমা, নির্বাহী আদেশ, আইনপ্রণয়ন ও ঘোষণাসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমারই ছিল। কেউ যদি বলে আমি এগুলো করিনি, তা হাস্যকর ও মিথ্যা। —জো বাইডেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘জো বাইডেন অটোপেন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন না। যদি বলেন ছিলেন, তবে তাঁকে শপথভঙ্গ করে মিথ্যা কথা বলার অভিযোগ মোকাবিলা করতে হবে।’

দীর্ঘদিনের সমালোচনা

হোয়াইট হাউসে বহু বছর ধরে অটোপেন এবং এ ধরনের স্বাক্ষর যন্ত্রগুলোর ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি ১৯ শতকের শুরুতে তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের সময় অটোপেনের ব্যবহার দেখা গেছে। ট্রাম্প নিজেও বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদে এ যন্ত্র ব্যবহার করেছেন।

ট্রাম্প বাইডেনকে নিয়ে আরও কিছু বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, যেমন হোয়াইট হাউসের কর্মীরা ডেমোক্র্যাট নেতার বয়সজনিত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নীতিমালাবিষয়ক নথিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর করেছেন।

তবে ডেমোক্রেটিক পূর্বসূরিদের সঙ্গে বিশেষ করে বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কটা বৈরিতাপূর্ণ।

ট্রাম্প বিভিন্ন সময় বাইডেনকে তাঁর বয়স নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। বাইডেন দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর অটোপেন ব্যবহার নিয়েও ট্রল করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের কাছে ‘প্রেসিডেনশিয়াল ওয়াক অব ফেম’ স্থাপন করার সময় তিনি বাইডেনের প্রতিকৃতি সরিয়ে সে জায়গায় অটোপেনের ছবি রাখেন।

সম্প্রতি ছবিটি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দেখিয়েছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুনট্রাম্পের নিজের বয়স ৭৮, তিনিই বাইডেনকে বলেন ‘বুড়ো’১৪ জুন ২০২৪

বাইডেন ও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একে অপরের সঙ্গে দুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের কাছে ট্রাম্প হেরে যান। আর ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও একপর্যায়ে বাইডেন প্রতিযোগিতা থেকে সরে যান। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ওই নির্বাচনে জয়ী হন।

ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করতে রাজি হননি। তিনি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির মিথ্যা দাবিও তুলেছিলেন।

ট্রাম্প বাইডেনকে নিয়ে আরও কিছু বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, যেমন হোয়াইট হাউসের কর্মীরা ডেমোক্র্যাট নেতার বেশি বয়সজনিত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নীতিমালাবিষয়ক নথিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর করেছেন।

তবে বাইডেনের অনুমতি ছাড়া অটোপেন ব্যবহার করার কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। বাইডেন নিজেই গত জুন মাসে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আমার সিদ্ধান্তগুলো আমিই নিয়েছি। ক্ষমা, নির্বাহী আদেশ, আইনপ্রণয়ন ও ঘোষণাসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমারই ছিল। কেউ যদি বলে আমি এগুলো করিনি, তা হাস্যকর ও মিথ্যা।’

তবে এরপরও গতকাল বাইডেনের বিরুদ্ধে নতুন করে একই অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র কর ছ ন ব যবহ র ক র কর র বয়স

এছাড়াও পড়ুন:

২০ লাখেরও বেশি করদাতার ই-রিটার্ন দাখিল

চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরের করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন:

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ছে

সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দিল এনবিআর

চলতি বছরের ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। করদাতারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজে অনলাইনে রিটার্ন পূরণ করে নিমিষেই অনলাইনে দাখিল করতে পারছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানায়, এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকগণ ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। 

২০২৫-২৬ কর বছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাগণকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা হতে অব্যাহতি দেয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। 

ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে ১৫ ডিসেম্বর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত, যুগ্মকর কমিশনারের অনুমতিতে করদাতা পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।  
 
এবছর করদাতার পক্ষে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তার পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণ করে আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং  Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
 
কোনো ধরনের কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে  ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের একনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন। 

ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের মতো এবারও করদাতাদেরকে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতারা ছাড়াও এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যন্টস, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যন্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিজগণকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

সকল ব্যক্তি করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের করতে অনুরোধ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

ঢাকা/নাজমুল/ফিরোজ

সম্পর্কিত নিবন্ধ