ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার বাস ধরতে কার্জন হলের দিকে যাচ্ছিলেন হামিদা আক্তার। হঠাৎ চোখে পড়ে জিমনেসিয়াম মাঠে মানুষের ভিড়। অনেক দৌড়াচ্ছেন দেখে এগিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন, আন্তহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে।

পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ের চক্কর দিচ্ছেন ছাত্ররা। কথায় কথায় জানতে পারলেন, মেয়েদের হলেও খেলা হয়, তবে তাঁদের জন্য এত লম্বা দৌড় হয় না—সর্বোচ্চ ৪০০ মিটার! তিনি ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিতে চান শুনে একজন বলে ওঠেন, ‘তুমি এত দূর দৌড়াতে পারবা না!’ আরেকজন বললেন, ‘মেয়েরা আবার ম্যারাথন করবে কী? মাথা ঘুরে পড়ে যাবে না?’

সেই কথাকেই যেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন জেবা। ঢাকাতেই জেবার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ার সময় বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হ্যান্ডবল দলে ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএসের (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম) তৃতীয় বর্ষে উঠে যেদিন জিমনেসিয়ামের মাঠে দৌড় দেখে জানলেন, আন্তহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কথা, সেদিনই বাড়ি ফিরে আগে হলে খোঁজ নিলেন। তত দিনে সুফিয়া কামাল হলে সেই বছরের খেলা হয়ে গেছে।

পরের বছর প্রথমে হলের ভলিবল টিমে নাম লেখালেন জেবা। রাতে প্র্যাকটিস করতে হতো। তাই মাঝেমধ্যে হলে থাকা শুরু করলেন। একে একে ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিকস দলেও যোগ দিলেন। ২০২০ সালে অ্যাথলেটিকসে হল চ্যাম্পিয়ন হন জেবা।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে জেবা.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কী কথা হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি অব্যাহত রাখার মধ্যে এই আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানেন এমন দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সপ্তাহের শেষ দিকে ফোনে দুজনের কথা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে দুজনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এমন বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

দুই নেতার ফোনে কথা বলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর মাত্র কয়েক দিন পরই পররাষ্ট্র দপ্তর মাদুরোকে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা হিসেবে চিহ্নিত করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ কার্যকর করে।

ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ করা। তবে তাঁরা এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান, প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে।

গত অক্টোবরে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মাদুরো উত্তেজনা প্রশমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাঁর দেশের তেলক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব দেওয়ার এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য আরও অনেক সুযোগ–সুবিধার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। ফলে মার্কিন কর্মকর্তারা গত মাসের শুরুতে সেই আলোচনা বন্ধ করে দেন।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যেকার ফোনে কথা বলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ভেনেজুয়েলার সরকারও এ নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

তবে ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন, দুই নেতার মধ্যে সরাসরি ফোনে কথা হয়েছিল। প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তাঁরাও নিজেদের নাম–পরিচয় দিতে চাননি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ