এইচএসসিতে বৃত্তি পাচ্ছেন সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী, দেখুন বোর্ডভিত্তিক তালিকা
Published: 29th, November 2025 GMT
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে রাজস্ব খাতভুক্ত মেধা ও সাধারণ বৃত্তির বোর্ডভিত্তিক কোটা বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ৯টি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী মোট মেধাবৃত্তি পাবেন ১ হাজার ১২৫ জন শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবেন ৯ হাজার ৩৭৫ জন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক অফিস আদেশে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল, যশোর, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যানদের পাঠানো হয়েছে এ আদেশ। আদেশে বলা হয়েছে, মেধাবৃত্তির হার মাসিক ৮২৫ টাকা ও এককালীন বার্ষিক অনুদান ১ হাজার ৮০০ টাকা। সাধারণ বৃত্তির হার মাসিক ৩৭৫ টাকা ও এককালীন বার্ষিক অনুদান ৭৫০ টাকা।
আরও পড়ুনজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আবেদন শুরু, পরীক্ষা আবেদন শেষে ১৪ দিনের মাথায়২২ নভেম্বর ২০২৫বোর্ডভিত্তিক প্রাপ্য মেধাবৃত্তির সংখ্যা-ঢাকা বোর্ডে ৪৬৫,
ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫০,
রাজশাহী বোর্ডে ১৭৯,
কুমিল্লা বোর্ডে ৪৯,
সিলেট বোর্ডে ২৮,
বরিশাল বোর্ডে ৩০,
যশোর বোর্ডে ১০৬,
চট্টগ্রাম বোর্ডে ১০৮ ও
দিনাজপুর বোর্ডে ১১০ জন।
আরও পড়ুনজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, আবেদনের ১১ ধাপে আবেদন, নেগেটিভ নম্বরসহ দেখে নিন বিস্তারিত২২ নভেম্বর ২০২৫সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা-ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৩২,
ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৫৬,
রাজশাহী বোর্ডে ১ হাজার ২৫৫,
কুমিল্লা বোর্ডে ৭৪০,
সিলেট বোর্ডে ৫৬১,
বরিশাল বোর্ডে ৬০০,
যশোর বোর্ডে ৮৪০,
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৩৯ ও
দিনাজপুর বোর্ডে ৯৫২ জন।
আরও পড়ুনচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ২২ নভেম্বর ২০২৫বৃত্তি পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি শর্ত। শর্তগুলো হলো-বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ করা বৃত্তির অর্থ জিটুপি পদ্ধতিতে ইএফটিয়ের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে অনলাইন সুবিধাসম্পন্ন তফসিলভুক্ত যেকোনো ব্যাংকে হিসাব খুলে উচ্চ শ্রেণিতে ভর্তির ৭ দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা প্রদানের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিতে হবে।
আগামী ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বৃত্তির গেজেট প্রকাশ করে হার্ডকপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে পাঠাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রকাশিত গেজেটের তথ্য এক্সএল এবং পিডিএফ ফাইলে ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে হবে।
আরও পড়ুনজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ফি ১০০০২৩ নভেম্বর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব শ বব দ য পর ক ষ প রক শ
এছাড়াও পড়ুন:
হতাশায় ডুবে থাকলে সম্ভাবনা দেখা যায় না
দৃঢ় মনোবল আর প্রচেষ্টা থাকলে কোনো বাধা পেরোনোই কঠিন নয়। দরকার ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রম। আমাদের আশপাশে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজেদের জীবনগাথায় লিখে চলেছেন অদম্য জয়ের গল্প। তাঁদের সেই সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের সীমানা পেরিয়ে সমাজের নানাবিধ প্রতিবন্ধকতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। তেমনই কয়েকজনের গল্প নিয়ে ধারাবাহিক এ আয়োজন। আজ জানব ময়মনসিংহের অজপাড়াগাঁয়ের বাসিন্দা মাজিদা বেগম–এর জীবনগল্প।
আমি মাজিদা বেগম। আমার জন্ম ময়মনসিংহের একটি অজপাড়ায়। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছি। সংসারে অভাব থাকলেও মা-বাবা আমার লেখাপড়া বন্ধ করেননি। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পর প্রতিবেশীরা আমার বাবাকে বলেছিলেন, ‘মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন।’ বাবা শোনেননি তাঁদের কথা।
এরপর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পর পড়শিরা আমাকে উৎসাহ দেওয়া তো দূরে থাক, উল্টো আমার বাবাকে নানা নেতিবাচক কথা বলতে শুরু করেন। যেমন মেয়েদের এত লেখাপড়া করে কী হবে? এখনই বিয়ের উপযুক্ত সময়, মেয়ের বিয়ে দিয়ে ভারমুক্ত থাকেন ইত্যাদি। তবে এসব কথায় বাবা কখনো দমে যাননি। সবাইকে তিনি শুধু একটা কথাই বলতেন, ‘মেয়েরাও অনেক দূর যেতে পারে। যতটুকু সামর্থ্য হয়, আমি আমার মেয়েকে লেখাপড়া করাব।’
আমি ময়মনসিংহের গৌরিপুর সরকারি কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করি। রেজাল্ট ভালোই হয়। কিন্তু লেখাপড়া শেষ করে কোনো চাকরি পাচ্ছিলাম না। পরিবার থেকে হাতখরচ নিতে ইচ্ছা করত না। তাই স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য টিউশনি শুরু করি। এরই মধ্যে আমার বিয়ে হয়।
জীবনের নতুন অধ্যায়ের আড়ালেও আমি স্বপ্ন দেখতে ভুলিনি। কিছু একটা করার সংকল্পে সব সময় বিভোর থাকতাম। কিন্তু কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সত্যি বলতে, মফস্সল এলাকায় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক কম। নানা রকম হতাশা এসে ভিড় করে। আমি বিকল্প পথের সন্ধানে সচেষ্ট থাকি। অবশেষে স্বামীর কর্মসূত্রে গাজীপুর চলে আসি। এখানেও চাকরির সুযোগ খুঁজি, পাই না।
গাজীপুর এলাকায় অনেক রপ্তানিমুখী পোশাকের কারখানা। স্বামীসহ অনেকেই আমাকে গার্মেন্টসের কাজে যোগ দিতে বলে। আমি রাজি হইনি। এত দূর লেখাপড়া করে গার্মেন্টসে চাকরি করব? মন থেকে মেনে নিতে পারছিলাম না। এ ছাড়া এই সেক্টর নিয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না।
তৈরি পোশাক কারখানায় নারীদের জন্য সেলাই ছাড়াও যে বৈচিত্র্যময় নানা কাজ আছে, তা আমার জানা ছিল না। শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি আইরিশ গার্মেন্টস লিমিটেডে ‘কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর’ হিসেবে যোগদান করি।
কিছুদিন যাওয়ার পরই আমি কাজটাকে ভালোবাসতে শুরু করি। কোয়ালিটি বিভাগের দায়িত্ব বুঝতে শুরু করি। একটি পোশাক রপ্তানির পেছনে অনেক ধাপ কাজ করে। প্রতিটি ধাপে কোয়ালিটি চেক জরুরি, যেখানে দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম জড়িত। ধীরে ধীরে কাজের প্রতি আমার মনোযোগ বাড়তে থাকে।
কিন্তু আবার ভেতরে ভেতরে পরিবর্তনের পথও খুঁজতে থাকি। বিষয়টা আমার সিনিয়রদের নজরে আসে। অবশেষে আলোর বার্তা এল। ব্র্যাকের ‘লিডারশিপ অ্যান্ড সফট স্কিলস প্রোগ্রামে’ প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হলাম। তখনো আমি এই প্রশিক্ষণ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। কিন্তু কয়েকটা সেশন যাওয়ার পর আমার ভেতর বিশাল পরিবর্তন এল। যেন নিজেকে খুঁজে পেলাম। নিজের হারানো কণ্ঠস্বর ফিরে পেলাম। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে শিখলাম। আমি কাজের বা দায়িত্বের নতুন ভাষা শিখলাম। আমার সব সংকোচ আর জড়তা কেটে গেল। সহকর্মীদের সঙ্গে অনেক সহমর্মিতা নিয়ে কথা বলতে লাগলাম।
আমাদের কাজে ডেডলাইনের (সময়সীমা) কারণে অনেক চাপ থাকে। কিন্তু কীভাবে নিজেকে শান্ত রেখে চাপমুক্ত রাখতে হয়, তা শিখলাম এবং কাজের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা শুরু করলাম। কর্মক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকতে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম শেখানো হয়। রেগে গেলে কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে হয়, তা শিখলাম। অনেক সময় অনেকগুলো কাজ চলে আসে, কিন্তু কোনটা আগে গুরুত্ব দেব, তা বুঝতে পারতাম না। এখন সহজেই বুঝি।
সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে ভয় লাগত, সেটিও এখন কেটে গেছে। সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা গুছিয়ে বলতে পারতাম না। প্রশিক্ষণের পর সেটাও পারলাম। বুঝলাম, স্পষ্ট করে কথা বলা একজন মানুষের অনেক বড় শক্তি। সহকর্মীদের সঙ্গে একটু দরদ দিয়ে কথা বললে ফলাফল অনেক ভালো হয়। সব মিলিয়ে ব্র্যাক থেকে নেওয়া প্রশিক্ষণ আমার মধ্যে জাদুর মতো কাজ করল, বলতে গেলে আমার জীবন বদলে দিল।
একসময় প্রমোশন পেয়ে আমি ‘কোয়ালিটি অডিটর’ হই। হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। আমার সহকর্মী আর সিনিয়রদের সঙ্গে আগের চেয়ে পেশাগত সম্পর্ক অনেক মজবুত হয়, যা আমার পারিবারিক জীবনেও প্রভাব ফেলে। এখন সংসারটাকে আগের চেয়ে অনেক গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করি।
মাজিদা বেগম এখন গাজীপুরের আইরিশ গার্মেন্টস লিমিটেডে কোয়ালিটি অডিটর হিসেবে কাজ করছেন