বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা উন্নত করার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএইচও তাদের প্রতিবেদনটি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশ করেছে। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফিপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মালয় টাইমস।

আরো পড়ুন:

পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কোভিড-১৯ এর টিকার নতুন সুপারিশমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন তাদের জীবদ্দশায় বন্ধ্যাত্বের সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই অবস্থা সব অঞ্চল এবং আয়ের স্তরের ব্যক্তি এবং দম্পতিদের প্রভাবিত করে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই কম। 

ডব্লিউএইচও’র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্যাসকেল অ্যালোটি সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি ‘অনেক দিন ধরে’ অবহেলিত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন গাইডলাইনটি একীভূত ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরাপদ, কার্যকর ও সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।

ডব্লিউএইচও-এর মতে, বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ ও নারী প্রজনন ব্যবস্থার একটি অবস্থা, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করতে অক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই পরিস্থিতি বড় ধরনের দুর্দশা, কলঙ্ক ও আর্থিক সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, বেশ কয়েকটি দেশে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা ও চিকিৎসার বেশিরভাগ খরচ রোগীদের বহন করতে হয়, যা প্রায়শই ‘বিপর্যয়কর আর্থিক ব্যয়’ ডেকে আনে। কিছু পরিস্থিতিতে, এমনকি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এর একটি রাউন্ডের খরচও গড় বার্ষিক পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ হতে পারে।

বন্ধ্যাত্বের ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুক্রবার প্রকাশিত প্রথম গাইডলাইনে ৪০টি সুপারিশ রয়েছে। যা বন্ধ্যাত্বের সাধারণ কারণ খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট রোগ বা অবস্থা জানার জন্য একটি যত্ন, নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান, যৌন সংক্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে অসচেতনতা, দ্বন্দ্ব, দুর্দশা এবং আর্থিক কষ্টের কারণ বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে বলে প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের সেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং তামাক ব্যবহার বন্ধের মতো জীবনধারার ব্যবস্থাগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা/ফিরোজ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর বন ধ য ত ব র ব যবস থ র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

আলতাফ চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জেলা বিএনপি

পটুয়াখালী-১ আসন (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলায় এক নির্বাচনী সভায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘ওনারা ব্যাংকার দিয়ে রাজনীতি করাবে, কন্ট্রাক্টর দিয়ে নির্বাচন করাবে। গণ অধিকারের ভিপি নূরকে দিয়ে নির্বাচন করাবে। তাকে দিয়ে শুধু নির্বাচনই করাবে না, তাকে টাকাও দেবে, কিন্তু নূর রাজি হয়নি। তখন তারা রুহুল আমিন হাওলাদারকে (জাতীয় পার্টি) ধরছে। তারা আমাকে হারাতে ১০০ কোটি টাকার বাজেট করেছে।’

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান (টোটন) বলেন, ‘তাঁর এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর এ ধরনের উক্তি জেলা বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কটূক্তিমূলক। আগামী ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া একজন প্রার্থী জনসমক্ষে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট মহলের বিবেচনার জন্য রেখে দিলাম।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘এ ছাড়া তিনি জেলা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “জেলা কমিটি বাদ দেন, ওটা ফ্রিজ হয়ে গেছে, হিমাগারে চলে গেছে।” কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়া জেলা বিএনপির নেতৃত্বকে তিনি ডাকবেন কি না, তিনি তা পরে দেখবেন। একজন প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে জেলা বিএনপির নির্বাচিত কমিটিকে এইভাবে অবমূল্যায়ন করা সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি স্পষ্ট অসম্মান, যা তিনি পারেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘আলতাফ হোসেন চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগ থেকেই জেলা বিএনপি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু তিনি বাসায় অবস্থান করে তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আর তাঁর নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক বানিয়েছেন দলীয় পদবিহীন মাকসুদ আহমেদ বায়জীদ পান্নাকে, যিনি কখনোই দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলেন না। তা ছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে আলতাফ হোসেন চৌধুরী এখন পর্যন্ত জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বসার প্রয়োজন মনে করেননি।’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকারসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনআমাকে হারাতে জেলা বিএনপি ১০০ কোটি টাকার বাজেট করেছে, বললেন বিএনপির প্রার্থী৭ ঘণ্টা আগে

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মায়ের পাশাপাশি সন্তানের ঝুঁকি তৈরি হয়
  • মহাসড়কে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া পিকআপ ভ্যান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার, আহত ২
  • গোপালগঞ্জ শহরে হোটেল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার
  • কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় দুজনের মৃত্যু
  • মণিপুরে আসাম রাইফেলসের চৌকিতে হামলা, ৪ জওয়ান আহত
  • দাউদকান্দিতে বাসের ধাক্কায় ট্রলির দুই আরোহী নিহত
  • স্বল্প আয়: কমছে নৈশপ্রহরীর পেশায় আগ্রহ, সংকটে নিরাপত্তা
  • আলতাফ চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জেলা বিএনপি
  • নিষেধাজ্ঞা ভেঙে হালদা থেকে বালু উত্তোলন, বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ