এসব খাবার আপনাকে সারা দিন চনমনে রাখবে
Published: 29th, November 2025 GMT
কাজের চাপে ক্লান্ত লাগলে বা দুপুরের পর অফিসে ঘুম পেলে অনেকেই কফি বা মিষ্টি কিছু খেয়ে ক্লান্তি কাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনাকে সারা দিন চনমনে রাখতে পারে, আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো উল্টো আপনাকে দুর্বল করে দেয়!
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া আমাদের অন্যতম বড় ভুল। এতে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ তুলনামূলক বেশি হয়। তাই সকাল শুরু হোক এমন খাবার দিয়ে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করবে; যেমন ওটস, চিড়া, ডিম ও পূর্ণ শস্যের টোস্ট, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে ফল ও বাদাম—এই খাবারগুলো শরীরে শর্করা, প্রোটিন ও ফাইবার সরবরাহ করে, যা আপনাকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখবে।
সারা দিন শক্তি ধরে রাখার কৌশলবাদাম, বীজ আর শস্যজাতীয় খাবার শক্তির অন্যতম বড় উৎস। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ভিটামিন—যা রক্তে চিনির মাত্রা স্থির রাখে এবং হঠাৎ এনার্জি ড্রপ থেকে বাঁচায়। একমুঠো কাজু, আখরোট বা সূর্যমুখীর বীজের মতো স্ন্যাক হতে পারে আপনার দুপুরের ‘এনার্জি ব্রেক’।
প্রোটিন: ঠিকভাবে দেহের প্রতিটি কোষের কাজ চালাতে প্রোটিন অপরিহার্য। মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল ও ছোলা হলো এমন কিছু প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যা দ্রুত ক্লান্তি দূর করে। বিশেষ করে মাছ (যেমন ইলিশ, রুই, টুনা) শুধু প্রোটিন নয়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও দেয়, যা মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখে।
জটিল শর্করা: সাদা চাল বা পরিশোধিত ময়দা শরীরে দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়েও যায়। এর পরিবর্তে বেছে নিন লাল চাল, ব্রাউন রাইস, গমের রুটি বা ওটস—এগুলো ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’, যা ধীরে হজম হয় এবং সারা দিন স্থিতিশীল এনার্জি দেয়।
শাকসবজি ও ফল: নিয়মিত রঙিন শাকসবজি ও ফল খান। আপেল, কলা, কমলা, পালংশাক, ব্রকলি, গাজর—এগুলোর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে চাঙা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
আরও পড়ুনকৈশোরে সঠিক পুষ্টি না পেলে যা হয়, যেসব খাবার খেতে হবে১৬ নভেম্বর ২০২৫যেগুলো এড়িয়ে চলা ভালোঅতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাত খাবার দ্রুত শক্তির জোগান দিলেও খুব দ্রুতই ক্লান্ত করে ফেলে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে মনোযোগ বাড়ায়, কিন্তু ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার। এগুলো হজমে সময় নেয়, ফলে ঘুম ঘুম লাগে।
ছোট ছোট টিপসপানিশূন্যতা ক্লান্তি ডেকে আনে, নিয়মিত পানি পান করুন।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়াম প্রাকৃতিকভাবে আপনার শক্তি বাড়াবে।
শক্তি ধরে রাখার কোনো ‘জাদুকরি খাবার’ নেই, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে সারা দিন প্রাণবন্ত রাখতে। তাই পরেরবার শক্তি কমে গেলে চিনি বা সফট ড্রিংকের দিকে না ছুটে, বেছে নিন প্রকৃতির দেওয়া সঠিক খাবারগুলো।
আরও পড়ুনএকবারে কতটা বাদাম খাওয়া নিরাপদ২১ অক্টোবর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আপন ক
এছাড়াও পড়ুন:
জীবনযাপনের যে সহজ অভ্যাস ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি দিতে পারে
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যার সঙ্গে অন্য অনেক রোগ জড়িত। রোগীর জীবনযাপন পদ্ধতি রোগটি হতে সাহায্য করেছে। এই রোগের চিকিৎসা করতে গেলে জীবনযাপন পদ্ধতিতে আগে পরিবর্তন আনতে হবে।
যে কারণে যাঁর ডায়াবেটিস হয়েছে তাঁর চিকিৎসা করতে গেলে ওটারই সংশোধন করতে হবে। আমি যদি সুনির্দিষ্টভাবে বলি বাংলাদেশের মানুষের ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে যদি ১ নম্বর কারণ আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস।
আমরা প্রচুর কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় খাবার খাই। পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট আমরা প্রতিদিন খাচ্ছি। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো আমরা একবারে প্রচুর খেতে পছন্দ করি। একটা সময় এত খেয়ে ফেলি যে খাবার খাওয়ার পর ঝিমাতে বাধ্য হই।
আমাদের যত অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ, ঈদ, বিয়েশাদি থেকে শুরু করে শোকের অনুষ্ঠানগুলোয়ও শুধু শর্করা ও মিষ্টির ছড়াছড়ি। আমাদের দৈহিক কাঠামো ছোট, অর্থাৎ আমাদের প্যানক্রিয়াসের কাঠামো ছোট এবং ইনসুলিন তৈরি করার সামর্থ্যও কম।
সেই আমরাই সবচেয়ে বেশি শর্করা খাচ্ছি এবং বিনিময়ে রক্তে গ্লুকোজ বেড়েই চলেছে। আমাদের একবারে বেশি খাওয়া কমাতে হবে, শর্করা খাওয়া কমাতে হবে। আমিষ খাওয়াটা বাড়াতে হবে, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া বাড়াতে হবে। আমরা অনেক সময় আলুকে শাকসবজি মনে করি। আলু কিন্তু ভাতের চেয়েও শক্তিশালী শর্করা।
আরও পড়ুনডায়াবেটিসকে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ যে অবদান রেখেছে১৮ ঘণ্টা আগেডায়াবেটিক রোগীর খাদ্যতালিকায় মিষ্টি না রাখাই ভালো