এক সপ্তাহে যাচাই করা ১১৩টি ভুয়া তথ্যের ৪৫টিই ভূমিকম্প নিয়ে
Published: 29th, November 2025 GMT
ভূমিকম্পে বেশ আতঙ্কই ছড়িয়েছে দেশের মানুষের মনে। ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকবারই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কের সঙ্গে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছে।
গত এক সপ্তাহে দেশের ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম-রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্ট ওয়াচ ও বাংলা ফ্যাক্ট মোট ১১৩টি বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে। তার মধ্যে ৪৫টিই ছিল ভূমিকম্প নিয়ে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও নিয়ে ছিল ২৪টি।
রিউমর স্ক্যানার একাই ৯৪টি ফ্যাক্টচেক করে গত শনিবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত। এ ছাড়া ডিসমিসল্যাব ১১টি, ফ্যাক্ট ওয়াচ ৫টি এবং বাংলা ফ্যাক্ট ৩টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ভূমিকম্প ছাড়াও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রচার, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের নামে ভুয়া বক্তব্য ও সেলিব্রিটিদের নিয়ে ভুয়া ফটো কার্ড নিয়ে ২১টি প্রতিবেদন ছিল ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মগুলোয়।
ভূমিকম্প নিয়ে যত ভুয়া তথ্যভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বিদেশের ভিন্ন সময়ের ভূমিকম্পের ছবি ও ভিডিওকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করার প্রবণতা। মিয়ানমার, নেপাল, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ভূমিকম্পের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, এগুলো বাংলাদেশের ভবনধস বা রাস্তা ফেটে যাওয়ার দৃশ্য, যদিও বাংলাদেশে কোনো ভবনধস হয়নি।
একটি ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের একটি পুরোনো দুর্ঘটনার ছবি, গত আগস্টে ভারী বর্ষণে ভেঙে যাওয়া একটি কালভার্টের চিত্রকে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার ছবি হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকার নিউমার্কেটের রাফিন প্লাজা ও বসুন্ধরা এলাকার একটি মসজিদের মিনারের ছবিও একইভাবে বিকৃত বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়। নিউমার্কেটের ভবনটির ছবি পাকিস্তান ও ভারতের গণমাধ্যমসহ আল-আরাবিয়া ইংলিশ টিভি চ্যানেল ব্যবহার করে। ভবন ও মিনারের বাঁকানো নকশাকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হিসেবে দেখানো হয়।
তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশের পুরোনো ভবনধসের ছবিকে বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হিসেবে প্রচার করেও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।
এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও দিয়ে উড়ালসড়ক ধসের ভুয়া খবরও ছড়ানো হয়। একটি ডিপফেইক ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে ঢাকার দিয়াবাড়িতে উড়ালসড়ক ভেঙে পড়েছে।
একই ভিডিও দিয়ে আরও একটি দাবি ছড়ায় এটি নাকি আশুলিয়ার ঘটনা। ভারতের একাধিক গণমাধ্যমও ভিডিওটি প্রচার করে। কিন্তু যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত এবং ঢাকার কোথাও উড়ালসড়ক ধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ভূমিকম্পসহ অন্যান্য বিষয়ে মিলিয়ে মোট ৩৮টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মগুলো।
ভুয়া ফটো কার্ডগত সপ্তাহে ভুয়া ফটো কার্ডের ২১টি ঘটনা চারটি প্ল্যাটফর্মের ফ্যাক্টচেকিংয়ে ধরা পড়ে।
কালের কণ্ঠের নামে তৈরি একটি ভুয়া ফটো কার্ডে দাবি করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিরোধী দল থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী না দিলে নির্বাচনে যাবে না জামায়াত।’
রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্ট ওয়াচ তিনটি প্ল্যাটফর্মই যাচাই করে নিশ্চিত করেছে, কালের কণ্ঠ এমন কোনো খবর প্রকাশ করেনি এবং ভাইরাল ফটো কার্ডটির ডিজাইনও আসল টেমপ্লেটের সঙ্গে মিল নেই।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ‘শেখ হাসিনার সময়ে ইসলাম সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ছিল, বিকৃত হতো না, সঠিক ব্যাখ্যা হতো ইসলামের’—এমন একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ‘একাত্তর টিভি’–এর নকশাসংবলিত ফটো কার্ড ব্যবহার হয় এ ক্ষেত্রে। তবে যাচাইয়ে ধরা পড়ে, এমন শিরোনামের কোনো ফটো কার্ড বা সংবাদ ‘একাত্তর টিভি’ প্রকাশ করেনি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এমন কোনো মন্তব্যও করেননি।
মূলত, ‘একাত্তর টিভি’–এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ২২ নভেম্বর ‘হাসিনার সময়ে খুতবা কী হবে, তা কাগজে লিখে পাঠানো হতো’ শিরোনামে প্রকাশিত ফটো কার্ডটি বিকৃত করে ভুয়া ফটো কার্ডটি তৈরি করা হয়।
বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নামে দুটি ভুয়া মতামত কার্ড ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর নামে প্রকাশিত বক্তব্যগুলো কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেই জানানো হয়, এসব কার্ড ভুয়া।
একইভাবে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও শবনম ফারিয়ার নাম ও ছবি ব্যবহার করে দুটি সম্পাদিত পোস্টার ছড়ানো হয়। প্রকৃতপক্ষে জানা যায়, তিশা ও ফারিয়ার ২৫ নভেম্বরের ‘16DaysOfActivism’ ক্যাম্পেইনের মূল ছবিগুলো ডিজিটালি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়।
ভিডিওনির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যর ডিপফেইক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেমন বিএনপিকে নিয়ে জাইমা রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার দৃশ্য দাবিতে ডিপফেক ভিডিও প্রচার হয়।
কয়েকটি ভিডিওতে আফগানিস্তান ও ভারতের পুরোনো ঘটনা বাংলাদেশের উগ্রপন্থীদের হামলা হিসেবে ছড়ানো হয়। আফগান তালেবান নিয়ে আল-জাজিরার ডকুমেন্টারির দৃশ্যকে বাংলাদেশে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ’ দাবি করে ছড়ায়। আবার নারীর ওপর ভারতের একটি গৃহ-সহিংসতার ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়।
গাজীপুরের শিমুলতলীতে এক বাণিজ্য মেলায় ইসলামি উগ্রপন্থীরা হামলা চালিয়েছে গানবাজনা নিষিদ্ধ চেয়ে—এমন দাবি করে আরেকটি ভিডিও প্রচার করা হয়। কিন্তু যাচাইয়ে পাওয়া যায়, এটি ছিল চা-সিগারেটের দাম নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া একটি মারধরের ঘটনা; কোনো ধরনের ধর্মীয় বা উগ্রপন্থী সম্পৃক্ততা ছিল না।
গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন লাগা ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তারা—এমন দুটি দাবি করা হয় এআই দিয়ে ভিডিও প্রচার করে।
বিবৃতিক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জাতিসংঘ-সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোর নামে ভুয়া মতামত বা চিঠির দাবি ছড়ানো হয় এই সপ্তাহে।
‘শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন’—এমন দাবিতে ছড়ানো বিবৃতি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বেশ কয়েকটি ভুয়া দাবি প্রচারিত হয় এই সপ্তাহে।
নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে তাসলিমা বেগম ও অধ্যাপক ইউনূস পেয়েছেন দাবি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ২০০৬ সালে ড.
‘আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতি করতে পারবে’—অধ্যাপক ইউনূস এমনটা বলেছেন দাবি করে একটি ফটো কার্ড প্রচার হয়। যাচাইয়ে জানা যায়, তিনি এমন কোনো মন্তব্য এ সময়ে করেননি। প্রকৃতপক্ষে একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে নিয়ে এ প্রচার করা হয়।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব ভ র ন ত কর প ল য টফর ম ব যবহ র কর ভ ম কম প র র ভ ম কম প য চ ই কর প রক শ ইসল ম ইউন স র ঘটন
এছাড়াও পড়ুন:
এক সপ্তাহে যাচাই করা ১১৩টি ভুয়া তথ্যের ৪৫টিই ভূমিকম্প নিয়ে
ভূমিকম্পে বেশ আতঙ্কই ছড়িয়েছে দেশের মানুষের মনে। ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকবারই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কের সঙ্গে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছে।
গত এক সপ্তাহে দেশের ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম-রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, ফ্যাক্ট ওয়াচ ও বাংলা ফ্যাক্ট মোট ১১৩টি বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে। তার মধ্যে ৪৫টিই ছিল ভূমিকম্প নিয়ে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও নিয়ে ছিল ২৪টি।
রিউমর স্ক্যানার একাই ৯৪টি ফ্যাক্টচেক করে গত শনিবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত। এ ছাড়া ডিসমিসল্যাব ১১টি, ফ্যাক্ট ওয়াচ ৫টি এবং বাংলা ফ্যাক্ট ৩টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ভূমিকম্প ছাড়াও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রচার, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের নামে ভুয়া বক্তব্য ও সেলিব্রিটিদের নিয়ে ভুয়া ফটো কার্ড নিয়ে ২১টি প্রতিবেদন ছিল ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মগুলোয়।
ভূমিকম্প নিয়ে যত ভুয়া তথ্যভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বিদেশের ভিন্ন সময়ের ভূমিকম্পের ছবি ও ভিডিওকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করার প্রবণতা। মিয়ানমার, নেপাল, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ভূমিকম্পের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, এগুলো বাংলাদেশের ভবনধস বা রাস্তা ফেটে যাওয়ার দৃশ্য, যদিও বাংলাদেশে কোনো ভবনধস হয়নি।
একটি ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের একটি পুরোনো দুর্ঘটনার ছবি, গত আগস্টে ভারী বর্ষণে ভেঙে যাওয়া একটি কালভার্টের চিত্রকে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার ছবি হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকার নিউমার্কেটের রাফিন প্লাজা ও বসুন্ধরা এলাকার একটি মসজিদের মিনারের ছবিও একইভাবে বিকৃত বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়। নিউমার্কেটের ভবনটির ছবি পাকিস্তান ও ভারতের গণমাধ্যমসহ আল-আরাবিয়া ইংলিশ টিভি চ্যানেল ব্যবহার করে। ভবন ও মিনারের বাঁকানো নকশাকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হিসেবে দেখানো হয়।
তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশের পুরোনো ভবনধসের ছবিকে বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হিসেবে প্রচার করেও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।
এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও দিয়ে উড়ালসড়ক ধসের ভুয়া খবরও ছড়ানো হয়। একটি ডিপফেইক ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে ঢাকার দিয়াবাড়িতে উড়ালসড়ক ভেঙে পড়েছে।
একই ভিডিও দিয়ে আরও একটি দাবি ছড়ায় এটি নাকি আশুলিয়ার ঘটনা। ভারতের একাধিক গণমাধ্যমও ভিডিওটি প্রচার করে। কিন্তু যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত এবং ঢাকার কোথাও উড়ালসড়ক ধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ভূমিকম্পসহ অন্যান্য বিষয়ে মিলিয়ে মোট ৩৮টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মগুলো।
ভুয়া ফটো কার্ডগত সপ্তাহে ভুয়া ফটো কার্ডের ২১টি ঘটনা চারটি প্ল্যাটফর্মের ফ্যাক্টচেকিংয়ে ধরা পড়ে।
কালের কণ্ঠের নামে তৈরি একটি ভুয়া ফটো কার্ডে দাবি করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিরোধী দল থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী না দিলে নির্বাচনে যাবে না জামায়াত।’
রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও ফ্যাক্ট ওয়াচ তিনটি প্ল্যাটফর্মই যাচাই করে নিশ্চিত করেছে, কালের কণ্ঠ এমন কোনো খবর প্রকাশ করেনি এবং ভাইরাল ফটো কার্ডটির ডিজাইনও আসল টেমপ্লেটের সঙ্গে মিল নেই।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ‘শেখ হাসিনার সময়ে ইসলাম সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ছিল, বিকৃত হতো না, সঠিক ব্যাখ্যা হতো ইসলামের’—এমন একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ‘একাত্তর টিভি’–এর নকশাসংবলিত ফটো কার্ড ব্যবহার হয় এ ক্ষেত্রে। তবে যাচাইয়ে ধরা পড়ে, এমন শিরোনামের কোনো ফটো কার্ড বা সংবাদ ‘একাত্তর টিভি’ প্রকাশ করেনি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এমন কোনো মন্তব্যও করেননি।
মূলত, ‘একাত্তর টিভি’–এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ২২ নভেম্বর ‘হাসিনার সময়ে খুতবা কী হবে, তা কাগজে লিখে পাঠানো হতো’ শিরোনামে প্রকাশিত ফটো কার্ডটি বিকৃত করে ভুয়া ফটো কার্ডটি তৈরি করা হয়।
বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নামে দুটি ভুয়া মতামত কার্ড ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর নামে প্রকাশিত বক্তব্যগুলো কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেই জানানো হয়, এসব কার্ড ভুয়া।
একইভাবে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও শবনম ফারিয়ার নাম ও ছবি ব্যবহার করে দুটি সম্পাদিত পোস্টার ছড়ানো হয়। প্রকৃতপক্ষে জানা যায়, তিশা ও ফারিয়ার ২৫ নভেম্বরের ‘16DaysOfActivism’ ক্যাম্পেইনের মূল ছবিগুলো ডিজিটালি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়।
ভিডিওনির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যর ডিপফেইক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেমন বিএনপিকে নিয়ে জাইমা রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার দৃশ্য দাবিতে ডিপফেক ভিডিও প্রচার হয়।
কয়েকটি ভিডিওতে আফগানিস্তান ও ভারতের পুরোনো ঘটনা বাংলাদেশের উগ্রপন্থীদের হামলা হিসেবে ছড়ানো হয়। আফগান তালেবান নিয়ে আল-জাজিরার ডকুমেন্টারির দৃশ্যকে বাংলাদেশে ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ’ দাবি করে ছড়ায়। আবার নারীর ওপর ভারতের একটি গৃহ-সহিংসতার ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়।
গাজীপুরের শিমুলতলীতে এক বাণিজ্য মেলায় ইসলামি উগ্রপন্থীরা হামলা চালিয়েছে গানবাজনা নিষিদ্ধ চেয়ে—এমন দাবি করে আরেকটি ভিডিও প্রচার করা হয়। কিন্তু যাচাইয়ে পাওয়া যায়, এটি ছিল চা-সিগারেটের দাম নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া একটি মারধরের ঘটনা; কোনো ধরনের ধর্মীয় বা উগ্রপন্থী সম্পৃক্ততা ছিল না।
গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন লাগা ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তারা—এমন দুটি দাবি করা হয় এআই দিয়ে ভিডিও প্রচার করে।
বিবৃতিক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জাতিসংঘ-সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোর নামে ভুয়া মতামত বা চিঠির দাবি ছড়ানো হয় এই সপ্তাহে।
‘শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন’—এমন দাবিতে ছড়ানো বিবৃতি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বেশ কয়েকটি ভুয়া দাবি প্রচারিত হয় এই সপ্তাহে।
নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে তাসলিমা বেগম ও অধ্যাপক ইউনূস পেয়েছেন দাবি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ২০০৬ সালে ড. ইউনূস ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার পায়; তাসলিমা বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পুরস্কার নিয়েছিলেন।
‘আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতি করতে পারবে’—অধ্যাপক ইউনূস এমনটা বলেছেন দাবি করে একটি ফটো কার্ড প্রচার হয়। যাচাইয়ে জানা যায়, তিনি এমন কোনো মন্তব্য এ সময়ে করেননি। প্রকৃতপক্ষে একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে নিয়ে এ প্রচার করা হয়।