আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো চরমোনাই দরবারের তিন দিনের মাহফিল
Published: 29th, November 2025 GMT
আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে বরিশালে চরমোনাই দরবার শরিফের তিন দিনব্যাপী মাহফিল শেষ হয়েছে। আজ শনিবার সকালে সমাপনী বয়ানের পর কীর্তনখোলার তীরে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এ মাহফিল শেষ হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
মোনাজাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেন চরমোনাই পীর। একই সঙ্গে দেশকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কবল থেকে হেফাজত করার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জন্য তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করেন।
সমাপনী বয়ানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দুনিয়ার মোহই সব পাপের মূল উৎস। ব্যক্তিজীবনের আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের মূলে আছে এই দুনিয়ামুখিতা। অথচ দুনিয়া খুবই তুচ্ছ। হায়াত শেষ হলে পৃথিবীর কোনো সম্পদই কারও কাজে আসে না। তাই দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আখিরাতমুখী জীবন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘মানুষ আজ অহরহ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে। অথচ কবরে গিয়ে আল্লাহর ক্ষমা না পাওয়া পর্যন্ত একজন মানুষের নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করা উচিত। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের মাধ্যমেই মহান রবের সন্তুষ্টি নিয়ে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে, যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই—সে আলেম, মুফতি কিংবা পীর হলেও তাঁর কোনো মূল্য নেই।’
সমাপনী বয়ানে আত্মশুদ্ধির জন্য আমিত্ব ও আত্মঅহংকার পরিত্যাগ, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার, রাগ সংযত রাখা, নিয়মিত জিকির, কল্ব পরিশুদ্ধ করা, গিবতের মতো কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। পাশাপাশি পরিবারে দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করা, পর্দা ব্যবস্থা জারি রাখা, নেশাদ্রব্য পরিহার, আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পাঠ, হালকায়ে জিকির ও তালিমে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াতের আহ্বান জানান।
মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চরমোনাই পীর আখেরি মোনাজাতে উপস্থিত প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ওলামায়ে কেরাম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। আখেরি বয়ানের পর তিনি লিখিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মুরিদদের সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার দিকনির্দেশনা দেন। পরে তিনি সবাইকে তওবা করিয়ে গুনাহ থেকে বাঁচার শপথ করান।
চলতি বছর মাহফিলে মূল সাতটি বয়ানের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করেন। আয়োজকেরা জানান, চরমোনাই দরবারের এ মাহফিলের সূচনা হয়েছিল ১৯২৪ সালে। প্রতিবছর বাংলা মাস হিসাব করে অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে দুটি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অগ্রহায়ণে ছোট পরিসরে ও ফাল্গুন মাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে মাহফিলের আয়োজন হয়। গত বুধবার শুরু হওয়া মাহফিল আজ সকাল ৯টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, তিন দিনব্যাপী মাহফিলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মোট সাতটি প্রধান বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ান পেশ করেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আর মাঝের তিনটি বয়ান পেশ করেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। এ ছাড়া দেশের শীর্ষ স্থানীয় দরবারগুলোর পীর ও শীর্ষ স্থানীয় আলেমরা মাহফিলে বয়ান করেন।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: চরম ন ই প র ল কর ম র জন য দরব র
এছাড়াও পড়ুন:
পার্থের পিচকে ‘আবর্জনা’ বলে নিজের বিপদ আরও বাড়ালেন খাজা
অস্ট্রেলিয়া দলের ওপেনার উসমান খাজার সঙ্গে চলতি সপ্তাহে সাক্ষাৎ করবেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কর্মকর্তারা। অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের ভেন্যু পার্থের উইকেটকে ‘আবর্জনা’ বলেছেন খাজা। এ কারণে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে খাজার কাছে তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইবেন সিএ কর্মকর্তারা।
পার্থে দুই দিনের মধ্যে প্রথম টেস্ট শেষ হয় গত শনিবার। ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর গত বৃহস্পতিবার পার্থের পিচকে ‘খুব ভালো’ রেটিং দেয় আইসিসি। কিন্তু পরদিন তাঁর নামে ফাউন্ডেশনের তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে পার্থের উইকেটে সমালোচনা করেন খাজা।
পার্থ টেস্টে মাত্র ৮৪৭টি বল খেলা হয়েছে। গত ৯৩ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এটি সংক্ষিপ্ততম টেস্ট ম্যাচ। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সব সময় মিলিয়ে হিসাব করলে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম।
নিজের ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজনে খাজা বলেন, ‘(পার্থে) প্রথম দিনে পড়েছে ১৯ উইকেট এবং প্রায় ২০ জন আঘাত পেয়েছে। দারুণ উইকেট, একদম ন্যায্য মনে হচ্ছে। গত বছর ভারতের বিপক্ষে টেস্টেও একই ঘটনা ঘটেছিল। প্রথম দিনের উইকেট, বল প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।’
পার্থ টেস্ট দুই দিনের মধ্যে জেতে অস্ট্রেলিয়া