ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৮
Published: 29th, November 2025 GMT
ইন্দোনেশিয়ায় গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড়-সৃষ্ট মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৮ এ পৌঁছেছে। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি নামে পরিচিত) শনিবার জানিয়েছে, পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় উদ্ধারকারীরা আরো মৃতদেহ উদ্ধার করার পর এই সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ফলে নিশ্চিত হতাহতের সংখ্যা এখন ২৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শতাধিক লোক এখনো নিখোঁজ রয়েছে এবং ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
বিএনপিবি এর প্রধান সুহারিয়ানতো বলেছেন, “মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এখনো অনেক মৃতদেহ নিখোঁজ রয়েছে, আবার অনেকের কাছে পৌঁছানো যায়নি।”
পশ্চিম সুমাত্রা আঞ্চলিক দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র ইলহাম ওয়াহাব শুক্রবার রাতে জানিয়েছিলেন, ৬১ জন মারা গেছেন এবং ৯০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি বলেন, “পশ্চিম সুমাত্রা জুড়ে মোট ৭৫ হাজার ২১৯ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, উত্তর সুমাত্রায় আরো ১১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে আচেহ প্রদেশে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫ জনে পৌঁছেছে।
মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী মালাক্কা প্রণালীতে এক বিরল গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের ফলে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের কিছু অংশ কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে তিন দেশে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা/শাহেদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ট্যাক্স ভিক্ষুকও দেন, আবার বিশাল শিল্পপতিও দেন: জামায়াতের আমির
দেশের অর্থনীতি যদি ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত না হয়, তাহলে সমাজে অবিচার চলতেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের সব স্তরের মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কিন্তু ন্যায্যতা না থাকায় প্রান্তিক মানুষ ও উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অবিচার বন্ধ করার মূল দায় দায়িত্বশীলদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫–এ শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। এ অর্থনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা। সম্মেলনে জামায়াতের আমিরের সহযোগী বক্তা ছিলেন দলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো. সফিউল্লাহ। তিনি ‘অর্থনীতিতে ন্যায্যতা’ বিষয়ে আলোচনা করেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গরিব ও ধনী সবাই অবদান রাখছেন। ট্যাক্স একজন ভিক্ষুকও দেন, আবার একজন বিশাল শিল্পপতিও দেন। ভিক্ষুক সারা দিনে ১০, ২০ কিংবা ১০০ টাকা যা আয় করেন, সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে কিছু কিনলে ট্যাক্স দিতে হয়। নবজাতকের কিছু কিনলেও ট্যাক্স দিতে হয় অর্থাৎ নব্য শিশুও ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশি ঋণও সমভাবে সব বয়সী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ—সবার ওপর ঋণের বোঝা পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে দায়িত্বটা কে নেবে, এটা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব।’
১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যেতে পারে বলেন তিনি। তা না হলে ১৮ কোটি মানুষের জায়গায় ১৮ লাখ হলেও সমাজ সাজানো যাবে না বলেন তিনি।
দুর্নীতির কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে অনুৎসাহিত করছে যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিনিয়োগ করছেন না। অনেকেই শুধু যে ব্যবসা আছে, তা বাঁচাতে ধরে রাখতে ব্যস্ত।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদাহরণ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তাঁরা বলেন, সেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে রকম পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। ফলে অনেক দেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত দেশ হিসেবে দেখে না। আমাদের দেশে লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তাঁরা বিনিয়োগ করতে চান না।’
আরও পড়ুনযাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরেন, কারখানাগুলো চালু থাকুক: ফখরুল১ ঘণ্টা আগেদেশ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, কারিগরি শিক্ষা জাতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে দুর্নীতিকে মূল থেকে দূর করতে হবে। তাহলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।