দেশের অর্থনীতি যদি ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত না হয়, তাহলে সমাজে অবিচার চলতেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের সব স্তরের মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কিন্তু ন্যায্যতা না থাকায় প্রান্তিক মানুষ ও উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অবিচার বন্ধ করার মূল দায় দায়িত্বশীলদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫–এ শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। এ অর্থনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা। সম্মেলনে জামায়াতের আমিরের সহযোগী বক্তা ছিলেন দলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো.

সফিউল্লাহ। তিনি ‘অর্থনীতিতে ন্যায্যতা’ বিষয়ে আলোচনা করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে গরিব ও ধনী সবাই অবদান রাখছেন। ট্যাক্স একজন ভিক্ষুকও দেন, আবার একজন বিশাল শিল্পপতিও দেন। ভিক্ষুক সারা দিনে ১০, ২০ কিংবা ১০০ টাকা যা আয় করেন, সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে কিছু কিনলে ট্যাক্স দিতে হয়। নবজাতকের কিছু কিনলেও ট্যাক্স দিতে হয় অর্থাৎ নব্য শিশুও ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশি ঋণও সমভাবে সব বয়সী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ—সবার ওপর ঋণের বোঝা পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে দায়িত্বটা কে নেবে, এটা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব।’

১৮ কোটি মানুষের দেশকে পরিকল্পনা ছাড়া সাজানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। পরিকল্পনা থাকলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যেতে পারে বলেন তিনি। তা না হলে ১৮ কোটি মানুষের জায়গায় ১৮ লাখ হলেও সমাজ সাজানো যাবে না বলেন তিনি।

দুর্নীতির কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে অনুৎসাহিত করছে যে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিনিয়োগ করছেন না। অনেকেই শুধু যে ব্যবসা আছে, তা বাঁচাতে ধরে রাখতে ব্যস্ত।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদাহরণ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে যখন কথা হয়, তাঁরা বলেন, সেখানে বিনিয়োগ করেন, সেখানে স্থিতিশীলতা থাকবে, ফান্ডের সেফটি থাকবে। বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে রকম পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি। ফলে অনেক দেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত দেশ হিসেবে দেখে না। আমাদের দেশে লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তাঁরা বিনিয়োগ করতে চান না।’

আরও পড়ুনযাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরেন, কারখানাগুলো চালু থাকুক: ফখরুল১ ঘণ্টা আগে

দেশ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, কারিগরি শিক্ষা জাতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে দুর্নীতিকে মূল থেকে দূর করতে হবে। তাহলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: জ ম য় ত র আম র

এছাড়াও পড়ুন:

স্বল্প আয়: কমছে নৈশপ্রহরীর পেশায় আগ্রহ, সংকটে নিরাপত্তা

শহুরে সভ্যতা যত আধুনিক হচ্ছে, নিরাপত্তার চাহিদা ততই বাড়ছে। শহরের জনজীবনের নিরাপত্তা এক মৌলিক স্তম্ভ হলো নৈশপ্রহরী বা নাইট গার্ড। অথচ এই পেশা ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নগরজীবনের মূল কাঠামো থেকে। এর মূল কারণ হলো স্বল্প মজুরি। কম বেতন, অনিরাপদ কর্মঘণ্টা এবং সামগ্রিক অবহেলার কারণে নৈশপ্রহরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মীর সংখ্যা দ্রুত কমছে।

অথচ এ পেশাই ছিল শহরের রাতের নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। নৈশপ্রহরী রাতের বেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে কোনো এলাকায়, ভবনে, পাড়ায় বা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। যখন পুরো শহর ঘুমিয়ে থাকে, তখন শুরু হয় তাঁর দায়িত্ব। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নৈশপ্রহরীর কাজ হলো এলাকা বা ভবন টহল দেওয়া, শহরে বা এলাকায় চুরি, ডাকাতি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা। এককথায়, তাঁদের রাতে শহরের যেকোনো ঝুঁকির প্রথম প্রতিরক্ষা সারি বলা যায়।

শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক, নৈশপ্রহরীর অবদানের বিকল্প নেই। একটি ক্যামেরা ছবি তুলতে পারে কিন্তু আশঙ্কাজনক শব্দ শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে না।

শহরের জনজীবনের এক স্বস্তির নিশ্বাস হলেন নৈশপ্রহরীরা। রাতের শান্তি বজায় রাখার মাধ্যমে নাগরিকের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন হাজারো নির্ঘুম প্রহরী।

গবেষণা বলছে, দৃশ্যমান নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি অপরাধীদের নিরুৎসাহিত করে। শহরে রাতের বেলা চুরি ও ডাকাতি কমাতে নৈশপ্রহরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দ্রুত বাড়তে থাকা জনঘনত্বপূর্ণ এলাকা, বহুতল ভবন, গাড়ির সংখ্যা—এই সবকিছু মিলিয়ে রাতের শহরটি ঝুঁকিপূর্ণ। নৈশপ্রহরী সেখানে মানবিক নজরদারির অপরিহার্য এক উপাদান।

তাহলে কেন এই গুরুত্বপূর্ণ পেশা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন মানুষ? ঢাকায় কোনো পরিবারের একজন উপার্জনকারীকে ২০-২৫ হাজার টাকার প্রাথমিক ব্যয় ধরতেই হয়। তা–ও কেবলই টিকে থাকতে, কোনো আরাম–আয়েশ ছাড়া। এদিকে নৈশপ্রহরীদের মাসিক বেতন অনেক এলাকায় মাত্র ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। যা জীবনযাত্রার মৌলিক ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাশাপাশি এই পেশার নেই কোনো সামাজিক স্বীকৃতি। নৈশপ্রহরীর কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজে তাঁদের জন্য থাকে না সম্মান, না প্রশংসা। অনেক সময় তাঁদের কাজকে তুচ্ছ হিসেবে দেখা হয়, ফলে আত্মমর্যাদাবোধ কমে যায়। এসব কারণেই দিন দিন নৈশপ্রহরীর পেশায় অনীহা দেখা দিচ্ছে।

তাহলে এর সমাধান কোথায়? নৈশপ্রহরী পেশাকে টেকসই ও সম্মানজনক করতে কী করা দরকার?

প্রথমত, ন্যায্য ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বেতন নির্ধারণ করা। শিগগিরই সরকার, সিটি করপোরেশন ও হাউজিং কমিটিগুলোকে যৌথভাবে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করতে হবে। ১৮-২০ হাজার টাকা না হলে একজন প্রহরী জীবন চালাতে পারেন না। বেতনকাঠামো অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতার অধীনে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রহরীদের জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া সরকারিভাবে। তৃতীয়ত, আট ঘণ্টার কর্মঘণ্টা নিশ্চিতকরণ। এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রহরীকে কেয়ারটেকার বা কমিউনিটি সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে পরিচিত করা যেতে পারে। এতে সামাজিক মর্যাদার ফলে এ পেশায় কাজের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

পরিশেষে, রাতের অন্ধকারে শহরকে নিরাপদ রাখেন যেসব নৈশপ্রহরী, তাঁদের পেশাকে অবহেলার কারণে আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি আমাদের সামাজিক জীবনের নিরাপত্তা। যাঁরা রাতের বেলা জীবনের অনিশ্চয়তাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আমাদের ঘুম নিঃশব্দে রক্ষা করেন, তাঁদের যথার্থ সম্মান ও সঠিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

মায়িশা ফাহমিদা ইসলাম শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সন্তানদের রেহাই দিতে বললেন সেলিনা
  • দ্বীপের একমাত্র সরকারি কলেজটি চলছে অর্ধেকের কম শিক্ষকে
  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মায়ের পাশাপাশি সন্তানের ঝুঁকি তৈরি হয়
  • মহাসড়কে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া পিকআপ ভ্যান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার, আহত ২
  • গোপালগঞ্জ শহরে হোটেল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার
  • কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় দুজনের মৃত্যু
  • মণিপুরে আসাম রাইফেলসের চৌকিতে হামলা, ৪ জওয়ান আহত
  • দাউদকান্দিতে বাসের ধাক্কায় ট্রলির দুই আরোহী নিহত
  • স্বল্প আয়: কমছে নৈশপ্রহরীর পেশায় আগ্রহ, সংকটে নিরাপত্তা