কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে কি দুই নেতার বিরোধ মেটাতে পারবে কংগ্রেস
Published: 29th, November 2025 GMT
ভারতের কর্নাটক রাজ্যে নেতৃত্বের সংকট কীভাবে কখন মেটানো হবে, কংগ্রেস হাইকমান্ডকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আজ শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ মেনে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বৈঠকে বসেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে। কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে সিদ্দারামাইয়ার বাসভবনে সেই প্রাতরাশ বৈঠকের পর দুই নেতাই গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ দেখাও দেবে না। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
কর্নাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে ২০২৩ সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে। সেই থেকে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী সিদ্দারামাইয়া। ৬৩ বছরের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের অনুগামীদের দাবি, তখনই ঠিক হয়েছিল আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রিত্বের বদল হবে। দায়িত্ব নেবেন শিবকুমার। সেই প্রতিশ্রুতি মানা হোক।
এই দাবিতে শিবকুমারের অনুসারীরা কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে দরবার করছেন। পাশাপাশি সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, রাজ্যের জনতা তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে পুরো পাঁচ বছরের জন্য।
দুই প্রভাবশালী নেতার এই দাবির মুখে কংগ্রেস হাইকমান্ড জানিয়েছিল, বিবাদ দুই নেতাকেই মেটাতে হবে। তাঁরা আলোচনা করে ঠিক করুন, বিবাদের মীমাংসা কীভাবে হবে। সেই অনুযায়ী আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শিবকুমারকে।
ঘণ্টা দেড়েকের সেই বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে প্রাতরাশের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘শিবকুমারের সঙ্গে নাশতা খেলাম।’
শিবকুমারও নাশতা খাওয়ার কথা জানিয়ে বাড়তি লেখেন, ‘মাসখানেক ধরে কিছু বিভ্রান্তি চলছিল। এখন তা কেটে গেছে।’
এরপর গণমাধ্যমকে দুজনেই বলেন, তাঁদের মধ্যে অনেক কিছু নিয়েই কথা হয়েছে। তাঁদের প্রথম লক্ষ্য পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে জেতা। পরের লক্ষ্য ২০২৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করা। এই লক্ষ্যেই তাঁরা এগোচ্ছেন। দুজনেই বলেছেন, তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। ভবিষ্যতেও কোনো বিবাদ দেখা দেবে না।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এই একতা অটুট থাকবে। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বিবাদ নেই।’
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও ২০২৩ সালে নির্বাচনে জয়ের পর ঠিক হয়েছিল প্রথম আড়াই বছর মুখ্যমন্ত্রী হবেন সিদ্দারামাইয়া। পরের আড়াই বছর দায়িত্ব নেবেন শিবকুমার। ২০ নভেম্বর সিদ্দারামাইয়ার আড়াই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া মাত্র শিবকুমারের অনুগামীরা দিল্লিতে দরবার শুরু করেন।
সরাসরি দাবি না জানালেও শিবকুমার ‘এক্স’ মারফত জানিয়েছিলেন, কথা দিয়ে কথা রাখাই আসল শক্তি। পাল্টা ‘এক্স’ বার্তায় সিদ্দারামাইয়া লেখেন, জনতার রায় পাঁচ বছরের। দায়িত্বও পাঁচ বছরের। তা রক্ষা করাই আসল শক্তি। এই পরিস্থিতিতে হাইকমান্ড জানায়, দুই নেতা আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলুন। তারপর হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবে।
সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর কাছে এটাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ। বিহার বিপর্যয়ের পর এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে কর্নাটকের সরকার টলে যায়। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছেও এটা বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি কর্নাটকেরই ভূমিপুত্র। তাঁর সময়েই রাজ্য জয়। দেশের মাত্র তিন রাজ্যে কংগ্রেস নিজের জোরে ক্ষমতায় রয়েছে। কর্নাটক ও তেলেঙ্গানা ছাড়া তৃতীয় রাজ্য উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশ।
সর্বভারতীয় স্তরে দলের অবস্থা যে ভালো নয়, বিবদমান দুই নেতাও তা জানেন। বিহার জয়ের পর বিজেপি যে আরও দুর্নিবার, সে কথাও জানা। ৮ ডিসেম্বর থেকে কর্নাটক বিধানসভার অধিবেশন শুরু। বিরোধী বিজেপি ও জেডি (এস) ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে।
সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারকে এই প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। তারপর বিবেচিত হবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্ন। যদিও বিধানসভায় বিজেপির আসন ৬০, জিডি (এস)–এর ১৮। কংগ্রেসের আসন ১৪০।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিধানসভার পরবর্তী নির্বাচনের আগেই শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তবে তা করা হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, যাতে প্রবীন সিদ্দারামাইয়াকে অসম্মানিত হতে না হয়।
সিদ্দারামাইয়ার পক্ষে এটা মেনে নেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় রাস্তাও নেই। আগামী বছর তিনি ৭৮ বছরে পা দেবেন। এই বয়সে নতুন দল গঠন তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। গত নির্বাচনী প্রচারেই তিনি বলেছিলেন, এটাই তাঁর শেষ ভোট। আর দাঁড়াবেন না। লোক দল, জনতা দল ও জনতা দল (এস) ঘুরে তিনি কংগ্রেসে এসেছিলেন ২০০৬ সালে।
রাজ্যে দ্বিতীয় শক্তি বিজেপি, যেখানে যাওয়া সিদ্দারামাইয়ার পক্ষে সম্ভবপর নয়। তৃতীয় দল জেডি (এস)। সেই দলের দরজাও তাঁর জন্য বন্ধ। অথচ অনগ্রসর কুড়ুবা শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে সিদ্দারামাইয়ার ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা প্রবল। রাজ্যের দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থনও রয়েছে তাঁর দিকে। কংগ্রেস নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই চাইবে না তাঁকে রুষ্ট করে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে।
অন্যদিকে শিবকুমার প্রভাবশালী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের নেতা। দক্ষিণ কর্নাটকে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল জেডি (এস) প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার। তাঁর মোকাবিলা করে শিবকুমার ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের এক বড় অংশের সমর্থন কংগ্রেসে টেনেছেন। তাঁর সাংগঠনিক শক্তিও প্রশ্নাতীত। কংগ্রেসের কাছে তিনিও অপরিহার্য। গান্ধী পরিবারের প্রতি শিবকুমারের আনুগত্যও প্রবল। পরিবারের কথার অন্যথা তিনি কখনো করেননি।
আজ বৈঠকের পর দুই নেতাই বলেছেন, হাইকমান্ডের নির্দেশ তাঁরা মেনে চলছেন। চলবেনও। তাঁদের নজরে রয়েছে ২০২৮ সালের বিধানসভা ভোট। কংগ্রেস সূত্রের খবর, আগামী বছর ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়া পর্যন্ত উপমুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারই থাকবেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। বিধানসভার অধিবেশনের পর মন্ত্রিসভা রদবদলে শিবকুমারের কয়েকজন অনুগামীকে জায়গা দেওয়া হবে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র ম খ যমন ত র শ বক ম র র হ ইকম ন ড ব ধ নসভ লক ষ য বছর র ক ষমত
এছাড়াও পড়ুন:
সম্পূর্ণ কাল্পনিক
যদি কেউ উদাস হয়ে বলে, ভালো নেই
যদি মন খারাপ করে কেউ বলে, খুব আশাহীন লাগে
শুনে হুক্কা হুয়া ডেকে ওঠার প্রচুর শিয়াল আছে জঙ্গলে
আরও মন খারাপ, আরও হতাশ বোধ হয়
মানুষের এমন পীড়নে শিয়ালেরা কেন খুশি হচ্ছে
কেন জঙ্গলের শিয়ালের হাতে মানুষ দেখার দুরবিন
যদি মানুষ ভাবে, জঙ্গলটাও এ দেশের অংশ
তাহলে শিয়ালেরাও দেশবাসী
প্রাণে–মনে গভীর উদ্বেগ, দেশবাসীর দুঃখ–হতাশায়
দেশবাসীরা একযোগে কেন করে হুক্কা হুয়া উল্লাস!