বাংলাদেশে রপ্তানি হবে সেই উদ্দেশ্যে ভারতীয় সীমান্তে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ করেছিল ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করায় ভারতের ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মহাদীপুর ও হিলি সীমান্তে মজুদ কোটি কোটি রুপির সেই পেঁয়াজে এখন পচন ধরতে শুরু করেছে। ক্ষতি কমাতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে ২থেকে ১০ রুপি কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ।

স্বাভাবিক সময়ে এই পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মহদিপুর দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ প্রবেশ করতো বাংলাদেশে। সেই আশায় শুধুমাত্র এই সীমান্ত এলাকাতেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মজুদ পড়েছিল প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ। কেজি প্রতি দাম পড়েছিল প্রায় ২২ রুপি। বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি হলে তারা দাম পেতেন কিলো প্রতি ৩০ থেকে ৩২ রুপি। কিলো প্রতি লাভের অংক ৮ থেকে ১০ রুপি। পাটিগণিতের এই অংকে রাশ টেনে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। হঠাৎ করে তারা পেঁয়াজ আমদানি রপ্তানি বন্ধ করায় মহদিপুরে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্চে কেজি প্রতি ২ রুপি থেকে ৬ রুপিতে। এতে কারও ক্ষতির পরিমাণ ৬০ লাখ কারও বা কোটি রুপি ! একই ছবি হিলি, পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তেও। 

শনিবার মাহাদীপুর সোনামসজিদ সীমান্ত ঘুরে দেখা যায় এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২ রুপিতে, ৫০ কিলোর বস্তা মাত্র ১০০ রুপিতে। যে পেঁয়াজ নাসিক থেকে কেনা হয় ১৬ রুপিতে, ভাড়াসহ খরচ দাঁড়ায় ২২ রুপি কিলো, সেই পেঁয়াজই কয়েক দিন ধরে পানির দরে বিক্রি করছেন রপ্তানিকারকেরা। মালদার খুচরা বাজারেই পেঁয়াজের দাম ২০-২২ রুপি কিলো। ইংরেজবাজার শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মহদিপুরে গেলেই বস্তা বস্তা পেঁয়াজ মিলছে দুই রুপি কেজিতে। বাংলাদেশে রপ্তানি হঠাৎ করে বন্ধ হওয়ায় এর কারণ বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানিকারক গ্রুপ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কিছুদিন ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভারতীয় পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রথমে কিছু আমদানিকারককে ৫০ টন, পরে আরো কয়েকজনকে ৩০ টন করে আইপি দেওয়া হয়েছিল। দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ এর কিছু পরেই পেঁয়াজ আমদানির গোটা প্রক্রিয়ায় আচমকা থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ সরকার। আর সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চোখে সরষে ফুল দেখা শুরু করেছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। 

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বছরের এই সময় বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে। প্রতিদিন ভারতের সব সীমান্ত মিলিয়ে শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ যায় সে দেশে। বাংলাদেশেও বর্তমানে পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০০ টাকার কাছাকাছি। ফলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আশ্বাসে ভারতের রপ্তানিকারকরা প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ করেছিল। সেই পেঁয়াজ এখন তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ক্ষতি কমাতে পচন ধরা পেঁয়াজ থেকে ভালো পেঁয়াজ আলাদা করতে এখনো প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিককে ব্যবহার করতে হচ্ছে। 

ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন “আমরা কেউ ৫০ গাড়ি আবার কেউ ৭০ গাড়ি পেঁয়াজ নাসিক ও ইন্দোর থেকে কিনে মালদায় নিজেদের গোডাউনে রেখেছিলাম। ১৪ ও ১৬ চাকার বড় বড় লরিতে পেঁয়াজ নিয়ে আসা হয়েছিল। ২২ রুপি কিলো দরে এক টনের দাম ২২০০ রুপি। কিন্তু এখন সেই পেঁয়াজে পচন ধরতে শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ২,৬,৮,১০  রুপি কিলো দরে বিক্রি করে দিচ্ছি। এক নম্বর পেঁয়াজ দশ রুপি, দুই নম্বর গ্রেডের পেঁয়াজ ছয় রুপি, একেবারে তিন নম্বর গ্রেডের পেঁয়াজ যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি পচে যাবে সেগুলো ২ রুপি কেজিতেই দিয়ে দিচ্ছি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বলছি তারা নিয়ে যাক। নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু দাম পাওয়া যায়, সেটাই অনেক।

ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম বলেন, “নাসিক ইন্দোর ব্যাঙ্গালোর থেকে ২৩ রুপি কেজি দরে আমি প্রায় দেড় হাজার টন পেঁয়াজ নিয়ে এসেছিলাম। স্থানীয়ভাবে লেবার চার্জ পড়েছিল প্রায় এক রুপি। সবমিলিয়ে ২৪ রুপি খরচ পড়েছিল। যখন এক্সপোর্ট স্বাভাবিক ছিল দুই মাস আগেও আমিও ৩০-৩৫ গাড়ি পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিলাম। কিন্তু এক্সপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের এই স্টক পচে যেতে শুরু করেছে । আমরা তাই দেরি না করে ১০০র বেশি শ্রমিক লাগিয়ে সেই পেঁয়াজ ড্রেসিং করে যা দাম পাই তাতেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছি। বাংলাদেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা তারা এই মুহূর্তে পেঁয়াজ নেবে না। যদি নেয় পরবর্তীকালে নোটিফিকেশনে জানিয়ে দেবে। আমরা রাজ্যে ও কেন্দ্রীয় সরকারকে বলছি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন, না হলে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হবে।”
 


 

সুচরিতা/শাহেদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব যবস য ২২ র প সরক র আমদ ন

এছাড়াও পড়ুন:

সম্পূর্ণ কাল্পনিক

যদি কেউ উদাস হয়ে বলে, ভালো নেই
যদি মন খারাপ করে কেউ বলে, খুব আশাহীন লাগে
শুনে হুক্কা হুয়া ডেকে ওঠার প্রচুর শিয়াল আছে জঙ্গলে
আরও মন খারাপ, আরও হতাশ বোধ হয়
মানুষের এমন পীড়নে শিয়ালেরা কেন খুশি হচ্ছে
কেন জঙ্গলের শিয়ালের হাতে মানুষ দেখার দুরবিন

যদি মানুষ ভাবে, জঙ্গলটাও এ দেশের অংশ
তাহলে শিয়ালেরাও দেশবাসী
প্রাণে–মনে গভীর উদ্বেগ, দেশবাসীর দুঃখ–হতাশায়
দেশবাসীরা একযোগে কেন করে হুক্কা হুয়া উল্লাস!

সম্পর্কিত নিবন্ধ