সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না: নাহিদ ইসলাম
Published: 29th, November 2025 GMT
সামাজিক ফ্যাসিবাদের নানা আলামত দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে বিদেশি বিনিয়োগকারী বা বিদেশি পুঁজি এখানে আসবে না এবং দেশে স্থিতিশীলতাও তৈরি হবে না।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ বিষয়ে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।
সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন না ঘটলে সংস্কার টেকসই হবে না এবং সমাজও স্থিতিশীল হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা সমাজের যে ফ্যাসিবাদ আছে, তার নানা ধরনের আলামত দেখতে পাচ্ছি। সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে বিদেশি বিনিয়োগকারী বা বিদেশি পুঁজিও এখানে আসবে না এবং দেশে স্থিতিশীলতাও তৈরি হবে না।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন লাগবে, একইভাবে সামাজিক স্থিতিশীলতাও লাগবে।’ সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন—চীনের এই নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতির পুরোটাই একটা চক্র বা নেক্সাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা, রাজনীতিবিদ এবং মাফিয়া ব্যবসায়ীরা থাকেন। তাঁদের কালো টাকাই আমলা ও রাজনীতিবিদদের পেছনে ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) হয়। আগামী নির্বাচনেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে। —নাহিদ ইসলাম, আহ্বায়ক, এনসিপিবাংলাদেশ স্থিতিশীল হবে কি না, আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ ও পুরো বিশ্ব এই বার্তা পাবে বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর। ক্ষমতার হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ না হলে দেশে অস্থিতিশীলতা থেকে যাবে।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘বৈষম্য দূরীকরণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সেভাবে সংস্কার করতে পারলে আমাদের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করে সেটাকে কোনো রকমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে অভ্যুত্থানের শক্তি বারবারই রাজপথে নামবে।’
‘দরবেশ’ তৈরি হলে পরিবর্তন হবে নাআগামী নির্বাচনের পরে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক দাবিদাওয়ার আন্দোলন ক্রমেই আসতে থাকবে বলে মনে করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আবারও দেখি যে আগামী আমলে নানা ধরনের দরবেশ তৈরি হচ্ছে, নানা ধরনের মাফিয়া শ্রেণি তৈরি হচ্ছে, তাহলে অর্থনীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।’
দুর্নীতির জন্য এককভাবে আমলা বা রাজনীতিবিদদের দায়ী করার পক্ষে নন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, দুর্নীতির পুরোটাই একটা চক্র বা নেক্সাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা, রাজনীতিবিদ ও মাফিয়া ব্যবসায়ীরা থাকেন। তাঁদের কালো টাকাই আমলা ও রাজনীতিবিদদের পেছনে ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) হয়। আগামী নির্বাচনেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে যদি আমরা এই কালো টাকা বন্ধ করতে না পারি, তাহলে নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। দুর্নীতির নেক্সাসকে (চক্র) আমাদের ভাঙতে হবে। তা না হলে আমরা আসলে সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসন থেকে দুর্নীতি দূর করতে পারব না, সুশাসনও প্রতিষ্ঠা করতে পারব না।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিগত আমলের মাফিয়াদের বর্তমান সরকার বিচারের আওতায় আনতে পারেনি। কারণ, এই সরকারের সেই রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছিল না। শুধু এস আলম, সালমান এফ রহমান—এ রকম দু-একজনকে ধরে আইওয়াশ দেওয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই। আমরা পরবর্তী সরকারের আমলে সরকার বা সংসদের অংশ হই কিংবা বাইরে থাকি, এই পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার দাবি জোরালোভাবে তুলব। পাচারকারীদের বিচারের আন্দোলন আমরা করে যাব।’
আরও পড়ুনযাঁরা লুট করেছেন, তাঁদের ধরেন, কারখানাগুলো চালু থাকুক: ফখরুল৩ ঘণ্টা আগেসার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে রেখে দেশীয় অর্থনীতি তৈরি করার কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ও পুঁজিকে আমাদের আকৃষ্ট করতে হবে, একই সঙ্গে আমাদের দেশীয় পুঁজি ও ব্যবসায়ী শ্রেণি তৈরি করতে হবে, জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। বিনিয়োগ বা পুঁজি আনার ক্ষেত্রে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে দেশ থেকে পুঁজি আনব বা যে দেশকে অর্থনীতিতে বেশি সুযোগ করে দেব, তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে।’
আরও পড়ুনট্যাক্স ভিক্ষুকও দেন, আবার বিশাল শিল্পপতিও দেন: জামায়াতের আমির২ ঘণ্টা আগে.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ন হ দ ইসল ম র জন ত ব দ র জন ত ক আম দ র সরক র ব যবস
এছাড়াও পড়ুন:
রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্সের ইজারা বাতিল করে সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র করার দাবিতে মানববন্ধন
রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্স একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র করার দাবিতে ‘রাজশাহী নগরবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে নগরীর তালাইমারী মোড়ে অবস্থিত ওই কমপ্লেক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও এটি এখন সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে না। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) একটি জনবিরোধী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটিকে লিজ দিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বক্তারা অবিলম্বে এই ইজারা বাতিল করে ভবনটিকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনের সময় মতিহার চত্বর, তথা তালাইমারী মোড় ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, রাজশাহী কলেজ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নাগরিক সমাজ ও আমজনতা আন্দোলন সংঘটিত করে। ভবনটিকে জুলাই ইতিহাসসহ এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস, বরেন্দ্র ভূমির ইতিহাস এবং ১৯৪৭ থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলার আন্দোলন–সংগ্রাম, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস উপস্থাপন এবং সংরক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনের জনবিরোধী ইজারা বাতিলের দাবি জানান এবং এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র’ করার দাবি জানান।
নদীগবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই। শিক্ষানগরীর ধারাবাহিকতা আমরা রাখতে চাই। কিন্তু ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ইতিহাস সংরক্ষণ ও সংস্কৃতিচর্চার উদ্দেশ্যে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়।’
জুলাই ৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, ‘৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর আমরা আশা করেছিলাম, দখলবাজি ও অন্যায়ের অবসান হবে। কিন্তু ভবনটি নানা কৌশলে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে এখানে ইতিহাস সংরক্ষণ ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্র-জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।’
রাজশাহী মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা বলেন, ‘ভবনটি হওয়ার কথা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে অডিটরিয়াম, আর্ট গ্যালারি, ও নাট্যশালা থাকবে। রাজশাহীতে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধার অভাব আছে। অথচ এটিকে একটি বেসরকারি স্কুলকে লিজ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, এটি তার মূল উদ্দেশ্যে ফিরে আসুক।’
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তালাইমারী মোড়ে ১২ হাজার ৫১৮ বর্গমিটার জমিতে ৬০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি ‘বঙ্গবন্ধু স্কয়ার’ নামে শুরু হলেও পরে নাম পরিবর্তন করে ‘আরডিএ কমপ্লেক্স’ রাখা হয়। সম্প্রতি ২৯ হাজার ৫০০ বর্গফুট স্পেস মাসে ৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকায় ১০ বছরের জন্য দেবাশীষ প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়, যিনি পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্কুলকে ভাড়া দেন। ইতিমধ্যে স্কুলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হোসেন আলী পিয়ারা, নারীনেত্রী ঈশিতা ইয়াসমিন, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাসের সভাপতি শামীউল আলীম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ওয়ালিউর রহমান প্রমুখ।
এর আগে ৫ নভেম্বর ৩৬ জুলাই ছাত্র পরিষদ নামে একটি সংগঠন ইজারা বাতিল চেয়ে মানববন্ধন করে।
আরডিএ কমপ্লেক্স স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল তারিক বলেন, ‘আজ কারা কর্মসূচি পালন করেছেন, তা মাত্র জানলাম। এ বিষয়ে জেনে পরে মন্তব্য করতে পারব।’