চাঁদাবাজি বন্ধ করাটাই বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: জোনায়েদ সাকি
Published: 29th, November 2025 GMT
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই খাতেই চাঁদাবাজি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান বিষয়। এই চাঁদাবাজি বন্ধ হবে কি না, এটাই বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘বখরাজীবিতা (চাঁদাবাজি) যদি বন্ধ হয়, এই দেশের মানুষ তাঁদের সৃজনশীলতা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কাজেই এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আরও লোককে বখরাজীবিতার ভাগে যুক্ত করে লোকজনকে ঠান্ডা রাখা হবে, না কি বখরাজীবিতা থেকে বেরিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করা হবে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে ‘অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন। ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বণিক বার্তা।
চাঁদাবাজিকে দেশের পুরো অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি চালনার মাধ্যম উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ চলে গেছে, সেই শূন্যস্থান কেউ না কেউ পূরণ করবে এবং পূরণ হচ্ছে; যার ফলে নতুন চাঁদাবাজি দৃশ্যমান। অর্থনীতি যে বড় জায়গায় যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে কিংবা যাওয়াটা আবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে, সেই জায়গায় যেতে হলে এই চাঁদাবাজি দিয়ে লোকজনকে ঠান্ডা রাখার এত দিনকার রাজনৈতিক অর্থনীতি ও রাজনীতি—এই দুটো আর চলবে না।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা সরকার নিজেই এবং লাল ফিতা বা আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্র যেভাবে ব্যবসাকে নিরুৎসাহিত করে, সেটা যদি বন্ধ না হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো যাবে না। অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জায়গা থেকে নতুন রাজনীতির জন্ম দিতেই হবে। বখরাজীবিতা বন্ধ হতে হবে, ওয়ানস্টপ সার্ভিস হতে হবে।
বাংলাদেশে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় খরচে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন জোনায়েদ সাকি।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিবিদ্ধ ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের একজন মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিবিদ্ধ দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের একজন মারা গেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, আঘাতের কারণে ২০ বছর বয়সী সারাহ বেকস্ট্রম মারা গেছেন। ন্যাশনাল গার্ডের আহত আরেক সদস্য ২৪ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু উলফের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসের কাছে ফারাগুট স্কয়ারে স্থানীয় সময় বেলা সোয়া দুইটার দিকে খুব কাছ থেকে ওই দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করা হয়। হামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল (২৯)। তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান।
২০ বছর বয়সী সারাহ বেকস্ট্রম ২০২৩ সালের ২৬ জুন ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের ৮৬৩তম মিলিটারি পুলিশ কোম্পানিতে নিযুক্ত করা হয় তাঁকে।থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে মার্কিন সামরিক সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প সারাহ বেকস্ট্রমের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ দুই ন্যাশনাল গার্ডের একজন সারাহ বেকস্ট্রম আর আমাদের মধ্যে নেই। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ও অসাধারণ মানুষ।’ হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিবিসি নিউজকে জানান, পরে ট্রাম্প সারাহর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
সারাহ বেকস্ট্রম ২০২৩ সালের ২৬ জুন ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। তাঁকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের ৮৬৩তম মিলিটারি পুলিশ কোম্পানিতে নিযুক্ত করা হয়।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জিম জাস্টিস বলেন, সারাহ বেকস্ট্রমের মৃত্যুর খবরে তিনি ‘পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন’।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ন্যাশনাল গার্ডের তিন সদস্যের কাছে এগিয়ে যান। তিনি গুলি ছোড়া শুরু করার আগপর্যন্ত খুব সম্ভবত রক্ষীরা তাঁকে খেয়ালই করেননি। হামলাকারী প্রথমে এক ন্যাশনাল গার্ডকে গুলি করেন, তারপর আরেকজনকে।ঘটনার দিন সেভেনটিনথ ও আই স্ট্রিট মোড়ে টহল দিচ্ছিলেন সারাহ বেকস্ট্রম এবং তাঁর সহকর্মী অ্যান্ড্রু উলফ। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ বলেছে, গতকাল বেলা সোয়া দুইটার দিকে সন্দেহভাজন এক হামলাকারী এক ন্যাশনাল গার্ডকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়েন।
আরও পড়ুনওয়াশিংটন ডিসিতে হামলা: আসলে কী ঘটেছিল, সন্দেহভাজন কে১৩ ঘণ্টা আগেসিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ন্যাশনাল গার্ডের তিন সদস্যের কাছে এগিয়ে যান। তিনি গুলি ছোড়া শুরু করার আগপর্যন্ত খুব সম্ভবত রক্ষীরা তাঁকে খেয়ালই করেননি। হামলাকারী প্রথমে এক ন্যাশনাল গার্ডকে গুলি করেন, তারপর আরেকজনকে।
পরে সংঘর্ষের সময় সন্দেহভাজন হামলাকারীও গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন।
আরও পড়ুনহোয়াইট হাউসের কাছে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি২৬ নভেম্বর ২০২৫