টাকায় কেনা যায় এমন একটা গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছি: বদিউল আলম মজুমদার
Published: 29th, November 2025 GMT
নির্বাচনে কালোটাকার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘নির্বাচনটা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। টাকা দিয়ে কেনা যায়, এমন একটা গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছি। কালোটাকার এই প্রভাবকে দূরীভূত করতে হবে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ বিষয়ে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একটা টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয় সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। সেই মনজিলে মকসুদে পৌঁছাতে হলে অনেকগুলো সংস্কার প্রয়োজন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা নির্বাচনী অঙ্গনটা পরিচ্ছন্ন নয়, বরং অস্বচ্ছ। এটাকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন দূরীভূত করতে না পারলে আমাদের আবারও পণ্ডশ্রম হবে।’
একসঙ্গে দল, সরকার ও সংসদের প্রধান হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার হয়ে ওঠেন। এ ক্ষেত্রে সংস্কার না হলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে বাধ্য। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন, কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিটা রয়ে গেছে। এটা যদি পরিবর্তন না হয়, আবার আরেকজন আসবে সেই পথ ধরেবদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিকনির্বাচনটা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘টাকা দিয়ে কেনা যায়, এমন একটা গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছি। কালোটাকার এই প্রভাবকে দূরীভূত করতে হবে। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে কেউ সত্য কথা বলে কি না, জানি না। তারপরও এটাকে যদি যাচাই-বাছাই করা হয়, তাহলে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনকে পরিচ্ছন্ন করা যাবে। দুর্বৃত্তদের দূরে রাখলে নির্বাচনে টাকার খেলা কিছুটা হলেও বন্ধ করা যাবে।’
শুধু সংস্কার করলেই হবে না, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন সুজন সম্পাদক। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমেরও ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি স্বাধীন হয়, দলনিরপেক্ষভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হতে পারে। এর জন্য কতগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার। এর বাইরে কিছু কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।
সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতার সমালোচনা করে বদিউল আলম বলেন, একসঙ্গে দল, সরকার ও সংসদের প্রধান হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেন। এ ক্ষেত্রে সংস্কার না হলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে বাধ্য। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিটা রয়ে গেছে। এটা যদি পরিবর্তন না হয়, আবার আরেকজন আসবে সেই পথ ধরে।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়: মির্জা ফখরুল
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটময় বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া দুদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে ডাক্তাররা বলেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টন জামে মসজিদে দোয়ার আয়োজনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে আজ সারা দেশের মসজিদে মসজিদে দোয়ার আয়োজন করে বিএনপি।
নয়াপল্টন মসজিদে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণে সবচেয়ে বড় অবদান খালেদা জিয়ার। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। আপনারা জানেন, দুই দিন ধরে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ জন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য, সারা দেশের জনগণের কাছে বাদ জুমা দোয়া চেয়েছি।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ করে দেন। সুস্থ অবস্থায় আবার জনগণের মধ্যে ফিরে এসে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দেন।
নয়াপল্টন জামে মসজিদে দোয়ার আয়োজনে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরাও অংশ নেন।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, খালেদা জিয়ার হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।