রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলের ছয় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। ফলে আজ শনিবার সকাল থেকেই অঞ্চলটি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার কারণে রাজধানী কিয়েভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া আশপাশের এলাকার মানুষও বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০০ ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে তিনজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।

শীতের আগেই ইউক্রেনের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তিচুক্তি নিশ্চিতের প্রচেষ্টা চললেও হামলা অব্যাহত রেখেছে মস্কো।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সহায়তা করে, এমন জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

কিয়েভের বিভিন্ন স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ডিটেক এনার্জি। আজ প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি পরিবারের বিদ্যুৎ–সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি রাতভর চালানো হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আজ সকালেও কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আগুন ধরে যাওয়া বিভিন্ন ফ্ল্যাটে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে।

কিয়েভের মেয়র বলেছেন, হামলায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ বছরের একটি শিশুও রয়েছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ৫৫৮টি ড্রোন ও ১৯টি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এর পর থেকে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। দেশটিতে শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে মস্কো। ফলে ইউক্রেনের অনেক নাগরিককে প্রতিদিনই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

আগামীকাল রোববার তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ইউক র ন র ব অবক ঠ ম

এছাড়াও পড়ুন:

ফ্যাসিবাদী কাঠামো রেখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে: ডাকসু ভিপি

পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ ও জুলাই স্মৃতি: শাবিপ্রবি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু আজকে দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো বলতে শুরু করেছে যে নির্বাচিত সরকার এলে গণভোট, সংবিধান, সংস্কারগুলো হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, এই জুলাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়েছে। সব ফ্যাসিবাদী কাঠামো, ফ্যাসিবাদের দোসর ও খুনি হাসিনার বিচার করা ছাড়া এই প্রজন্ম থামবে না।’

সব ছাত্রসংগঠনকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সেটা যে-ই হোক, ছাত্রদল হোক বা ছাত্রশিবির—বাংলাদেশপন্থী সবাইকে এক হতে হবে। এখন যারা আমাদের শত্রু, তাদের মোকাবিলা না করে যদি নতুন বাংলাদেশে আবারও স্পেস দেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় ষড়যন্ত্র হবে। জুলাইকে নানা উপায়ে ছোট দেখানোর চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, এটা নাকি শুধু একটা আন্দোলন কিংবা ক্ষমতার পালাবদল।’

দলমত-নির্বিশেষে জুলাই বিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘যখন সব রাজনৈতিক দল এককভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সব সাধারণ ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দল একত্রে দল ও মতকে ঊর্ধ্বে রেখে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই মুহূর্তকে ভুলে যাচ্ছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই আমাদের সবাইকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে এক ও একতাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ