এমবিবিএসে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ১০ জনকে ইউনিভার্সেল মেডিকেলের সম্মাননা
Published: 29th, November 2025 GMT
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় (মে-২০২৫) সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ১০ নবীন চিকিৎসককে সম্মাননা দিয়েছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রথমবার আয়োজিত ‘টপ টেন জিনিয়াস ইন্টার্ন ডক্টরস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন। সম্মাননাপ্রাপ্তদের ক্রেস্ট ও মেডেল দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া চিকিৎসকেরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের উমাইর আফিফ (প্রথম), মিথিলা ফারজানা (চতুর্থ), এ আর জান্নাতুল নাঈমা (ষষ্ঠ), শাহ মো.
পরীক্ষায় প্রথম হওয়া উমাইর আফিফ নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আজকের এটি কেবল সম্মাননা হিসেবে নয়, প্রেরণা হিসেবেও কাজ করবে। আমি চাই, এটি কেবল মেডিকেল কলেজেই নয়, অন্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যেন এ রকম আয়োজন করা হয়।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ১১২টি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ এ বছর দুটি নতুন মেডিকেল কলেজ এসেছে। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মিলে এ বছর ১১ হাজার ১০১ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যাঁরা পাস করে বের হন, তাঁদের বড় দায়িত্ব। দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যা কিছু করতে হয়, তা সবাই মিলে করতে হয়।
প্রথম হওয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের উমাইর আফিফের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী। ঢাকা, ২৯ নভেম্বরউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ইউন ভ র স ল ম ড ক ল ম ড ক ল কল জ র ল ম ড ক ল কল জ অন ষ ঠ ন
এছাড়াও পড়ুন:
চন্দ্র কেন কম আলো দেয়
আদিকালের কথা। সূর্য তার সন্তানসন্ততি নিয়ে আকাশে বিচরণ করত। সূর্যের ছিল প্রখর তাপ। তার সন্তানদের তাপও কম ছিল না। একেকজন ছিল সূর্যের মতোই তেজোদ্দীপ্ত। পিতা ও পুত্ররা এক হয়ে আকাশে উঠত। ফলে দিনের বেলায় প্রখর তাপে পৃথিবীর সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠল।
এত তাপে মানুষ চলাফেরা করতে পারত না। অন্যান্য প্রাণী ও গাছপালাদের জীবনও যায় যায়।
সূর্যের তাপ থেকে নিজেদের বাঁচাতে সবাই ছুটে গেল সূর্যের বোন চন্দ্রের কাছে। সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল সে। এরপর চন্দ্র এক বুদ্ধি আঁটল।
কী সেই বুদ্ধি?
চন্দ্র জানত তার ভাই সূর্য কী কী খেতে পছন্দ করে। একদিন সে খরগোশের মাংস রান্না করে সূর্যকে দাওয়াত করে।
সূর্যের ছিল প্রখর তাপ। তার সন্তানদের তাপও কম ছিল না। একেকজন ছিল সূর্যের মতোই তেজোদ্দীপ্ত। পিতা ও পুত্ররা এক হয়ে আকাশে উঠত। ফলে দিনের বেলায় প্রখর তাপে পৃথিবীর সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠল।সূর্য আদরের বোন চন্দ্রের বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়।
ছোট বোন ভাইকে যত্ন করে খরগোশের মাংস খাওয়াল।
তা খেয়ে সূর্য তো আত্মহারা।
এমন সুস্বাদু মাংস সে আর কখনোই খায়নি। সূর্য ভাবতে থাকল, এটা কিসের মাংস? কিন্তু বোন থেকে কীভাবে সে জানবে এর উত্তর!
বোনকে সে আড়ালে ডেকে নিল। এরপর জিজ্ঞাসা করল, ‘চন্দ্র, তোমার রান্নার তুলনা হয় না। কিন্তু এমন মজাদার মাংস আমি কখনো খাইনি। এটা কিসের মাংস?’
চন্দ্র ভাই সূর্যকে উত্তরে বলে, ‘তুমি হয়তো বিশ্বাস করবে না, এ আমারই সন্তানদের মাংস।’
খানিক গম্ভীর হয়ে সে সূর্যকে আরও বলে, ‘তোমার সন্তানদের মাংস এর চেয়েও সুস্বাদু হবে। তুমিও আমার মতো তাদের মাংস খেয়ে দেখতে পারো।’
প্রিয় বোন চন্দ্রের কথাগুলো সূর্যের মনে গেঁথে গেল। সূর্য বাড়ি ফিরেই বোনের কথায় একে একে সব সন্তানকে রান্না করে খেয়ে ফেলল।
সূর্যের সন্তানেরা না থাকায় পৃথিবীতে তাপ গেল কমে।
এভাবে চন্দ্রের বুদ্ধিতে রক্ষা পেল গোটা পৃথিবী।
আনন্দে কাটতে থাকল মানুষ ও অন্য প্রাণীদের জীবন।
কিন্তু পালিয়ে গিয়ে বেঁচে রইল একটি তারা। তার নাম—‘শুকতারা’।
আজও সে আকাশে জ্বলজ্বল করে।
গারো বা মান্দি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা মনে করে, চন্দ্র ও সূর্য ভাই-বোন।
কিন্তু চন্দ্র কেন কম আলো দেয়?
চন্দ্র ছিল খুবই সুন্দরী। ভাই সূর্য থেকে অনেক বেশি উজ্জ্বলও। তার দিকে কেউ তাকাতেও পারত না। কে বেশি সুন্দর, এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো। একজন আরেকজনের পেছনে লেগেই থাকত।
সূর্য বোন চন্দ্রের রূপ–লাবণ্যে হিংসা করতে থাকে। ফলে দুই ভাই–বোনে ঝগড়া চলত নিত্যদিন।
তাদের মা দুজনকেই থামাতেন। রাগ হতেন। ঝগড়া নয়, ভাই-বোনকে মিলেমিশে থাকতে বলতেন।
একদিন ঘটল এক ঘটনা।
চন্দ্র-সূর্যকে বাড়িতে রেখে জরুরি কাজে মা গেলেন বাইরে। সে সুযোগে ভাই–বোনে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। সে ঝগড়া এক সময় রূপ নেয় হাতাহাতিতে। প্রচণ্ড ক্ষেপে যায় সূর্য। মুঠিভরা কাদা নিয়ে সে বোন চন্দ্রের মুখে তা লেপ্টে দেয়।চন্দ্র-সূর্যকে বাড়িতে রেখে জরুরি কাজে মা গেলেন বাইরে। সে সুযোগে ভাই–বোনে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া। সে ঝগড়া এক সময় রূপ নেয় হাতাহাতিতে। প্রচণ্ড ক্ষেপে যায় সূর্য। মুঠিভরা কাদা নিয়ে সে বোন চন্দ্রের মুখে তা লেপ্টে দেয়।
বোনও হয় উত্তেজিত।
ভাই সূর্যকে শায়েস্তা করতে হবে।
তাই মুখের কাদা না ধুয়ে মাকে দেখাতে হবে। সে ওই অবস্থাতেই মায়ের অপেক্ষায় থাকে। বাড়িতে পা রেখেই মা বুঝে যান সবকিছু।
চন্দ্রের কাদামাখা মুখ দেখে তিনি অবাকও হন।
আরও পড়ুননদী মা তুইচংগী১২ নভেম্বর ২০২৫চন্দ্র মুখ দেখিয়ে ভাই সূর্যের বিরুদ্ধে মায়ের কাছে নালিশ দেয়।
কিন্তু মা চন্দ্রের মনোভাব বুঝতে পারেন।
সব শুনে মা চন্দ্রের প্রতি সদয় হন না।
বরং তার এমন আচরণে রাগান্বিত হন। মিলেমিশে না থাকায় মা ক্ষেপে যান।
তিনি মেয়ে চন্দ্রকে বলেন, চিরদিনই তোমার মুখ যেন এমনি কর্দমাক্ত থাকে।
মান্দি বা গারোরা বিশ্বাস করে, সে থেকেই চন্দ্রের মুখে কলঙ্ক লাগে এবং সূর্যের চেয়ে কম আলোর অধিকারিণী হয়।