জাতীয় নির্বাচনের আগে সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিওবিষয়ক আইন করার উদ্যোগে সরকারের ‘ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য’ কাজ করছে বলে মনে করে বিএনপি।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে তাড়াহুড়ো করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাস করাতে চাইছে। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও–সংক্রান্ত আইন। আমরা মনে করি, নির্বাচনের পূর্বে এ ধরনের আইন পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না। আমরা মনে করি, এই আইন দুটি পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে। সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য।’

আরও পড়ুনপুলিশ কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়া নিয়ে শঙ্কা ২৩ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচার গুলি ও বল প্রয়োগের পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে স্বাধীন কর্তৃপক্ষের অধীনে পুলিশ বাহিনী পরিচালনার দাবি ওঠে। এ জন্য পুলিশের চাওয়া ছিল একটি স্বাধীন কমিশন। এই কমিশনই যেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদগুলোর নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনেও কাজ করবে এ কমিশন।

পুলিশ কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য এবং জুলাই সনদে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বশাসিত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে উপদেষ্টাদের একটি কমিটি কমিশনের কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে একটি খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ায় রয়েছে, এই কমিশন পুলিশি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তবে পুলিশ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হবে না।

এদিকে আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে এনজিওগুলোকে অনুমোদন নেওয়ার দরকার হবে না।

বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করার কথা জানিয়ে প্রেস উইং জানায়, এ সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে। এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে। অনুদান অবমুক্তর শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: উপদ ষ ট এ ধরন র অন দ ন এনজ ও সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

দেশে আবারও সোনার দাম বেড়েছে, ভরি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়েছে। এ দফায় ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ হাজার ৪০৩ টাকা। তাতে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। কাল রোববার থেকে সারা দেশে নতুন এ দর কার্যকর হবে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ শনিবার রাতে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর আগে সর্বশেষ ২০ নভেম্বর ভরিতে সোনার দাম কমেছিল ১ হাজার ৩৫৩ টাকা।

জুয়েলার্স সমিতি বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (খাঁটি সোনা) মূল্য বেড়েছে। এ কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও বাড়ানো হয়েছে। যদিও বৈধভাবে সোনা আমদানি খুবই কম। ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বিদেশ থেকে সোনা আসে।

কয়েক মাস ধরেই সোনার দাম উত্থান-পতনের মধ্যে রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর দেশে সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায় দাঁড়ায়, যা এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সর্বোচ্চ।

নতুন দাম অনুযায়ী, কাল থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা হবে। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ১ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকায় বিক্রি হবে।

আজ শনিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ থেকে ২২ ক্যারেটের ভরিতে সোনা ২ হাজার ৪০৩ টাকা, ২১ ক্যারেটে ২ হাজার ৩১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৯৭১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়েছে ১ হাজার ৬৭৯ টাকা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ