দেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখায় চার প্রতিষ্ঠান ও তিন উদ্যোক্তা পেলেন ‘ব্র্যাক ব্যাংক-দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি অ্যাওয়ার্ড।’ দশমবারের এ আয়োজনে মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

এর মধ্যে আইসিটি উইমেন, আইসিটি বিজনেস পারসন ও আইসিটি পাইওনিয়ার এই তিন ক্যাটাগরিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী অবদান রাখায় তিন ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। আর আইসিটি সলিউশন প্রোভাইডার, ডিজিটাল কমার্স, আইসিটি স্টার্টআপ ও স্পেশাল রিকগনিশন ক্যাটাগরিতে চার প্রতিষ্ঠানকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

‘পুরস্কার পেয়েছেন যাঁরা’

ব্র্যাক ব্যাংক-দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি অ্যাওয়ার্ডের ১০ম আসরে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর ‘আইসিটি বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার’ এবং অনলাইনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ডেলিভারির আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা বাংলাদেশের এমডি ও সহপ্রতিষ্ঠাতা আম্বারীন রেজা ‘আইসিটি উইমেন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া ‘আইসিটি পাইওনিয়ার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন বিডি জবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর।

‘আইসিটি সলিউশন প্রোভাইডার’ ক্যাটাগরিতে রিয়েল টাইম মেডিকেল ডকুমেন্টেশনসহ নানা সেবা দেওয়ায় অগমেডিক্স বাংলাদেশকে পুরস্কার দেওয়া হয়। ‘ডিজিটাল কমার্স’ ক্যাটাগরির পুরস্কার পেয়েছে আলিবাবা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশ।

ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ডিজিটালি পরিচালনায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘আইসিটি স্টার্টআপ অ্যাওয়ার্ড’ পায় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান টালিখাতা। দেশের ডিজিটাল ও গিগ অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে পাঠাও। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

প্রযুক্তির জগতে আইটি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রচুর প্রতিভা আছে, যারা এই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। কিন্তু আমরা অংশ নিচ্ছি না কেন? এ প্রশ্ন আমাদেরই করতে হবেমাহফুজ আনাম, সম্পাদক, দ্য ডেইলি স্টার

অনুষ্ঠানে বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদীর বলেন, ‘বিকাশ শুরু করার সময় আমাদের সম্পদ কম ছিল। কিন্তু চ্যালেঞ্জ ছিল কীভাবে এই সীমিত সম্পদকে স্মার্ট ডিজাইনের মাধ্যমে কাজে লাগানো যায়। সমাধান ঠিকঠাক ডিজাইন করতে পারলে সাধারণ ফোন দিয়েও মানুষ সুবিধা পেতে পারে।’

কামাল কাদীর বলেন, বিকাশের মাধ্যমে এখন প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ লেনদেন হয়। কোনো ঋণ না নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি ৩৮২ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বিকাশের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প সফলতা পেয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কর হয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি মাত্র ৩ শতাংশ। গরিব মানুষ টাকা চুরি করে না, তারা সুযোগ খোঁজে।

‘দেশের আইসিটি বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে’

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশে দক্ষ আইসিটি বিশেষজ্ঞ থাকলেও সরকার তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। এ কারণে এখন থেকে আমরা সরকারের বাইরে থাকা আইসিটি বিশেষজ্ঞদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে যুক্ত করতে শর্ত দিয়েছি।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘দেশের আইসিটি বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। আগামী দশকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), বিগ ডাটা বিশেষজ্ঞ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা বাজারে প্রাধান্য পাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে হাইটেক পার্ক নির্মাণে অর্থ দিচ্ছে, কিন্তু এগুলোর অধিকাংশই অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক। এসবের উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু এতে কতটা প্রকৃত উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলতে পারছি না। প্রভাব না থাকায় কিছু প্রকল্পের কিছু অংশ বন্ধ করে দিয়েছি। কিছু প্রকল্প আবার এমন পর্যায়ে গেছে যে এখন আর বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

এ সময় পুরস্কার বিজয়ীদের উদ্দেশে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক হলে একটি দেশকে আর থামানো যায় না। আপনাদের অর্জন প্রমাণ করে বাংলাদেশে প্রতিভা আছে। আমাদের শুধু তা প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম কম। আপনারা এমন সমাধান তৈরি করছেন, যা পরিবার, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসা, রোগী ও পেশাজীবীদের জীবন বদলে দিচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘প্রযুক্তির জগতে আইটি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রচুর প্রতিভা আছে, যারা এই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। কিন্তু আমরা অংশ নিচ্ছি না কেন? এ প্রশ্ন আমাদেরই করতে হবে।’

মাহফুজ আনাম আরও বলেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখব, তবে বাস্তবতার ভিত্তিতে। আমাদের আকাঙ্ক্ষা গড়ব, তবে তথ্যের ওপর। সম্ভাবনার ভিত্তিতে পথ তৈরি করলে প্রতিটি পদক্ষেপ হবে টেকসই। আর প্রতিটি টেকসই অগ্রগতি আমাদের আরও দৃঢ় করবে। আমাদের এখন একসঙ্গে বসে ভাবতে হবে, কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে আমাদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে। এখনই এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: প রস ক র প য় ছ প রকল প র আইস ট আম দ র

এছাড়াও পড়ুন:

ডেমরা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি গ্রেনেড উদ্ধার

রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া থেকে চারটি গ্রেনেড পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থানা থেকে এসব গ্রেনেড লুট হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় গ্রেনেড উদ্ধারের এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব-১০-এর একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১০-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) তাপস কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত আটটার দিকে ডেমরার সারুলিয়ার গরুর হাট নামের একটি স্থান থেকে এসব গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড ডেমরা থানায় হস্তান্তর করা হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ