‘ক্রিকেট এমন, এনিথিং ক্যান হ্যাপেন’
Published: 29th, November 2025 GMT
সহজ ম্যাচ কঠিন করে জেতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিকল্প এখন পর্যন্ত কোনো দল হয়নি নিশ্চিতভাবেই! ইতিহাস ঘুরে ফিরে তাদের দিকেই যায় বারবার। শেষ এক বছরে পাকিস্তানকে বেশ চ্যালেঞ্জই জানাচ্ছে বাংলাদেশ! রেকর্ডটা নিজেদের করে নিতে চাই যেকোনো মূল্যে!
হাস্যরস মনে হলো লিটনদের খেলার গতি, প্রকৃতি সেই কথাই বলছে। নয়তো আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গতকাল যে ম্যাচ জিতেছে সেটাও কেন শেষ ওভারে যাবে? কেনই বা ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়াবে? কেনই বা রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির তৈরি হবে?
আরো পড়ুন:
শাহীন-নওয়াজ-বাবর-সাইমে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন
বিপিএলের নিলামে লিটন, আগেভাগেই দল পেয়েছেন নাজমুল-মিরাজ
ম্যাচের চিত্রটা আগে জানা যাক। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পারভেজ হোসেন ইমনের ঝড়ো শুরুর পর লিটন ও সাইফের ব্যাটে সহজ জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা। পারভেজ ২৮ বলে ৪৩ রান করেন ৫ চার ও ২ ছক্কায়। তিনে নেমে লিটন ৩টি করে চার ও ছক্কায় জয়ের কাজটা সহজ করে দেন। তার সঙ্গে ১৭ বলে ২২ রান করেন সাইফ হাসান।
কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতনে বাংলাদেশ শিবিরে শুরু হয় অস্থিরতা। সহজ ম্যাচ কঠিন বানিয়ে ফেলেন তাওহীদ, সোহানরা। ৮ উইকেটে ৩১ বলে দরকার ৩৩ রান। সেখান থেকে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। দ্রুত ৪ উইকেট তুলে আইরিশরা জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিল। কিন্তু সাইফ উদ্দিন ক্রিজে এসে সব হিসেব পাল্টে দেন। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৭ বলে ১৭ রান করেন ২ চার ও ১ ছক্কায়। শেষে শেখ মাহেদীর দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে নেয় ২ বল আগে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মাহেদী। শেষ সময়ের রোমাঞ্চ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি, ‘‘এটা প্রত্যাশিত (ম্যাচটা ক্লোজ হবে কিনা) করার বিষয় না। টি-টোয়েন্টি খেলা, যেকোনো সময় মোমেন্টাম পরিবর্তন হতে পারে। ওরা যেমন ৬ ওভারে ৮০ রান করে ১ উইকেট ছিল। এরপর কিন্তু অতো রান করতে পারেনি। ক্রিকেট এমন, এনিথিং ক্যান হ্যাপেন।’’
শেষ দিকে নিজেদের ওপর কোনো চাপ নেননি মাহেদী, ‘‘যেহেতু বল টু বল খেললে…একটা বাউন্ডারি হলেই জিতে যাব। আমাদের (সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে) মধ্যে ক্রিটিক্যাল কথা হয়নি কোনো। স্বাভাবিক ছিলাম। শুধু একটা বাউন্ডারির খোঁজে ছিলাম।’’
সাইফ উদ্দিনের কাভারের ওপর দিয়ে মারা ছক্কা ও ডিপ মিড উইকেটে হাঁকানো চার কাজটা সহজ করে দিয়েছে। তার প্রশংসা করে মাহেদী বলেছেন, ‘‘যেদিন ব্যাটসম্যানরা ভালো করেন সেদিন নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং পায় না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক দিন পরপর টেল এন্ডারদের ব্যাটিং করতে হয়। এই জায়গায় অনেকদিন পরে সাইফ উদ্দিন এসে ইনিংসটা খেলছে, আউটস্ট্যান্ডিং! প্রেসার মোমেন্টে এই দুইটা বাউন্ডারি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।’’
একাদশে ফিরে মাহেদী বোলিংয়ে ছিলেন দলের সেরা। ২৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে তার শুরুর বোলিং ভালো ছিল না। প্রথম ওভারে তিনটি চার মারেন টিম টেক্টর। সব মিলিয়ে দেন ১৩ রান। পরে ফিরে এসে ৩ ওভারে খরচ করেন ১২ রান। একই ওভারে পেয়েছেন জোড়া উইকেট।
কিভাবে মানিয়ে নিয়েছেন সেই উত্তর দিতে দিয়ে মাহেদী বলেছেন, ‘‘পাওয়ার প্লে-তে দুজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান আমার জন্য তো একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। রুম করে খেলতেছিল। আমার মাইন্ড নিয়েই খেলতেছিল তারা। যখন পাঁচটা ফিল্ডারের বাইরে থাকে, তখন তো একটু ভালো পরিকল্পনা করা যায়। আমি ওই পরিকল্পনাই করে চেষ্টা করেছি।’’
‘‘ভালো জায়গায় বল করছি। মিডল ওভারে ভালো বল করাতে ওদের আরো ২০-৩০ রান কম হয়েছে। মিডল ওভার অনেক গুরু্বপূর্ণ ছিল। পাওয়ার প্লে ওরা যেভাবে ব্যবহার করছে পরে কিন্তু সেভাবে পারেনি। আমরা ব্যাক করেছি। এজন্য ক্রেডিট দিতে হবে মূল বোলারদের। আমরা সবাই ভালো বল করেছি। আমি বলব যে বোলাররা কামব্যাক করছে, এটা এক্সেপশনাল। বোলাররা যে স্ট্রাগল করে আবার কামব্যাক করছে, হ্যাটস অফ।’’ - বলেছেন মাহেদী।
ঢাকা/ইয়াসিন
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব উন ড র বল ছ ন র ন কর য টসম উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
নিঃসঙ্গ কারাকক্ষে রয়েছেন ইমরান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ফাঁসির আসামি রাখার কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে। ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান ২৭ নভেম্বর এক্সে করা এক পোস্টে এ দাবি করেন। এদিকে গতকাল শনিবারও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের (পিটিআই) নেতা–কর্মীরা তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণের দাবিতে প্রতিবাদ করেছেন।
কাসিম খান বলেছেন, আদালত থেকে তাঁর বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থাকলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বাবাকে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছতার মধ্যে একটি ফাঁসির কক্ষে একাকী বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাবার সঙ্গে তাঁদের কোনো ফোনে কথা হয়নি, কোনো সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর জীবিত থাকার কোনো প্রমাণও দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এমন এক অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছে, যা সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
কাসিম খান আরও বলেন, ‘দিনে ২২ ঘণ্টা একাকী ফাঁসিকক্ষে রাখা, তাঁর চিকিৎসককে দূরে রাখা, ছয় মাস ধরে পরিবারের ফোনকল বন্ধ রাখা, সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া—এসবই মানসিক নিপীড়ন। এটি তাঁর মনোবল ভেঙে ফেলার জন্য পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা।’
জাতিসংঘে আবেদনলন্ডনে বসবাসকারী ২৬ বছর বয়সী কাসিম খান, তাঁর বড় ভাই ২৮ বছর বয়সী সুলায়মান খান ও ইমরানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁরা ইমরানের জীবিত থাকার প্রমাণ উপস্থাপন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইমরান খানের তিন বোন নুরিন খান, আলিমা খান, উজমা খানসহ পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ করছেন। তাঁরা ইমরান খানের সুস্থতার প্রমাণ দেখাতে ও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতির দাবি করে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন। গত শুক্রবার সকালে তাঁরা রাতভর চলা বিক্ষোভ স্থগিত করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে যান এবং কারা সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন।
কাসিম খান ও সুলায়মান খানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার অ্যালিস অ্যাডওয়ার্ডসের কাছে তাঁদের বাবার মামলাটি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, দুই ভাই যদি ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, ইমরান আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে, যার মধ্যে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগও রয়েছে।
সরকারের অবস্থানদ্য ডন–এর খবরে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশি গণমাধ্যমে ইমরান খানের অসুস্থতা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারি ভাষ্য, ইমরান খান ভালো আছেন। গত বুধবার আদিয়ালা কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, ইমরান খানকে কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। তিনি সুস্থ আছেন।
বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিইমরানের সঙ্গে তাঁর বোন ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিরোধীদলীয় জোট। অন্যথায় তারা দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্ট হাউসের বাইরে গত শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধীদলীয় জোট থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।