পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে একটি মেস থেকে প্রত্যাশা মজুমদার (২০) নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাতে নন্দলাল লেনের একটি মেস থেকে প্রত্যাশাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব বলেন, “প্রত্যাশার মৃত্যু হয়েছে গলায় ফাঁস লাগানোর কারণে। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।” 

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাব্য নামে প্রত্যাশার এক বন্ধুকে এক পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে কাব্যর সঙ্গে প্রত্যাশার বন্ধুত্ব। 

মেসের আরেক সদস্য সোনালী সাহা বলেন, “ঘটনার সময় আমি মেসে ছিলাম না। ফোন পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড.

ঝুমুর বলেন, “মেয়েটা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আমার সাথেই ছিল। এরপরই শুনি এই দুঃসংবাদ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, “প্রত্যাশার মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় কাব্য নামের এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”  

ঢাকা/লিমন ইসলাম/ইভা 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

ছয় গোলের থ্রিলারে জমজমাট ড্র বার্সেলোনা-ইন্টারের

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল মানেই উত্তেজনার পারদ চড়া—আর বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলান মিলে সেটিকে নিয়ে গেল অন্য উচ্চতায়। কাতালানদের ঘরের মাঠ অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে দর্শকরা উপভোগ করলেন এক দুর্দান্ত গোলবন্যার ম্যাচ। ম্যাচ শেষে ফল—৩-৩ গোলে ড্র।

মৌসুমের রেকর্ড ৫০ হাজার ৩১৪ দর্শকের সামনে ইউরোপীয় ফুটবলের এই মহারণে উভয় দলই তুলে ধরেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে ১৯৯৯ সালের পর এটিই প্রথম ম্যাচ যেখানে ছয়টি গোল হয়েছে এবং শেষ হয়েছে ড্রয়ে।

ম্যাচ শুরু হতে না হতেই চমকে দেয় ইন্টার মিলান। ম্যাচের মাত্র প্রথম মিনিটেই ডেনজেল ডামফ্রিজের ব্যাকহিল গোল দলকে এগিয়ে দেন মার্কাস থুরাম। এরপর ২১ মিনিটে আবারও দিমারকোর কর্নার থেকে ফ্রান্সেসকো আকেরবির সহায়তায় শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাক্রোব্যাটিকে ব্যবধান বাড়ান ডামফ্রিজ।

তবে ঘুরে দাঁড়াতে দেরি করেনি বার্সা। দুই মিনিট পরই ইয়ামাল ডান দিক থেকে একক নৈপুণ্যে দুর্দান্ত গোল করে ব্যবধান কমান। প্রথমার্ধ শেষের আগে পেদ্রির ফ্লিকে রাফিনিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং তাতে ফেরান তোরেসের শটে গোল করে ২-২ সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্টিনেজের ইনজুরির পর মাঠে নামেন মেহেদি তারেমি। ৬০ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডামফ্রিজ। কিন্তু দ্রুতই গোল শোধ করে বার্সা—ছোট কর্নার থেকে রাফিনিয়ার শট লাগে পোস্টে, সেখান থেকে গোলরক্ষক সোমারের পিঠে লেগে ঢুকে পড়ে জালে—ফলাফল ৩-৩। ৭৫ মিনিটে হেনরিখ মিখিতারিয়ান গোল করে ইন্টারকে আবারও এগিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআরের চোখে পড়ে সামান্য অফসাইড, বাতিল হয় সেই গোল।

এখন সবকিছু নির্ভর করছে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের ওপর, যা হবে ৬ মে, মঙ্গলবার, ইন্টারের ঘরের মাঠ জিউসেপ্পে মিয়াজ্জায়। ওই ম্যাচেই জানা যাবে ফাইনালে কারা প্যারিস সেইন্ট জার্মেই ও আর্সেনালের মধ্যকার বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ