বন্দরে চাঁদার দাবিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি
Published: 12th, May 2025 GMT
বন্দরে চাঁদার দাবিতে গাছ কাটতে বাধাসহ রাবেয়া আক্তার(৩৭) নামে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সালামসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় নিরীহ গৃহবধূ রাবেয়া আক্তার শনিবার (১১ মে) রাতেই বাদী হয়ে সালাম ও তার পুত্রসহ ৪ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, বন্দর থানার মদনগঞ্জ বকুলতলা এলাকার মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে বিবাদী আব্দুস সালাম তার ছেলে শিশির, স্ত্রী আসমা বেগম, মেয়ে কনা আক্তার অভিযোগের বাদিনী রাবেয়া বেগমের প্রতিবেশী।
বাদিনী স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তার সন্তান ও শাশুড়ি নিয়া বাড়িতে একা থাকে। ওই সুযোগে বিবাদীদ্বয় আমাদের নানা ধরনের হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদান করে আসছিল। বাদিনী বসতবাড়ির গাছ কাটিতে গেলে উক্ত বিবাদীদ্বয় তার নিকট হইতে টাকা দাবি করে এবং তাহাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে আমাদের বাড়িতে কোন ধরনের কাজ করিতে দিবে না মর্মে হুমকি দেয়।
গত ৫মে সকাল অনুমান পৌণে ১০টায় আমরা বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ বকুলতলা সাকনিস্থ আমাদের বসতবাড়িতে আমরা শ্রমিক নিয়া একটি কড়ই গাছ কাটিতে গেলে উক্ত বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ছুরি চাকু নিয়া আসিয়া বাঁধা প্রদান করিয়া আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উক্ত ১ ও ২নং বিবাদী আমাদের গাছ কাটার শ্রমিকের পায়ের রগ কাটিয়া ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: হত য ন র য়ণগঞ জ আম দ র
এছাড়াও পড়ুন:
ভাঙছে নদ, কাঁদছে মানুষ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। গত এক মাসে ১০০ পরিবারের বসতবাড়িসহ ফসলি জমি নদে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ পরিবার। হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় বাজার, আবাদি জমি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ায় রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি, সোনাপুর, ঘুঘুমারী ও নামাজেরচর এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা বিলীন হওয়ায় অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এসব এলাকার ভাঙন ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও জিও ব্যাগ ফেলা হয়, তাও নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলে দায় সারে কর্তৃপক্ষ।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ভাঙন কবলিত এলাকা সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী, সোনাপুর ও নামাজের চর পরিদর্শন করেছেন রংপুর পানি উন্নয়ন (পাউবো) সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব। পরে আবারও ১৮ এপ্রিল ওইসব ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিডব্লিউডিবি ডিজাইন সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাইয়াজ জালাল উদ্দিন, ডিজাইন সার্কেলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান। কিন্তু তারা পরিদর্শন করে যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, বছরের পর বছর নদী ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। অথচ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার।
নদী ভাঙনের শিকার শিল্পী খাতুনের পরিবার। তিনি জানান, এক সপ্তাহে আগে তাঁর বসতভিটা নদে বিলীন হয়ে গেছে। নিজের কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে ঠাঁই নিয়ে বাস করছেন। সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি।
নদী ভাঙনের শিকার নাজমা খাতুন বলেন, তাঁর বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে ওই বাড়ি। পরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। আর তাঁর দাদার বাড়িতে রয়েছেন বাবা আমজাদ আলী।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সাজেদা খাতুন জানান, তিন দিন আগে তাঁর বসতভিটা নদে বিলীন হয়ে গেছে। তাঁর যেটুকু আবাদি জমি ছিল, তাও নদে বিলীন হয়ে গেছে। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তারা।
নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের ভাষ্য, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তীব্র ভাঙন। এতে বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন। তাদের চোখের সামনেই সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিল না। তারা এখন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, জিও ব্যাগ ও বান্ডালের টেন্ডার বাতিল করেছে বোর্ড। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থ সংকটের কারণে টেন্ডার বাতিল করে অর্থ মন্ত্রণালয়।