সীমান্ত থেকে ভারতীয় এক কৃষককে ধরে নেওয়া হয়েছে—বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী কৃষকের পরিবার দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর কাছে এমন অভিযোগ করেন। 

এ ঘটনা দর্শনা সীমান্তের কাছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানা এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হৃদয়পুর গ্রামের। 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিনের মত মঙ্গলবার সকালে হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন শেখ বিএসএফ-এর কাছে তার পরিচয়পত্র জমা দিয়ে কাঁটাতার পেরিয়ে জিরো পয়েন্টের কাছে ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে থাকা নিজের জমিতে চাষ করতে যান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরেননি। এরপরই সীমান্তবর্তী অন্যান্য চাষিদের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওই কৃষককে ধরে নিয়ে যায়। 

স্থানীয় আরেক সূত্রের দাবি, ভারতীয় ওই কৃষক জমিচাষের নামে সীমান্তের কাঁটাতার অতিক্রম করলেও তিনি স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে হাতেনাতে ধরে বিজিবি। 

যদিও এ বিষয়ে বিএসএফ ও বিজিবি—কেউ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। 

ঢাকা/সুচরিতা/এনএইচ 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

পাঁচ মাস পর ভারতে ফিরে গেলেন সোনালি

বিএসএফের পুশইনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালি দীর্ঘ ৫ মাস ৮ দিন পর নিজ দেশে ফিরে গেছেন। 

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ ইমিগ্রেশন দিয়ে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

আরো পড়ুন:

‘দৃশ্যম থ্রি’ নিয়ে নতুন খবর পাওয়া গেল

১ লাখ কোটি টাকার পারিবারিক ব্যবসাও সামলান এই তারকা-পত্নী

এ সময় তার সঙ্গে ফিরেছেন ৮ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির শেখ। সীমান্তের শূন্যরেখায় সোনালিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। 

গত ২৬ জুন সোনালিসহ ৬ জন ভারতীয়কে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছয় ভারতীয় কুড়িগ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ২০ আগস্ট পুলিশ তাদেরকে আটক করে। পরে তাদেরকে ফেরত নিতে রাজি হয়নি বিএসএফ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এনামুল হক বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দুজন শিশু হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

ওই ছয়জন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের বাসিন্দা। তারা হলেন— দানিশ শেখ (২৮), তার স্ত্রী সোনালি বিবি (২৬), সুইটি বিবি (৩৩), মো. কুরবান দেওয়ান (১৬), সোনালি বিবির সন্তান সাব্বির শেখ (৮) ও সুইটি বিবির সন্তান মো. ইমাম দেওয়ান (৬)।

আসামিপক্ষের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু জানিয়েছেন, ১ ডিসেম্বর শুনানি শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম ৪ ভারতীয়র জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর ওই রাতেই তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে আত্মীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বাড়িতে উঠেছিলেন। তবে, দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ আবারও তাদেরকে হেফাজতে নেয়। ২ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে তাদেরকে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নয়াগোলায় তারা অবস্থান করছিলেন।

এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক বেলার বলেছেন, মানবিক কারণে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি ও তার ৮ বছরের ছেলে সাব্বির শেখের কাগজপত্র যাচাই শেষে শুক্রবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি চারজনের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে তাদেরকেও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা/শিয়াম/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফিরিয়ে দিল ভারত
  • পাটগ্রাম সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত পাঠাল বিএসএফ
  • অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি, কৃষক দলের নেতাকে বিজিবির হাতে তুলে দিল বিএসএফ
  • ভারতে ফেরত পাঠানো হলো অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তাঁর শিশুসন্তানকে
  • সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবারের মতো স্বজনের মুখ দেখার সুযোগ দিল বিজিবি ও বিএসএফ
  • পাঁচ মাস পর ভারতে ফিরে গেলেন সোনালি
  • কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত