Prothomalo:
2025-11-30@02:23:38 GMT

আন্তন চেখভের সান্নিধ্যে

Published: 30th, November 2025 GMT

বোকার মতো কাজ করো। সফল জীবনের পেছনে ছুটে নিজের শক্তি, মানসিকতা ক্ষয় করার চেয়ে বোকামিই আসলে অর্থবহ আর স্বাস্থ্যকর।আন্তন চেখভ

আমি শহর থেকে শহরে ছুটছি। কেন ছুটছি জানি, কিন্তু কবে ছোটা শেষ হবে জানি না। অস্থির হয়ে পড়ছি ছুটতে ছুটতে। কাউকে না দেখতে পাওয়ার অস্থিরতা। কেউ দেখা দিচ্ছে না, এই ভাবনাও মনের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

এখন আছি রাশিয়ার তুলা শহরে। এ শহরের একটা হাসপাতালে এসেছিলেন ডা.

আন্তন চেখভ। পরোপকারী ডাক্তার হিসেবে বেশ নামডাক ছিল। তিনি সব সময় বলতেন, রোগীর সেবা হলো তাঁর স্ত্রী আর সাহিত্যচর্চা হলো প্রেমিকা। সাহিত্যে অমর, সেবাপাগল ব্যক্তিকে খোঁজার জন্য কেনই বা ছুটব না! যদিও তুলা শহরে আমি এসেছিলাম কাছের ইয়াসনায়া পলিয়ানায় লিও তলস্তয়ের জন্মস্থান দেখতে; কিন্তু আন্তন চেখভ কি তলস্তয়ের কম প্রিয় ছিলেন! তলস্তয়ের শেষ দিনগুলোতে তিনি চেখভের লেখাই পড়তেন বা পড়তে চাইতেন। চেখভও এখানে এসেছিলেন তলস্তয়ের সঙ্গে দেখা করতে।

আরও পড়ুনলিও তলস্তয়ের গ্রামে০৭ অক্টোবর ২০২৫

তুলা শহরের হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে জানলাম আগের হাসপাতালটির অবয়ব আর নেই। ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে ঢুঁ মেরে এসেছি। আউটডোরে এখন কেউ নেই। আর ওপরের তলায় যাওয়ার ইচ্ছা জাগেনি। কারণ, এখানে তো চেখভ হেঁটে বেড়াননি। তিনি এসেছিলেন পুরোনো ভবনে, নিচতলায় ছিলেন কিছুক্ষণ। হাসপাতালের আগের পুরোনো ভবনের ওপর নতুন ভবনটি বেশ ঝাঁ চকচকে। আমার জন্যই বোধ হয় চেখভ বলেছিলেন, ‘বোকার মতো কাজ করো। সফল জীবনের পেছনে ছুটে নিজের শক্তি, মানসিকতা ক্ষয় করার চেয়ে বোকামিই আসলে অর্থবহ আর স্বাস্থ্যকর।’

আমি ট্রেনে করে দুই শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আবার ফিরে আসি মস্কো শহরে। এখানে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে কেটেছিল আন্তন চেখভের বেশ কয়েক বছর। পরিবার–অন্তঃপ্রাণ এই ডাক্তার সাহেব কিন্তু স্ত্রীর প্রতি ছিলেন উদাসীন। নিজের লেখা নাটক মঞ্চস্থ করার সময়ে স্ত্রী ওলগার সঙ্গে পরিচয় হলেও বিয়ের পরও তাঁরা আলাদা আলাদা শহরে বসবাস করতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একাকিত্বকে ভয় পেলে কখনো বিয়ে কোরো না।’ একজন মহান লেখকের চিন্তার জগৎ এবং চিন্তার সৌন্দর্য এখানেই।

এখন আছি রাশিয়ার তুলা শহরে। এ শহরের একটা হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. আন্তন চেখভ। পরোপকারী ডাক্তার হিসেবে বেশ নামডাক ছিল। তিনি সব সময় বলতেন, রোগীর সেবা হলো তাঁর স্ত্রী আর সাহিত্যচর্চা হলো প্রেমিকা।

তুলা শহর থেকে ফিরে এসে আমি গেলাম রুশ সাহিত্যের ছোটগল্পের জ্বলজ্বলে প্রদীপ আন্তন চেখভের মস্কোর বাড়িতে। দেশবাসী তাঁকে শেখভ নামেও ডাকে। মস্কোর এই বাড়ির একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন লেখক।

৬ নম্বর সাদোভায়া কুদরিন্সকায়া স্ট্রিটের লাল রঙের দোতলা বাড়িটির সামনে কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ালাম। নিশ্চয়ই চেখভ এ পথ ধরেই বাড়ি ফিরতেন। যেমন আমি অপেক্ষায় আছি তাঁর বাড়ি ফেরার। কেমন হয়, যদি তিনি হুট করে চলে আসেন!

আশপাশের সব বাড়ি ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু সাদা বর্ডার দেওয়া লাল বাড়িটিই রয়ে গিয়েছে। বাড়িটি এখন মস্কো স্টেট লিটারেরি মিউজিয়াম নামের সংস্থার অন্তর্গত। চেখভ এ বাড়িতে ১৮৮৬ থেকে ১৮৯০ সাল অবধি বসবাস করেছিলেন। এ সময়ে তিনি এই বাড়ির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

চেখভ এ বাড়িতে ১৮৮৬ থেকে ১৮৯০ সাল অবধি বসবাস করেছিলেন

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: এস ছ ল ন র একট

এছাড়াও পড়ুন:

আন্তন চেখভের সান্নিধ্যে

বোকার মতো কাজ করো। সফল জীবনের পেছনে ছুটে নিজের শক্তি, মানসিকতা ক্ষয় করার চেয়ে বোকামিই আসলে অর্থবহ আর স্বাস্থ্যকর।আন্তন চেখভ

আমি শহর থেকে শহরে ছুটছি। কেন ছুটছি জানি, কিন্তু কবে ছোটা শেষ হবে জানি না। অস্থির হয়ে পড়ছি ছুটতে ছুটতে। কাউকে না দেখতে পাওয়ার অস্থিরতা। কেউ দেখা দিচ্ছে না, এই ভাবনাও মনের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

এখন আছি রাশিয়ার তুলা শহরে। এ শহরের একটা হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. আন্তন চেখভ। পরোপকারী ডাক্তার হিসেবে বেশ নামডাক ছিল। তিনি সব সময় বলতেন, রোগীর সেবা হলো তাঁর স্ত্রী আর সাহিত্যচর্চা হলো প্রেমিকা। সাহিত্যে অমর, সেবাপাগল ব্যক্তিকে খোঁজার জন্য কেনই বা ছুটব না! যদিও তুলা শহরে আমি এসেছিলাম কাছের ইয়াসনায়া পলিয়ানায় লিও তলস্তয়ের জন্মস্থান দেখতে; কিন্তু আন্তন চেখভ কি তলস্তয়ের কম প্রিয় ছিলেন! তলস্তয়ের শেষ দিনগুলোতে তিনি চেখভের লেখাই পড়তেন বা পড়তে চাইতেন। চেখভও এখানে এসেছিলেন তলস্তয়ের সঙ্গে দেখা করতে।

আরও পড়ুনলিও তলস্তয়ের গ্রামে০৭ অক্টোবর ২০২৫

তুলা শহরের হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে জানলাম আগের হাসপাতালটির অবয়ব আর নেই। ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে ঢুঁ মেরে এসেছি। আউটডোরে এখন কেউ নেই। আর ওপরের তলায় যাওয়ার ইচ্ছা জাগেনি। কারণ, এখানে তো চেখভ হেঁটে বেড়াননি। তিনি এসেছিলেন পুরোনো ভবনে, নিচতলায় ছিলেন কিছুক্ষণ। হাসপাতালের আগের পুরোনো ভবনের ওপর নতুন ভবনটি বেশ ঝাঁ চকচকে। আমার জন্যই বোধ হয় চেখভ বলেছিলেন, ‘বোকার মতো কাজ করো। সফল জীবনের পেছনে ছুটে নিজের শক্তি, মানসিকতা ক্ষয় করার চেয়ে বোকামিই আসলে অর্থবহ আর স্বাস্থ্যকর।’

আমি ট্রেনে করে দুই শ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আবার ফিরে আসি মস্কো শহরে। এখানে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে কেটেছিল আন্তন চেখভের বেশ কয়েক বছর। পরিবার–অন্তঃপ্রাণ এই ডাক্তার সাহেব কিন্তু স্ত্রীর প্রতি ছিলেন উদাসীন। নিজের লেখা নাটক মঞ্চস্থ করার সময়ে স্ত্রী ওলগার সঙ্গে পরিচয় হলেও বিয়ের পরও তাঁরা আলাদা আলাদা শহরে বসবাস করতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একাকিত্বকে ভয় পেলে কখনো বিয়ে কোরো না।’ একজন মহান লেখকের চিন্তার জগৎ এবং চিন্তার সৌন্দর্য এখানেই।

এখন আছি রাশিয়ার তুলা শহরে। এ শহরের একটা হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. আন্তন চেখভ। পরোপকারী ডাক্তার হিসেবে বেশ নামডাক ছিল। তিনি সব সময় বলতেন, রোগীর সেবা হলো তাঁর স্ত্রী আর সাহিত্যচর্চা হলো প্রেমিকা।

তুলা শহর থেকে ফিরে এসে আমি গেলাম রুশ সাহিত্যের ছোটগল্পের জ্বলজ্বলে প্রদীপ আন্তন চেখভের মস্কোর বাড়িতে। দেশবাসী তাঁকে শেখভ নামেও ডাকে। মস্কোর এই বাড়ির একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন লেখক।

৬ নম্বর সাদোভায়া কুদরিন্সকায়া স্ট্রিটের লাল রঙের দোতলা বাড়িটির সামনে কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ালাম। নিশ্চয়ই চেখভ এ পথ ধরেই বাড়ি ফিরতেন। যেমন আমি অপেক্ষায় আছি তাঁর বাড়ি ফেরার। কেমন হয়, যদি তিনি হুট করে চলে আসেন!

আশপাশের সব বাড়ি ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু সাদা বর্ডার দেওয়া লাল বাড়িটিই রয়ে গিয়েছে। বাড়িটি এখন মস্কো স্টেট লিটারেরি মিউজিয়াম নামের সংস্থার অন্তর্গত। চেখভ এ বাড়িতে ১৮৮৬ থেকে ১৮৯০ সাল অবধি বসবাস করেছিলেন। এ সময়ে তিনি এই বাড়ির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

চেখভ এ বাড়িতে ১৮৮৬ থেকে ১৮৯০ সাল অবধি বসবাস করেছিলেন

সম্পর্কিত নিবন্ধ