Prothomalo:
2025-12-06@19:01:07 GMT

টেকসই সংস্কারে মনোযোগ দিন

Published: 3rd, August 2025 GMT

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কুয়াকাটার মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের আগমন বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কটি বেহাল হওয়ায় পর্যটনের সম্ভাবনা ম্লান করে দিচ্ছে। পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় না এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। বেহাল এ সড়ক জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করেছে। বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক।

টানা বর্ষণ ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে সড়কের পিচ উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে তা আরও গভীর হচ্ছে, যা এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাসচালক ও যাত্রীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এই করুণ চিত্র—আগে যেখানে এই পথে যেতে সময় লাগত দুই ঘণ্টা, এখন সেখানে লাগছে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময় ধরে ঝাঁকুনি, শারীরিক কষ্ট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে যাত্রীরা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বেহাল মহাসড়কটির কারণে শুধু যাত্রীরাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন ব্যবসাও। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা এই সড়কের দুরবস্থা দেখে হতাশ হচ্ছেন। পর্যটকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, সড়কের কারণে বাসের যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে এবং যাত্রী কমে যাওয়ায় তঁাদের ব্যবসাও লোকসানের মুখে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা জরুরি সংস্কারকাজ করছে ও বরাদ্দ পেলে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হবে। কিন্তু এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের জন্য পর্যাপ্ত ও টেকসই বরাদ্দ আগে থেকেই নিশ্চিত করা উচিত ছিল। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ যে বাড়বে, তা অনুমান করা কঠিন ছিল না। তাই সে অনুযায়ী সড়কের অবকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনা আগে থেকেই নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু বিগত সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেয়নি।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই মহাসড়ক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কের কার্যকর ও টেকসই সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। শুধু দায়সারা গোছের মেরামতি নয়, বরং এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় ও ভবিষ্যতে একই সমস্যা বারবার না ঘটে। পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের উচিত এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া। এর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা–বাণিজ্য ও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও যুক্ত। ফলে সড়কটির টেকসই সংস্কারের প্রতি অধিক মনোযোগ কাম্য।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: সড়ক র ব যবস ট কসই

এছাড়াও পড়ুন:

নরসিংদীতে বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদের নামে সড়কের নামফলক উন্মোচন করলেন উপদেষ্টা ফাওজুল

নরসিংদীর পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কটির নাম বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ) সড়ক নামে নামকরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচদোনা মোড়ে সড়কটির নামফলক উন্মোচন করেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

এর আগে পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ (কে জি) গুপ্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে নামফলক উন্মোচন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাওজুল কবির খান।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা বলেন, আজ ইতিহাসে একটি বিচারের দিন। বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, যিনি দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁকে সদ্য স্বাধীন দেশে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকারীরা ভেবেছিল সিরাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। কিন্তু নেভাল সিরাজ নিশ্চিহ্ন হননি, পুনর্জাগরিত হয়েছেন। এটাই হচ্ছে ইতিহাসের বিচার। ইতিহাস বিকৃত করা যায়, কিন্তু সত্য একদিন সামনে আসবেই। আজ সড়কটির নামকরণ করা হচ্ছে বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ (নেভাল সিরাজ) সড়ক নামে। এভাবেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে নিয়ে আসা হবে।

জেলা প্রশাসন বলছে, বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। একাত্তরে নরসিংদীতে ছুটিতে থাকাকালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মনিয়োগ করেন। ৯ ও ১০ এপ্রিল ইপিআরের সঙ্গে মিলে বাগবাড়ি-পালবাড়ি-পাঁচদোনায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ গড়ে তোলেন। তিনি ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে নিজ গ্রাম নেহাবকে কেন্দ্র করে দুই পাশের জনপদে মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ ঘাঁটি থেকেই পাঁচদোনা মোড়সহ অসংখ্য মুখোমুখি এবং গেরিলাযুদ্ধের অপারেশন পরিচালনা করেন। অসমসাহসী বীরত্বের কারণেই মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টর থেকে তাঁকে চার থানার (নরসিংদী, শিবপুর, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের) গেরিলা ইউনিট কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর বিশাল বাহিনী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও যুদ্ধ পরিচালনা করে। তাঁর বীরত্বের কথা দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সদ্য স্বাধীন দেশে সিরাজ উদ্দিন আহমদের আকাশচুম্বী খ্যাতি শাসক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ঈর্ষার কারণ হয়। তাদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পুরিন্দা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি।

বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘ভিন্নমতের জন্যই নেভাল সিরাজকে আততায়ীরা খুন করেছিল। আমরা ভিন্নমতকেই প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বাংলাদেশ বহু মতের দেশ, বহু ধর্মের দেশ। মানুষ বিভিন্ন ধর্মাচরণ করবে, বহুমত ধারণ করবে। কিন্তু মতামতের জন্য আর কাউকে যেন পারসিকিউটেড হতে না হয়। কাউকে যেন হত্যার শিকার হতে না হয়।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। ওই অনুষ্ঠানে সিরাজ উদ্দিন আহমেদের সন্তান মোয়াজ্জেম হোসেন এবং তিন সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ ও তোফাজ্জল হোসেন বক্তব্য দেন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে পরিবর্তনের সরকার উল্লেখ করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, সবাই বলেন, এত দিন তো হয়ে গেল, ‘এই সরকার কিছুই তো করতে পারল না? সব জায়গায় অনিয়ম আর অপকর্ম। এই যে সাংস্কৃতিক অপকর্ম, রাজনৈতিক অপকর্ম, অর্থনৈতিক অপকর্ম—এগুলো শোধরাতেই আমাদের সময় লেগেছে বেশি। বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য সড়ক নির্মিত হয়েছে, যেগুলোর তেমন ব্যবহার নাই। সাবেক রাষ্ট্রপতি নিজ এলাকায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে সড়ক নির্মাণ করেছেন। সেখানে কয়েকটা টেম্পো ছাড়া কিছুই চলে না।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, ‘আপনারা সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন করুন। যাঁর যা মত হোক, যাঁর যা দল হোক যাঁরা বিজয়ী হবেন, আমরা তাঁদের পেছনে দাঁড়াব। কিন্তু যাঁরা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে, আগের মতো ভোটকেন্দ্র দখল বা পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটাবে, তাঁদের সুযোগ দেবেন না।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • নরসিংদীতে বীর প্রতীক সিরাজ উদ্দিন আহমেদের নামে সড়কের নামফলক উন্মোচন করলেন উপদেষ্টা ফাওজুল
  • রাধানগরে ৩৬ ঘণ্টার লড়াই, পিছু হটে পাকিস্তানি বাহিনী
  • সাগরতলে সবচেয়ে দীর্ঘ ও গভীর রাস্তা বানাচ্ছে নরওয়ে