খুলনাকে উড়িয়ে অপ্রতিরোধ্য রংপুর জিতল শিরোপা
Published: 12th, October 2025 GMT
জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরের শিরোপা জিতল রংপুর বিভাগ। আজ রোববার (১২ অক্টোবর) খুলনা বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর। প্রতিযোগিতার প্রথম আসরের শিরোপাও তারা জিতেছিল। দাপুটে ক্রিকেটে এবারও শিরোপা নিজেদের ঘরে তুললো রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করতে নেমে খুলনা বিভাগ ৮ উইকেটে ১৩৬ রান করে। জবাবে ৩ ওভার আগে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর। ব্যাটিং-বোলিংয়ে সমানতালে পারফর্ম করেছে রংপুর। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খুলনাকে কোন সুযোগ দেয়নি তারা।
আরো পড়ুন:
শিরোপা জিততে রংপুরের টার্গেট ১৩৭ রান
টস হেরে ব্যাটিংয়ে খুলনা
ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনার জাহিদ ও নাসির কোন চাপ না নিয়ে অনায়েসে রান করেন। ৭ ওভারে ৬১ রান আসে ওপেনিং জুটি থেকে। জাহিদ ২৭ রানে আউট হলে ভাঙে জুটি। সঙ্গী হারানোর পর নাসির এগিয়ে যান ফিফটির পথে। কিন্তু ৪ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে। নাসির ৩১ বলে ৪৬ রান করেন ৫টি চার ও ১টি ছক্কায়।
তাতে জয় নাগালে চলে আসে। বাকি কাজ সারেন অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ও আকবর আলী। ৫ চারে ৩২ বলে ৪০ রান করেন নাঈম। ১৫ বলে ১৯ রান আসে আকবরের ব্যাট থেকে।
এর আগে খুলনার বিশাল ব্যাটিং লাইনআপ থাকলেও তারা ভালো করতে পারেনি। সৌম্য সরকার ৮, এনামুল হক বিজয় ১২ রান করেন। আফিফ হোসেন ধ্রুব করেন ১৪ রান। ওপেনার ইমরানুজ্জামান ০ ও পারভেজ হোসেন জীবন ৮ রানের বেশি করতে পারেননি।
দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ মিথুন। অধিনায়ক ৩২ বলে ৪৪ রান করেন একটি চার ও তিনটি ছক্কায়। ষষ্ঠ উইকেটে তাকে সঙ্গ দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ১৩ বলে ২৪ রান করেন দুইটি করে চার ও ছক্কায়। খুলনার ব্যাটিং প্রতিরোধ এতটুকুই। বাকিটা সময় ছিল রংপুরের দাপট।
ইনিংসে আট বোলার ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক আকবর। ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল আটে বোলিংয়ে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন। ১টি করে উইকেট নেন নাসুম, হাসিম, ইকবাল, এনামুল ও আলাউদ্দিন বাবু।
বোলিংয়ে তারা খুলনার ব্যাটসম্যানদের উড়তে দেয়নি। খুলনার ইনিংসে চার ছিল ৬টি। আর ছক্কা ৭টি। পুরো ইনিংসে ৫১ বলে কোন রান নিতে পারেননি তারা।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র ন কর ন উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
বিদেশিদের কারা কাকে দলে নিল: নিলাম শেষে দলগুলোর চিত্র
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিপিএল) এর ২০২৫ আসরের নিলামে বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। নিলামে পাঁচ লাখ ডলারের অফার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাজেটে অনেকেই দল পেয়েছেন।
চলুন দেখে নেওয়া যাক কতো টাকায় কারা কাকে দলে ভেড়াল:
আরো পড়ুন:
অবশেষে দল পেলেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক-মুমিনুল
বিপিএলের নিলামে লিটন, আগেভাগেই দল পেয়েছেন নাজমুল-মিরাজ
| দল | ক্রিকেটার | মূল্য (টাকা) |
| রংপুর রাইডার্স | এমিলিয়া গে (ইতালি) | ১২ লাখ |
| রংপুর রাইডার্স | মোহাম্মদ আখলাক (পাকিস্তান) | ১২ লাখ |
| চট্টগ্রাম রয়্যালস | নিরোশান ডিকভেলা (শ্রীলঙ্কা) | ৩৮.৫ লাখ |
| ঢাকা ক্যাপিটালস | দাসুন শানাকা (শ্রীলঙ্কা) | ৬০.৫ লাখ |
| রাজশাহী ওয়ারিয়র্স | দুশান হেমান্থ (শ্রীলঙ্কা) | ২৭.৫ লাখ |
| নোয়াখালী এক্সপ্রেস | ইহসানউল্লাহ (পাকিস্তান) | ৩০.৮ লাখ |
| ঢাকা ক্যাপিটালস | জুবাইরউল্লাহ আকবরি (আফগানিস্তান) | ২২.০ লাখ |
| চট্টগ্রাম রয়্যালস | অ্যাঞ্জেলো পেরেরা (শ্রীলঙ্কা) | ২২.০ লাখ |
নিলামে বিদেশি দলে নেওয়ার ধারা ও দলের পরিকল্পনা:
রংপুর রাইডার্স: প্রথম দিকে বিদেশি খেলোয়াড় নিলামে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তারা গতিশীল দল গঠনের দিকে মন ঘোরায় এবং শেষপর্যায়ে ইতালি ও পাকিস্তানের দুই বিদেশি ক্রিকেটার- এমিলিয়া গে ও মোহাম্মদ আখলাককে দলে অন্তর্ভুক্ত করে।
ঢাকা ক্যাপিটালস: দুই বিদেশিকে দলে নিয়ে তাদের অলরাউন্ডার ও পেস-সম্পর্কিত শক্তি নিশ্চিত করেছে; বিশেষ করে দাসুন শানাকা (৫৫ হাজার ডলারে) এবং জুবাইরউল্লাহ আকবরি (২০ হাজার ডলারে) নিয়ে তারা ব্যালান্সড দলে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স তাদের দল সাজাতে শ্রীলঙ্কা থেকে খেলোয়াড় নিয়েছে (ডিকভেলা, পেরেরা, হেমান্থ), যা তাদের স্পিন/আলরাউন্ড বলিং বিভাগে ভারসাম্য আনবে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: পাকিস্তানি পেসার ইহসানউল্লাহকে ২৮ হাজার ডলার বাজেটে ধরে নিয়ে স্পিন-পেসের মিশ্রক গঠনের দিকে আগ্ৰসর হয়েছে।
নিলামের এই দফাতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি দলই দলে বিদেশি শক্তি যোগ করতে চেয়েছে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বোলিং-ব্যাটিং ভারসাম্য নিশ্চিত করতে। বাজেট অনুযায়ী যারা বেশি বাজি ধরেছেন (যেমন শানাকা), তারা মূলত আলরাউন্ডার বা দারুণ পেসার, যা দলকে স্বাবলম্বী করতে পারে।
অন্য দিকে, যেসব দল শেষ মুহূর্তে দলে ঢুকেছে, তারা হয়তো রিস্ক নিয়েছে- কিন্তু বড় প্রতিদানও পাচ্ছে: কম বাজেটে এমন খেলোয়াড় যারা প্রথম থেকেই দলে কমন ছিল না।
ঢাকা/আমিনুল