‘জাগরণী’র বর্ষপূর্তি,আসছে আরও নতুন কনটেন্ট
Published: 30th, November 2025 GMT
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বছর পূর্ণ করল ছায়ানট। গত বছর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে ‘জগরণী’ নামে একটি বিশেষ আয়োজন শুরু করেছিল তারা। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাগরণীর বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট সম্প্রচার করা হয়েছে প্রতিদিন। মিলেছে দর্শকদের বিপুল সাড়া। দ্বিতীয় বছর থেকে আরও নতুন ধরনের কনটেন্ট সম্প্রচার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার সকালে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানানো হয়। জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনের কার্যক্রম।
লিখিত বক্তব্যে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, জাগরণীতে প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত হয়েছে এমন সব গান, পাঠ-ভাবনা, যা ঘুম ভাঙার মতোই অসংখ্য মানুষের মনকে নতুন করে জাগিয়েছে। শক্তি দিয়েছে, উজ্জীবিত করেছে। এ ছাড়া প্রতি মঙ্গলবার রাত ৯টায় সম্প্রচারিত হয়েছে ‘চিরন্তন’ এবং বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় সম্প্রচারিত হয়েছে ‘গানের নিবিড় পাঠ’। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শনকে মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাগরণীর কার্যক্রম শুরুর আগে ছায়ানটের ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার। এক বছরে তা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ অনুসারীতে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে ইউটিউব ও অন্যান্য মাধ্যমেও অনুসরণকারীদের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরে ‘জাগরণী’র ৩৬৫টি, ‘চিরন্তন’–এর ৪৩টি ও ‘গানের নিবিড় পাঠ’–এর ৪২টি কনটেন্ট সম্প্রচারিত হয়েছে। ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ১৫ লাখের বেশিবার দর্শকেরা দেখেছেন জাতীয় সংগীতের রিলস। এই দর্শকদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। তরুণ প্রজন্মের এই সংযুক্তি তাদের বিশেষভাবে আশাবাদী করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছায়ানটের সহসভাপতি পার্থ তানভীর নভেদ বলেন, যে কনটেন্টগুলো এখন যাচ্ছে, সেগুলো চলবে। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় বছর থেকে নতুন কিছু উপাদান যুক্ত হবে। নতুন কনটেন্টের মধ্যে গবেষণা ও আর্কাইভভিত্তিক উপাদানকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যেমন গানের সঙ্গে থাকবে তার গীতিকার, সুরকার পরিচিত। কোন পরিপ্রেক্ষিতে গানটি লেখা বা গাওয়া হয়েছিল ইত্যাদি।
ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানটের একদল তরুণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজগুলো করছেন। একইভাবে দর্শকদের মধ্যেও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। এটা আমাদের খুবই আশাবাদী করেছে। পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, সেখান থেকে সংগীতকে অবলম্বন করে জাতিসত্তাকে ধারণ করার চেষ্টা করেছিল ছায়ানট। এ রকম আঘাত হানার চেষ্টা আবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাজে মতাদর্শগত বিভাজন দৃশ্যমান হয়েছে। সহিষ্ণুতার বড় অভাব। এ অবস্থা চলতে থাকলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কঠিন হয়ে যায়। সমাজে যাঁরা বিদগ্ধজন আছেন, সম্প্রীতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন ছায়ানটের যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত রায়। ডিজিটাল মাধ্যমের তথ্য–উপাত্ত তুলে ধরেন ছায়ানটের ডিজিটাল আর্কাইভস ও প্ল্যাটফর্মের তত্ত্বাবধায়ক অনিন্দ্য রহমান।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ছ য় নট র কনট ন ট নত ন ক ত হয় ছ জ গরণ
এছাড়াও পড়ুন:
‘জাগরণী’র বর্ষপূর্তি,আসছে আরও নতুন কনটেন্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বছর পূর্ণ করল ছায়ানট। গত বছর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে ‘জগরণী’ নামে একটি বিশেষ আয়োজন শুরু করেছিল তারা। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাগরণীর বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট সম্প্রচার করা হয়েছে প্রতিদিন। মিলেছে দর্শকদের বিপুল সাড়া। দ্বিতীয় বছর থেকে আরও নতুন ধরনের কনটেন্ট সম্প্রচার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার সকালে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানানো হয়। জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনের কার্যক্রম।
লিখিত বক্তব্যে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, জাগরণীতে প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত হয়েছে এমন সব গান, পাঠ-ভাবনা, যা ঘুম ভাঙার মতোই অসংখ্য মানুষের মনকে নতুন করে জাগিয়েছে। শক্তি দিয়েছে, উজ্জীবিত করেছে। এ ছাড়া প্রতি মঙ্গলবার রাত ৯টায় সম্প্রচারিত হয়েছে ‘চিরন্তন’ এবং বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় সম্প্রচারিত হয়েছে ‘গানের নিবিড় পাঠ’। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শনকে মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাগরণীর কার্যক্রম শুরুর আগে ছায়ানটের ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার। এক বছরে তা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ অনুসারীতে উন্নীত হয়েছে। একইভাবে ইউটিউব ও অন্যান্য মাধ্যমেও অনুসরণকারীদের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরে ‘জাগরণী’র ৩৬৫টি, ‘চিরন্তন’–এর ৪৩টি ও ‘গানের নিবিড় পাঠ’–এর ৪২টি কনটেন্ট সম্প্রচারিত হয়েছে। ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ১৫ লাখের বেশিবার দর্শকেরা দেখেছেন জাতীয় সংগীতের রিলস। এই দর্শকদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। তরুণ প্রজন্মের এই সংযুক্তি তাদের বিশেষভাবে আশাবাদী করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছায়ানটের সহসভাপতি পার্থ তানভীর নভেদ বলেন, যে কনটেন্টগুলো এখন যাচ্ছে, সেগুলো চলবে। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় বছর থেকে নতুন কিছু উপাদান যুক্ত হবে। নতুন কনটেন্টের মধ্যে গবেষণা ও আর্কাইভভিত্তিক উপাদানকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যেমন গানের সঙ্গে থাকবে তার গীতিকার, সুরকার পরিচিত। কোন পরিপ্রেক্ষিতে গানটি লেখা বা গাওয়া হয়েছিল ইত্যাদি।
ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানটের একদল তরুণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজগুলো করছেন। একইভাবে দর্শকদের মধ্যেও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। এটা আমাদের খুবই আশাবাদী করেছে। পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, সেখান থেকে সংগীতকে অবলম্বন করে জাতিসত্তাকে ধারণ করার চেষ্টা করেছিল ছায়ানট। এ রকম আঘাত হানার চেষ্টা আবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাজে মতাদর্শগত বিভাজন দৃশ্যমান হয়েছে। সহিষ্ণুতার বড় অভাব। এ অবস্থা চলতে থাকলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কঠিন হয়ে যায়। সমাজে যাঁরা বিদগ্ধজন আছেন, সম্প্রীতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন ছায়ানটের যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত রায়। ডিজিটাল মাধ্যমের তথ্য–উপাত্ত তুলে ধরেন ছায়ানটের ডিজিটাল আর্কাইভস ও প্ল্যাটফর্মের তত্ত্বাবধায়ক অনিন্দ্য রহমান।