দীর্ঘ এক যুগের ঝড় তোলা উপস্থিতি, অসংখ্য ছক্কার বিস্ফোরণ আর ম্যাচ ঘোরানো পারফরম্যান্স; সব মিলিয়ে আইপিএলে আন্দ্রে রাসেল ছিলেন এক অনন্য অধ্যায়। এবার সেই অধ্যায়ের ইতি টানলেন নিজেই। আইপিএলের পরবর্তী নিলামে নাম না তোলার শেষ সময়সীমার দিনই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই লিগকে বিদায় জানালেন তিনি।

২০১৪ এবং ২০২৪; দুইবার কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপা জেতানো এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডারকে এবার ধরে রাখেনি ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে সম্পর্কের সূতা কাটেনি। নতুন ভূমিকায় আবারও ফিরছেন কেকেআরে- ‘পাওয়ার কোচ’ হিসেবে। আর রাসেলও জানিয়ে দিয়েছেন, আইপিএল ছাড়লেও বিশ্বজুড়ে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে থাকবেন তিনি।

আরো পড়ুন:

আফ্রিদিকে পেছনে ফেলে ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন রোহিত

‘ক্রিকেট এমন, এনিথিং ক্যান হ্যাপেন’

এক আবেগি ভিডিও বার্তায় রাসেল বলেন, “আইপিএল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখনও আমি পৃথিবীর বিভিন্ন লিগে খেলব, খেলব সব কেকেআর পরিবারের হয়ে। অসাধারণ সময় কাটিয়েছি, অনেক স্মৃতি, ছক্কার ঝড়, ম্যাচ জেতানো ইনিংস, এমভিপি; সবই মনে থাকবে। কিন্তু একটা সময় এসে পা জোড়া তুলে রাখতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ভেবেছি হ্যাঁ, এটাই সঠিক সময়। আমি চাই না ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যেতে। বরং এমন সময়ে বিদায় নিতে চাই, যখন ভক্তরা বলবে- ‘আরো খেলতে পারতে, তোমার ভেতর এখনও আগুন আছে।’ সেটা ‘অনেক আগেই কেন করলে না’- এর চেয়ে অনেক ভালো।”

২০১৯ সালে আইপিএলের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হওয়া রাসেল কেকেআরের হয়ে জিতেছেন ১৬টি ম্যাচ সেরা পুরস্কার। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান ভিন্ন ভূমিকায়।

তার ভাষায়, “কোলকাতা, আমি ফিরছি। এবার সাপোর্ট স্টাফের অংশ হিসেবে। যখন ‘পাওয়ার কোচ’ শব্দটা শুনলাম, মনে হলো হ্যাঁ, এটাই ড্রে রাসের পরিচয়! ব্যাট হাতে আমার শক্তি, ফিল্ডিংয়ের এনার্জি, বোলিংয়ে আগ্রাসন; আমি প্রতিটি বিভাগে নিজ অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে চাই।”

আইপিএলের ইতিহাসে মাত্র দুইজন ক্রিকেটার ২০০০+ রান ও ১০০+ উইকেটের ক্লাবে আছেন; রাসেল এবং রবীন্দ্র জাদেজা। শুধু কেকেআরের জার্সিতেই ১৩৩ ম্যাচে তার স্ট্রাইক রেট ১৭৪.

৯৬, ছক্কা ২২০। যা তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসের সেরা ম্যাচ উইনারদের একজন বানায়।

ইতিমধ্যে কেকেআরের কোচিং স্টাফেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অভিষেক নায়ের হয়েছেন নতুন হেড কোচ, টিম সাউদি বোলিং কোচ, শেন ওয়াটসন সহকারী কোচ। ডোয়াইন ব্রাভো থাকছেন মেন্টর হিসেবে।

নিলামে ঢোকার আগে কেকেআরের হাতে আছে সবচেয়ে বড় বাজেট- ৬৪.৩ কোটি রুপি। তবে দলে মাত্র ১২ জন খেলোয়াড়। তাই সামনে দল সাজানোর কাজও বেশ কঠিন ও বিস্তৃত হতে চলেছে।

ঢাকা/আমিনুল

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ক ক আর র

এছাড়াও পড়ুন:

শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো ১৩০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) আজ শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

ডিএমসি জানিয়েছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে রাষ্ট্রীয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

ম্যাচ চলাকালেই মারা গেলেন ভেল্লালাগের বাবা

পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ

যদিও ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া শনিবার উত্তরে প্রতিবেশী ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবুও রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার (৭০ মাইল) পূর্বে ক্যান্ডির কেন্দ্রীয় জেলায় আরো ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এখানকার বেশ কয়েকটি এলাকার প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে।

ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কোতুওয়েগোদা কলোম্বোতে সাংবাদিকদের বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।”

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মহেশ গুণাসেকারা বলেছেন, বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষ আটকা পড়েছে। উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, “যদিও ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দেশ থেকে সরে যাচ্ছে, তবুও আমাদের জন্য এখনও এটি শেষ হয়নি।” 

বন্যার কারণে কর্তৃপক্ষ কলম্বো থেকে ভারত মহাসাগরে প্রবাহিত কেলানি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। ডিএমসি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কেলানি নদীর পানি বেড়ে গেছে। ফলে শত শত মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছে।

শ্রীলঙ্কান সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রবাসী শ্রীলঙ্কানদেরকে নগদ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসেকারা কলম্বোভিত্তিক কূটনীতিকদেরকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তাদের সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

ভারত ইতিমধ্যে দুটি বিমান ভর্তি ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। এছাড়াও কলম্বোতে শুভেচ্ছা সফরে থাকা ভারতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য তাদের রেশন দান করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি আরও সাহায্য পাঠাতে প্রস্তুত।

শনিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানীসহ বেশিরভাগ অংশে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবের কারণে দ্বীপের উত্তরের কিছু অংশে এখনও বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার দেশটির সরকারি অফিস ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল দুর্যোগের কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিতে সার্বিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক পানিতে ডুবে যায়। নদী ও জলাধার থেকে পানি উপচে পড়ায় আন্তঃজেলার বেশ কিছু সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩