ত্রিশালে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
Published: 30th, November 2025 GMT
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চার সাংবাদিক। তাঁদের দাবি, বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে এ হামলার সময় তাঁদের মুঠোফোন, ক্যামেরা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘চোরের মোড়’–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছোরহাব উদ্দিন এবং স্থানীয় যুবদল কর্মী হাবিবুর রহমান।
চার সাংবাদিক হলেন ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি মতিউর রহমান, দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ, দৈনিক সকালের সময়ের উপজেলা প্রতিনিধি এস এম মাসুদ রানা ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর উপজেলা প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান। তাঁদের মধ্যে মতিউর রহমান ও এস এম মাসুদ রানাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সকালে মতিউর রহমানকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ওই সাংবাদিকদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে চোরের মোড় এলাকায় জমির মালিকানা দাবি করা নিয়ে তিনজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহের জন্য যান ওই চার সাংবাদিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় ছোরহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল। এ সময় পিটিয়ে মতিউর রহমানের বাঁ পা ভেঙে দেওয়া হয়।
আহত অবস্থায় আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার সময় ইউপি সদস্য ছোরহাবের নেতৃত্বে একটি দল এসে দা-লাঠিসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালায়। একপর্যায়ে মারধর করে ক্যামেরা ও তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে সাংবাদিক সহকর্মীরা খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
আবদুল্লাহর দাবি, ‘এখানে তিনটি বিবদমান গ্রুপ থাকায় এক পক্ষের হয়ে কাজ করছিলেন ইউপি সদস্য ছোরহাব উদ্দিন। সংবাদকর্মীরা সেখানে যাওয়ায় তাঁর উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় আমাদের ওপর হামলা করেছেন।’
এ ঘটনায় মতিউর রহমান বাদী হয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ছোরহাব ও হাবিবুরকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ রোববার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার কথা আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র রহম ন র উপজ ল ছ রহ ব ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
ত্রিশালে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চার সাংবাদিক। তাঁদের দাবি, বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে এ হামলার সময় তাঁদের মুঠোফোন, ক্যামেরা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘চোরের মোড়’–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছোরহাব উদ্দিন এবং স্থানীয় যুবদল কর্মী হাবিবুর রহমান।
চার সাংবাদিক হলেন ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি মতিউর রহমান, দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ, দৈনিক সকালের সময়ের উপজেলা প্রতিনিধি এস এম মাসুদ রানা ও দৈনিক নয়া শতাব্দীর উপজেলা প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান। তাঁদের মধ্যে মতিউর রহমান ও এস এম মাসুদ রানাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সকালে মতিউর রহমানকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ওই সাংবাদিকদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে চোরের মোড় এলাকায় জমির মালিকানা দাবি করা নিয়ে তিনজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহের জন্য যান ওই চার সাংবাদিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় ছোরহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল। এ সময় পিটিয়ে মতিউর রহমানের বাঁ পা ভেঙে দেওয়া হয়।
আহত অবস্থায় আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার সময় ইউপি সদস্য ছোরহাবের নেতৃত্বে একটি দল এসে দা-লাঠিসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালায়। একপর্যায়ে মারধর করে ক্যামেরা ও তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে সাংবাদিক সহকর্মীরা খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
আবদুল্লাহর দাবি, ‘এখানে তিনটি বিবদমান গ্রুপ থাকায় এক পক্ষের হয়ে কাজ করছিলেন ইউপি সদস্য ছোরহাব উদ্দিন। সংবাদকর্মীরা সেখানে যাওয়ায় তাঁর উদ্দেশ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় আমাদের ওপর হামলা করেছেন।’
এ ঘটনায় মতিউর রহমান বাদী হয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ছোরহাব ও হাবিবুরকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ রোববার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার কথা আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।