‘দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই অভাবকে জয় করতে পেরেছি’
Published: 30th, November 2025 GMT
দৃঢ় মনোবল আর প্রচেষ্টা থাকলে কোনো বাধা পেরোনোই কঠিন নয়। দরকার ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রম। আমাদের আশপাশে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজেদের জীবনগাথায় লিখে চলেছেন অদম্য জয়ের গল্প। তাঁদের সেই সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের সীমানা পেরিয়ে সমাজের নানাবিধ প্রতিবন্ধকতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। তেমনই কয়েকজনের গল্প নিয়ে ধারাবাহিক এ আয়োজন। আজ জানব কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিমা খাতুনের জীবন-গল্প।
আমি হিমা খাতুন, জন্ম থেকেই আমার দৃষ্টিশক্তি ছিল না। কুড়িগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমার। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে চোখের চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারেনি। আমার সঙ্গে কথা বলার মতো খুব বেশি মানুষ ছিল না, খেলার কোনো সাথি ছিল না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাসায় বসে কাটাতাম। স্কুলেও যেতে পারিনি। কারণ, কুড়িগ্রামে তখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের লেখাপড়া করার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
বাবা ছিলেন দিনমজুর। তাঁর যেদিন কাজ থাকত না সেদিন আমাদের অনেক কষ্টে পার হতো। মা আমার দেখাশোনা করতেন। যখন একটু বড় হলাম, মা-ও দিনমজুর হিসেবে কাজ শুরু করেন। এভাবে ভাগ্যের হাতে নিজেদের সঁপে দিই আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে থাকি।
মা-বাবা আমার সব রকম যত্ন নেন। সব সময় আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন। বড় হয়ে কী করব, আমার কি কোনো সংসার হবে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর তাঁদের জানা ছিল না। আমার জীবনে যে ভালো কিছু আসবে—এই আশাও তাঁদের ছিল না। একদিন আমার বিয়ের প্রস্তাব আসে। একজন বড় মনের মানুষ আমার সঙ্গে সংসার করতে চান।
আমার বিয়ে হয়। সুখী এক জীবন শুরু করি। কিন্তু সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। স্বামী বাজারে বাদাম বিক্রি করতেন। তাঁর উপার্জন খুবই অল্প। এভাবে আর্থিক অনটনের মধ্যেই কিছুদিন পার হলো। এরপর এল করোনা মহামারি। থমকে গেল সবকিছু। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেল। আমি যে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতাম, তা–ও বন্ধ হয়ে গেল। আমার ভেতরের-বাইরের সব জগৎই যেন অন্ধকার হয়ে গেল। কিছু একটা করার জন্য প্রতিবেশীদের কাছে অর্থসাহায্য চেয়েও পাইনি। সারা দিন চিন্তা করতাম, কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করব।
ওই কঠিন সময়ে জানতে পারি, ব্র্যাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করতে একটি সহায়তা-কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমি অনেক আশা নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিই। কর্মসূচির সদস্য হয়ে জানতে পারি কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত হতে হয়। আমার যতটুকু সক্ষমতা আছে, তা দিয়ে কী কী কাজ করতে পারি।
হিমা খাতুনের লড়াইয়ের গল্প এখন গ্রামের মানুষের মুখে মুখে, তিনি এখন অনেকেরই অনুপ্রেরণার উৎস.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
‘দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই অভাবকে জয় করতে পেরেছি’
দৃঢ় মনোবল আর প্রচেষ্টা থাকলে কোনো বাধা পেরোনোই কঠিন নয়। দরকার ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রম। আমাদের আশপাশে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিজেদের জীবনগাথায় লিখে চলেছেন অদম্য জয়ের গল্প। তাঁদের সেই সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের সীমানা পেরিয়ে সমাজের নানাবিধ প্রতিবন্ধকতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। তেমনই কয়েকজনের গল্প নিয়ে ধারাবাহিক এ আয়োজন। আজ জানব কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিমা খাতুনের জীবন-গল্প।
আমি হিমা খাতুন, জন্ম থেকেই আমার দৃষ্টিশক্তি ছিল না। কুড়িগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমার। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে চোখের চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারেনি। আমার সঙ্গে কথা বলার মতো খুব বেশি মানুষ ছিল না, খেলার কোনো সাথি ছিল না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাসায় বসে কাটাতাম। স্কুলেও যেতে পারিনি। কারণ, কুড়িগ্রামে তখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের লেখাপড়া করার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
বাবা ছিলেন দিনমজুর। তাঁর যেদিন কাজ থাকত না সেদিন আমাদের অনেক কষ্টে পার হতো। মা আমার দেখাশোনা করতেন। যখন একটু বড় হলাম, মা-ও দিনমজুর হিসেবে কাজ শুরু করেন। এভাবে ভাগ্যের হাতে নিজেদের সঁপে দিই আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে থাকি।
মা-বাবা আমার সব রকম যত্ন নেন। সব সময় আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন। বড় হয়ে কী করব, আমার কি কোনো সংসার হবে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর তাঁদের জানা ছিল না। আমার জীবনে যে ভালো কিছু আসবে—এই আশাও তাঁদের ছিল না। একদিন আমার বিয়ের প্রস্তাব আসে। একজন বড় মনের মানুষ আমার সঙ্গে সংসার করতে চান।
আমার বিয়ে হয়। সুখী এক জীবন শুরু করি। কিন্তু সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। স্বামী বাজারে বাদাম বিক্রি করতেন। তাঁর উপার্জন খুবই অল্প। এভাবে আর্থিক অনটনের মধ্যেই কিছুদিন পার হলো। এরপর এল করোনা মহামারি। থমকে গেল সবকিছু। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেল। আমি যে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতাম, তা–ও বন্ধ হয়ে গেল। আমার ভেতরের-বাইরের সব জগৎই যেন অন্ধকার হয়ে গেল। কিছু একটা করার জন্য প্রতিবেশীদের কাছে অর্থসাহায্য চেয়েও পাইনি। সারা দিন চিন্তা করতাম, কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করব।
ওই কঠিন সময়ে জানতে পারি, ব্র্যাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করতে একটি সহায়তা-কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমি অনেক আশা নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিই। কর্মসূচির সদস্য হয়ে জানতে পারি কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত হতে হয়। আমার যতটুকু সক্ষমতা আছে, তা দিয়ে কী কী কাজ করতে পারি।
হিমা খাতুনের লড়াইয়ের গল্প এখন গ্রামের মানুষের মুখে মুখে, তিনি এখন অনেকেরই অনুপ্রেরণার উৎস