গত পাঁচ দশকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অংশীদারদের মধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ছিল সেরাদের একটি। বাংলাদেশ সংস্থাটির সদস্য হওয়ার পর থেকে দেশের খাদ্য ও কৃষি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘এফএও@৮০ অ্যান্ড বাংলাদেশ: আ শেয়ার্ড লিগ্যাসি অব অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রান্সফরমেশন ফর ফাইভ ডিকেডস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন আলোচকেরা।

বৈশ্বিকভাবে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব ও রূপান্তরিত কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ৮০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এফএও। অনুষ্ঠানে সরকারের কর্মকর্তা, এফএও প্রতিনিধি, ঢাকার কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো.

শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ। সবজির ক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী এবং মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এসব অর্জনে বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে ভালো সমর্থন পাচ্ছে। গত পাঁচ দশকে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ সহায়তা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আরও অনেক কিছু পেয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে এফএও ছিল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অংশীদার। তিনি বলেন, ‘৩০০টির বেশি কারিগরি সহায়তা কর্মসূচি এবং অনেক প্রকল্প পেয়েছি, যেখানে মোট বিনিয়োগ ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।’

মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, এফএওর মহাপরিচালক আশ্বাস দিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। সম্প্রতি এফএওর সঙ্গে সুনীল অর্থনীতিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আগামী বছর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই রূপান্তরের পটভূমিতে কৃষির গুরুত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিল্প ও সেবা খাত দ্রুত বিস্তৃত হলেও খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল ভরসা কৃষি। তিনি বলেন, এ কারণেই কৃষি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল ডেটাবেস নির্মাণ, নির্ভুল কৃষিপ্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ, ফসল-উত্তর মূল্য সংযোজন এবং জলবায়ু–সহনশীলতার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে এফএওর প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে চেয়ার ছিলেন এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস উদ্‌যাপন করছি, তখন একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবার জন্য একটি খাদ্যনিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করছি। বাংলাদেশের সরকারের পাশে দাঁড়াতে পেরে এফএও গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা অগ্রগতি, উদ্ভাবন ও যৌথ লক্ষ্য সাধনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশ করছি। যেখানে উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।’

অনুষ্ঠানে কি–নোট বক্তা ছিলেন এফএওর বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি ডিআ সানু। অনুষ্ঠানে এফএওর সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচ দশকের অংশীদারত্বের বিষয়গুলো তুলে ধরে ভিডিও বার্তা দেন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং এফএওর ডিরেক্টর জেনারেল কু ডংইউ। এ সময় এফএওর বাংলাদেশে কারিগরি সহায়তার উল্লেখযোগ্য মাইলফলক নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদস্য হয়। সেই থেকে কৃষি, পুষ্টি, খাদ্য, বন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ ও এফএও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সাল থেকেই এফএও ছিল বাংলাদেশকে ত্রাণ, পুনর্বাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে সহায়তাকারী প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর একটি।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: অন ষ ঠ ন সহ য ত চ দশক

এছাড়াও পড়ুন:

পাঁচ দশকে এফএও বাংলাদেশের অন্যতম সেরা উন্নয়ন অংশীদার

গত পাঁচ দশকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অংশীদারদের মধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ছিল সেরাদের একটি। বাংলাদেশ সংস্থাটির সদস্য হওয়ার পর থেকে দেশের খাদ্য ও কৃষি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘এফএও@৮০ অ্যান্ড বাংলাদেশ: আ শেয়ার্ড লিগ্যাসি অব অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রান্সফরমেশন ফর ফাইভ ডিকেডস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন আলোচকেরা।

বৈশ্বিকভাবে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব ও রূপান্তরিত কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ৮০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এফএও। অনুষ্ঠানে সরকারের কর্মকর্তা, এফএও প্রতিনিধি, ঢাকার কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ। সবজির ক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী এবং মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এসব অর্জনে বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে ভালো সমর্থন পাচ্ছে। গত পাঁচ দশকে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ সহায়তা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আরও অনেক কিছু পেয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে এফএও ছিল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অংশীদার। তিনি বলেন, ‘৩০০টির বেশি কারিগরি সহায়তা কর্মসূচি এবং অনেক প্রকল্প পেয়েছি, যেখানে মোট বিনিয়োগ ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।’

মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, এফএওর মহাপরিচালক আশ্বাস দিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। সম্প্রতি এফএওর সঙ্গে সুনীল অর্থনীতিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আগামী বছর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই রূপান্তরের পটভূমিতে কৃষির গুরুত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিল্প ও সেবা খাত দ্রুত বিস্তৃত হলেও খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল ভরসা কৃষি। তিনি বলেন, এ কারণেই কৃষি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল ডেটাবেস নির্মাণ, নির্ভুল কৃষিপ্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ, ফসল-উত্তর মূল্য সংযোজন এবং জলবায়ু–সহনশীলতার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে এফএওর প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে চেয়ার ছিলেন এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস উদ্‌যাপন করছি, তখন একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবার জন্য একটি খাদ্যনিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করছি। বাংলাদেশের সরকারের পাশে দাঁড়াতে পেরে এফএও গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা অগ্রগতি, উদ্ভাবন ও যৌথ লক্ষ্য সাধনের পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশ করছি। যেখানে উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।’

অনুষ্ঠানে কি–নোট বক্তা ছিলেন এফএওর বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি ডিআ সানু। অনুষ্ঠানে এফএওর সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচ দশকের অংশীদারত্বের বিষয়গুলো তুলে ধরে ভিডিও বার্তা দেন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং এফএওর ডিরেক্টর জেনারেল কু ডংইউ। এ সময় এফএওর বাংলাদেশে কারিগরি সহায়তার উল্লেখযোগ্য মাইলফলক নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদস্য হয়। সেই থেকে কৃষি, পুষ্টি, খাদ্য, বন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ ও এফএও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সাল থেকেই এফএও ছিল বাংলাদেশকে ত্রাণ, পুনর্বাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে সহায়তাকারী প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর একটি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ