সভাপতিসহ ১০ পদে বিএনপি জয়ী, জামায়াত ৩টিতে
Published: 30th, November 2025 GMT
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী মারুফ সরোয়ার সভাপতি এবং একই ফোরামের বিদ্রোহী প্রার্থী অহিদুল আলম খন্দকার (মানি খন্দকার) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাতে ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শহিদুল হক নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার হানিফ উদ্দিন ও ছরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে মোট ১৫টি পদের মধ্যে ১৩টিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ২০৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৯৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সরাসরি ভোটে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে ৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
তাঁরা হলেন সভাপতি মারুফ সরোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক আফরুজা আকতার, গ্রন্থাগার সম্পাদক মোছা.
অপর দিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিদ্রোহী প্রার্থী অহিদুল আলম খন্দকার সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আকসিজুল ইসলাম সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত–সমর্থিত ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল থেকে সহসভাপতি মোর্তুজান হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং সদস্যপদে ইকরামুল হক নির্বাচিত হয়েছেন।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ন র ব চ ত হয় ছ ন আইনজ ব
এছাড়াও পড়ুন:
ইনুর আবেদনে জুলাই বিপ্লবকে ‘সো কলড’ বলা হয়েছে, এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা: তাজুল ইসলাম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনে জুলাই বিপ্লবকে ‘সো কল্ড’ বা তথাকথিত বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুনর্বিবেচনার আবেদনে ইনু জুলাই বিপ্লবকে ‘সো কল্ড’ (তথাকথিত) বলার চেষ্টা করেছেন, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন বাতিলের আরজি জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
২ নভেম্বর এ মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। তারপর সেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন ইনুর আইনজীবী। সেই পুনর্বিবেচনার আবেদন আজ বৃহস্পতিবার অনির্ধারিত তারিখে বাতিলের আরজি জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। অবশ্য এ সময় ইনুর আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
ট্রাইব্যুনাল–২ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। আজকে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।
পরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনে ইনু জুলাই বিপ্লবকে ‘সো কল্ড’ জুলাই বিপ্লব বলার চেষ্টা করেছেন, এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এটা (জুলাই বিপ্লব) বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব। এই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের চেপে বসা স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে। রাষ্ট্রে স্বভাবসুলভ গণতান্ত্রিক চরিত্র ফিরে এসেছে। রাষ্ট্র এখন সংস্কারের মাধ্যমে নতুন যাত্রার দিকে যাচ্ছে। এটাকে সো কল্ড বলাটা ধৃষ্টতা।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনে ইনু আরও বলার চেষ্টা করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করেছে, এটা করার নাকি এখতিয়ার নেই। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। কারণ, বর্তমান সরকার অভূতপূর্ব বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। এই সরকারের আইন প্রণয়নেরও ক্ষমতা আছে। এটা অবৈধ বলার দুঃসাহস দেখানোটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।
ইনুর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদনে দায়মুক্তি দেওয়ার প্রসঙ্গটিও এসেছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সরকার নাকি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন নিষ্ঠুরতার ঘটনাকে দায়মুক্তি দিয়েছে, যা ব্লাটান্ট লাই (স্পষ্ট মিথ্যা)। এ রকম কোনো দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে হাসানুল হক ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে আদালতে শুনানির সময় কথা বলবেন। গণমাধ্যমে কথা বলতে পারবেন না।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক আরও বলেন, আজকে পুনর্বিবেচনার আবেদন তালিকায় এসেছিল, সেটা তাঁরা জানতেন না। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন রয়েছে আগামী রোববার।