এবার রোবটও হার মানল রোনালদোর কাছে
Published: 30th, November 2025 GMT
বয়স ৪০ পেরিয়ে এখন ৪১ ছুঁই ছুঁই। এই বয়সে বেশির ভাগ ফুটবলার বুটজোড়া খুলে রেখে অবসর যাপন করেন। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে ভিন্ন ধাতুতে গড়া! তিনি এখনো শুধু খেলছেনই না, ম্যাচের পর মুগ্ধতাও ছড়িয়ে যাচ্ছেন।
ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৯৫৪ গোল করা রোনালদো ছুটছেন হাজারতম গোলের লক্ষ্যে। প্রায় দুই যুগের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক বিশ্বসেরা গোলরক্ষককে পরাভূত করেছেন তিনি। তবে রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে শুধু মানুষ গোলরক্ষক নয়, এবার হার মানতে হলো ‘অপরাজেয়’ রোবট গোলরক্ষককেও।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতির সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত একটি রোবট গোলরক্ষকের মুখোমুখি হন রোনালদো। রোবটের নির্মাতা মার্ক রোবার ইউটিউবে প্রচার করা ভিডিওতে রোবটটিকে পরিচয় করিয়ে দেন ‘আমার অপরাজেয় রোবট’ নামে। ভিডিওর একপর্যায়ে সেই রোবটের মুখোমুখি হতে দেখা যায় পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
আরও পড়ুনরোনালদো–মেসি: বাইসাইকেল কিকে গোল করায় কে এগিয়ে২৫ নভেম্বর ২০২৫মাঠে আসার পর রোবার রোনালদোকে মজা করে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো (রোনালদো) আমি তোমার সঙ্গে ৫০ লাখ সাবস্ক্রাইবার বাজি ধরছি, তুমি গোল করতে পারবে না।’ এরপর তিনি নিজে গিয়ে গোলরক্ষকের জায়গায় দাঁড়ান এবং রোনালদো প্রতিটি শটে তাঁকে ফাঁকি দিয়ে গোল করেন।
এরপর রোবার রোনালদোকে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো যখন আমি তোমাকে বলেছি, তুমি আমার বিপক্ষে গোল করতে পারবে না, আমি আসলে আমার রোবটের কথা বলেছি।’ এরপরই পোস্টের সামনে গোলরক্ষকের আদলে একটি কাটআউট দেখা যায়। রোনালদো সেটি দেখে মন্তব্য করেন, ‘আমার চেয়ে একটু বড়।’
তখন রোনালদোকে দেখানো হয় সেই রোবট কতটা দ্রুতগতিতে নিজের অবস্থান বদল করতে পারে, প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। যা দেখে রোনালদো বেশ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘খুই দ্রুতগতিসম্পন্ন।’
আরও পড়ুনবিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হচ্ছেন না রোনালদো, খেলতে পারবেন পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ থেকেই ২৬ নভেম্বর ২০২৫এরপর বক্সের বাইরে বল রেখে বাঁ পায়ে রোনালদো হালকা চালে প্রথম শটটি নেন, যা রোবটটি ঠেকিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে রোনালদোর একের পর এক শট ঠেকিয়ে দিতে থাকে রোবটটি। এমনকি রোনালদোর শটে রোবটটির মুখে আঘাতও লাগে। কিন্তু রোনালদো কোনোভাবেই সেটিকে ফাঁকি দিতে পারছিলেন না।
কদিন আগে বাইসাইকেল কিকে গোল করে আলোচনায় এসেছিলেন রোনালদো.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ ল কর
এছাড়াও পড়ুন:
‘হঠাৎ দেখি আমজাদ হোসেন স্যার বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছেন’
ছোট ও বড় পর্দার অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। ক্যামেরার পেছনেও কাজ করেছেন। তবে সবকিছু থেকেই এখন অনেকটা দূরে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। আপাতত স্বামী-সন্তান নিয়েই তার অধিক সময় কাটছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সরব প্রসূন।
দশ বছর আগের শুটিং সেটের একটি ঘটনা ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন প্রসূন আজাদ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন প্রয়াত গুণী পরিচালক আমজাদ হোসেন।
আরো পড়ুন:
অ্যাওয়ার্ড শোয়ে যাওয়ার আগে আমার জ্বর আসে: সাফা কবির
বাবা হলেন নিলয় আলমগীর
স্মৃতিচারণ করে প্রসূন আজাদ বলেন, “ডিরেক্টর সোহেল আরমান সাহেবের নাটকের শুটিং চলছিল। খুবই খুঁতখুঁতে ডিরেক্টর, যা চায় তা না করতে পারলে ক্যামেরা চালু থাকবে। শট শেষ। কঠিন দৃশ্য। এক টেকেই আমাকে সংলাপ বলতে হবে, কাঁদতে হবে, নির্ধারিত জোন ত্যাগ করে চলেও যেতে হবে। সবই করলাম। লাইট পরির্বতন করতে কিছু সময় প্রয়োজন হয়।”
পরের ঘটনা বর্ণনা করে প্রসূন আজাদ বলেন, “আমি অন্য কোনো ঘরে গিয়ে বসার জায়গা খুঁজছি। হঠাৎ দেখি আমজাদ হোসেন স্যার বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। দূর থেকে যা অনুমান করলাম, কিছুক্ষণ আগের যে দৃশ্যটায় আমি অভিনয় করেছি, সেটা দেখে সে কাঁদছে। অথচ আমি, যে কিনা নিজেই সে দৃশ্যে অভিনয় করেছি, আবার ন্যানো সেকেন্ড টাইমের মধ্যে সেটা ভুলে নিজের মতো করে অন্য স্থান পরিবর্তন করেছি। কিন্তু তিনি নড়তে পারেন নাই। তিনি সেই দৃশ্যেই আছেন।”
আমজাদ হোসেনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রসূন আজাদ বলেন, “শিল্পী খুবই মহৎ একটি শব্দ। যেটা আমার সাথে যায় না। অন্তত তাকে দেখে আমার নিজের প্রতি এটাই ধারনা জন্ম নিয়েছে। আমজাদ স্যার আমাকে যখন জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এত কম বয়সে তুই কিছুই শিখিস নাই, কি করে পারিস এত সুন্দর অভিনয় করতে!’ কথাটা শুনে আমার বুক কেঁপে উঠেছিল। উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমি যখন হাপ্পেন পইরা দাদা বাড়ির উঠানে ধুলা-বালিতে খেলতাম, তখন আপনার সিনেমা দেখছিলাম, ভাত দে। তাই পারি...।”
প্রসূন মনে করেন সব প্রজন্ম সবকিছু ধারণ করবে না। তার ভাষায়, “সব প্রজন্ম সব ধারন করবে না। সব আবেগ সবাই বহন করতে পারবে না। মেনে নিয়েই জীবনটা, যাপন করতে হবে। আশা-প্রত্যাশা এসবকিছুর জন্য একটা দেশের বোদ্ধারা স্তম্ভের মতো কাজ করে।”
২০১২ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘অবগুণ্ঠন’ নাটকে অভিনয় করেন প্রসূন। পরবর্তীতে এ পরিচালকের সঙ্গে ক্যামেরার পেছনে কাজ করেন। ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
যদিও মডেলিং ও অভিনয়ে বেশি সময় দিয়েছেন প্রসূন। শফিকুল ইসলাম খানের ‘অচেনা হৃদয়’ প্রসূনের অভিষেক চলচ্চিত্র। পরবর্তীতে তিনি অভিনয় করেন ‘সর্বনাশা ইয়াবা’ ও ‘মুসাফির’, ‘পদ্মপুরাণ’ চলচ্চিত্রে।
ঢাকা/শান্ত