ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে এখন থেকে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সিলেটের আলমপুর বিআরটিসি বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মাস্টার ইন্সট্রাক্টর সার্টিফিকেট প্রাপ্তির লক্ষ্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্স নিশ্চিত করতে ৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’’

তিনি বলেন, দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৭৩ শতাংশের কারণ মোটরসাইকেল। এ সময় সবাইকে মানসম্পন্ন ও বিআরটিএ অনুমোদিত হেলমেট ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরটিএর পরিচালক রুবাইয়াৎ-ই-আশিক। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরটিএ সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী ডালিম উদ্দিন।

ঢাকা/রাহাত/রাজীব

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব আরট এ

এছাড়াও পড়ুন:

পিরোজপুরে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মারধরের পুরোনো ভিডিও ভাইরাল, থানায় অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে (৩৫) ঘরে ঢুকে মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হেলাল সিকদার (৩৫), মিলন সিকদার (৩৮), দেলোয়ার ওরফে দেলাল সিকদার (৩০), নান্নু সিকদার (৩৪) ও মামুন সিকদার (২৭)। তাঁরা একই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ৬ আগস্ট রাতে পরিকল্পিতভাবে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢোকেন হেলাল সিকদারসহ কয়েকজন। তখন তাঁর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। এর আগে এক ব্যক্তি ওই গৃহবধূর স্বামীর খোঁজে বাড়িতে এসেছিলেন। পরকীয়ার অভিযোগ তুলে গৃহবধূসহ ওই ব্যক্তিকে বেঁধে ফেলেন হেলাল সিকদার ও তাঁর লোকজন। এরপর তাঁদের বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় ওই ব্যক্তির বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা না পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘর থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় আপত্তিকর ভিডিওটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার মানসম্মান হারানোর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

মুঠোফোনে ওই গৃহবধূ জানান, ঘটনার দিন স্বামী বাড়িতে না থাকায় মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎ তাঁর স্বামীর ব্যবসায়িক অংশীদার ওই ব্যক্তি বাড়িতে উপস্থিত হন। তিনি ওই গৃহবধূর স্বামীর খোঁজ করছিলেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে না দিতেই সুমন, হেলাল, নান্নুসহ কয়েকজন ঘরে ঢুকে পড়েন। এরপর ওই গৃহবধূর সঙ্গে তাঁর স্বামীর ব্যবসায়িক অংশীদারকে ধরে মারধর করতে থাকেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তাঁদের ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

ওই গৃহবধূর ভাষ্য, ‘আমি এখন বাড়ি যাইতে পারি না, এখন গেলে ১০ লাখ টাকা দিয়ে উঠতে হবে। ওরা আমার ঘরের সব মালামাল নিয়া গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই, আমার মালামাল ফেরত চাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হেলাল সিকদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওই নারীর বাড়িতে একটু জায়গা কিনছি। এই জায়গা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। যখনই দলিল চাই, তখনই ঝামেলা করে। ঘটনার দিন জনগণে মারছে, সেই দায় এখন আমার ওপর চাপাইছে। যারা পরকীয়া হাতেনাতে ধরছে, তারাই ভিডিও করে রাখছে, সেটা এখন সব জায়গায় ছড়াইয়া পড়ছে। আর দোষ পড়ছে আমার। আমি এর কিছুই জানি না।’

এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ