সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে ধষর্ণ চেষ্টার অভিযোগ
Published: 30th, November 2025 GMT
সোনারগাঁয়ে আজিমউদ্দিন নামের এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে মধ্য বয়সী এক ভিক্ষুককে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনা গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ওই ভিক্ষুক বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে তার ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
গত চারদিন বিচারের আশ্বাস দিয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা ধাপা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আজিমউদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
ভূক্তভোগী ওই ভিক্ষুক অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি একজন শ্রবন ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি। তার স্বামী জালাল উদ্দিন ৬ মাস আগে মারা যান। তিনি মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভিক্ষা করিয়া জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে বাইশটেকি গ্রামের মৃত আছমত আলীর ছেলে আজিমউদ্দিন তার টিনের দোচালা ঘরে ঢুকে তার সাথে অকারনে বিভিন্ন কথা বার্তা বলতে থাকে।
একপর্যায়ে আজিম উদ্দিন তাকে জোরপূর্বক স্পর্শকতার স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্যদের জানালে গত চারদিন বিচারের আশ্বাস দিয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা ধাপা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এঘটনার বিচার না পেয়ে গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ওই ভিক্ষুক বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সোনারগাঁ থানা বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা জানান, অভিযুক্ত আজিমউদ্দিন তার দলের কর্মী। আমাদের এলাকার লোক।
আমার সঙ্গে চলা ফেরা। তবে তার বিষয়টি ধাপা চাপা দেওয়ার কিছু নাই। পুলিশ এসেছিল। ওই নারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছেন।
অভিযুক্ত আজিমউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন দেওয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ক্ষুদে বার্তা দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.
উৎস: Narayanganj Times
কীওয়ার্ড: স ন রগ ও ব এনপ ন র য়ণগঞ জ স ন রগ ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: তদন্ত কমিশন
বিডিআর বিদ্রোহে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিশন বলেছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ। আর মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। আমরা দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি। সাক্ষীদের ডাকলাম, কারও কারও ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শুনেছি। যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিলেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের তদন্তের রিপোর্ট সংগ্রহ করেছি, অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করেছি।’
কমিশন প্রধান বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল, অ্যাকশন নিল না?
কমিশন প্রধান বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ সময় তদন্তে কী পাওয়া গেছে, তা নিয়ে কমিশন সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনার কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বের করেছে কমিশন। এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হওয়ার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল।
জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা।
জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা ছিল অপেশাদার। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেন, তাঁদের সঠিক নাম পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করে, যাতে করে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার পায়।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিল। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা স্মরণে রাখবে। জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিল, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি।
মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান নেতৃত্বাধীন এ কমিশনের সদস্যরা হলেন মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এম. আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।