রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক, মানবিক এবং কার্যকর করার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) দ্বিতল কাঠামোয় পাঁচটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও ক্রসিংয়ে সম্পূর্ণ আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন দ্বিতল কাঠামোয় নির্মিত ট্রাফিক পুলিশ বক্স উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। 

আরো পড়ুন:

নিহত ২ জন সন্ত্রাসী পলাশ ও কালা লাভলু বাহিনীর সদস্য: পুলিশ

নোয়াখালীতে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকের ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেবা দেন। কোথাও আবার টিনের ঘরে সার্ভিস দিতে হয়, এটা কোনোভাবে এই শহরের চিত্র হতে পারে না। ডিএমপি আমাদের কাছে অনুরোধ করেছিল আধুনিক পুলিশ বক্স নির্মাণের জন্য। আমরা পুলিশ সদস্যদের জন্য এক সুন্দর, নিরাপদ ও আরামদায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি করছি, যাতে তারা আরো দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”

প্রশাসক আরো বলেন, “নির্মাণকাজের সময় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যাতে পথচারীদের অসুবিধা না হয়। ফুটপাতের উপর কাঠামোটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে নিচ দিয়ে মানুষ নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারে।”

পুলিশ বক্সগুলোকে নারীবান্ধবভাবে নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন,
“প্রথমে একটি টয়লেটের কথা ভাবা হলেও পরবর্তীতে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরো কাঠামোটি ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট এবং পরিবেশবান্ধব স্ট্রাকচার হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে।”

ঢাকার মিরপুর-১৩ (হারম্যান মেইনার স্কুলের পাশে), সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে, পুলিশ প্লাজার পাশে (ফজলে রাব্বি পার্ক সংলগ্ন) এবং সোনারগাঁও ইন্টারসেকশনসহ মোট চারটি স্থানে স্মার্ট ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধাণ প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দীন এবং ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) সুফিয়ান আহমেদ আশা করেন, নতুন স্মার্ট ট্রাফিক পুলিশ বক্সগুলো চালু হলে নগরবাসী আরো দ্রুত, নিরাপদ ও উন্নতমানের ট্রাফিক সেবা পাবে। 

ঢাকা/এএএম/বকুল 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ট র ফ ক প ল শ বক স ড এনস স সদস য

এছাড়াও পড়ুন:

দেশজুড়ে পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম বন্ধে সমন্বিত অভিযান

দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ এবং পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম বন্ধে দিনব্যাপী সমন্বিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। 

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ, পঞ্চগড়, ঢাকা মহানগর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে একাধিক পরিবেশ লঙ্ঘনকারী যানবাহন, প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

সুনামগঞ্জ জেলার সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ লঙ্ঘন করে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে মোবাইল কোর্ট পাঁচটি যানবাহনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করে এবং পাঁচটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে। অভিযান পরিচালনা করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান হৃদয় এবং প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় চালক ও জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও যানবাহনে স্টিকার লাগানো হয়।

পঞ্চগড়ে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত অভিযানে নির্মাণসামগ্রী পরিবহণকারী একটি ট্রাককে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পণ্য পরিবহন করার অপরাধে ৫০০ টাকা জরিমানা এবং শব্দদূষণকারী দুটি ট্রাকের বিরুদ্ধে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। চারটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী এবং প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী।

ঢাকা মহানগরের সেগুনবাগিচায় নির্মাণাধীন আনন্দ ভবনের কার্যক্রম পরিদর্শনে দেখা যায়, রড কাটার মেশিন ও মিক্সার মেশিন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং বালির স্তূপ ত্রিপল দিয়ে ঢাকা আছে। বিধিমালা অনুযায়ী ভবিষ্যতে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নোটিন প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার।

শরীয়তপুরে শব্দদূষণবিরোধী অভিযানে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে দুটি ট্রাকের চালককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং চারটি হর্ন জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ তামিম এবং প্রসিকিউটর ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান।

নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে পরিচালিত অভিযানে ফতুল্লার একটি পরিবেশবিরোধী বুনন ডাইং কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ, ইটিপি নির্মাণ ও এটিপি স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শেরপুরে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৮৮ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ এবং মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শুভাগত সরকার বর্ণ এবং প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিদর্শক সুশীল কুমার দাস।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে দুটি ট্রাকের চালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং চারটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলায় বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২ লঙ্ঘনের দায়ে নির্মাণসামগ্রী খোলা অবস্থায় রাখার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির দায়ে এক দোকানিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ও ৪৯ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বিক অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলো জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা/এএএম/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ