দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর এখন তাঁদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে।

এনসিপি সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে কয়েক ধাপে। প্রথম ধাপে চলতি সপ্তাহেই শ খানেক আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন জানিয়েছেন।

এনসিপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছেন। এরপরও অনেককে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনের জন্য দেড় হাজারের বেশি দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। অনলাইন–অফলাইন মিলিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অধিকাংশের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা জানান, দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকেরা এখন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে কার কেমন অবস্থান আছে, সেটাও বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাচাই–বাছাই শেষে দলের রাজনৈতিক পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে কয়েক ধাপে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে এনসিপির সঙ্গে কয়েকটি দলের জোটের আলোচনাও চলছে। জোট হলে শরিকদের আসনে এনসিপির প্রার্থী থাকবে না।

জানতে চাইলে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রার্থী তালিকা তৈরি হতে দুই দিন লাগবে। তালিকা তৈরি হওয়ার পর প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: এনস প র

এছাড়াও পড়ুন:

বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষ একই সময় ও একই স্থানে সমাবেশ ডাকার ঘোষণা দেওয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। পরে ‘ইউএনও আলফাডাঙ্গা’ নামে উপজেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আদেশটি প্রচার করা হয়।

এ বিষয়ে রাসেল ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি শনিবার বেলা ৩টায় আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সমাবেশ করার কর্মসূচি দেয়। এতে প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের।

অন্যদিকে একই দিন, একই সময় এবং একই স্থানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আরেকটি পক্ষ সমাবেশ আহ্বান করে। এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে ও ৭ নভেম্বর বিপ্লবী সংহতি দিবসে বোয়ালমারীতে দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে ফরিদপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনুর।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।

খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমরা বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম ঝুনুর (শামসুদ্দিন মিয়া) সমর্থকেরা প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য মাইকিং করছেন। দুই পক্ষ সমাবেশ ডাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। কর্মসূচির বিষয়ে জেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব।’

শামসুদ্দিন মিয়া-সমর্থিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোসবুর রহমান খোকন বলেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে ও ৭ নভেম্বরের সহিংসতায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা) আসনে দলটি প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এখানে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া বিভিন্ন সময় এলাকায় সভা-সমাবেশ করেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ৪৫তম বিসিএস নন-ক্যাডার: মনোনয়নপ্রাপ্তদের জন্য পিএসসির যে যে শর্ত
  • জামায়াতের প্রার্থী হামিদের শ্যালক, বিএনপির দুই ‘ফাঁকা’ আসন নিয়ে জল্পনা
  • বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি
  • খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন দ্রুতই
  • প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা বিএনপির দুই নেতার