থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট চালানের একটি কন্টেইনারবাহী ট্রাক লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছে। ভারতের সড়ক পথ ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকা রয়েছে সেটি। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে কন্টেইনার নিয়ে ট্রাকটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। 

আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম থেকে ভুটানের পথে প্রথম পণ্যবাহী কন্টেইনার

আরো পড়ুন:

হিলি বন্দরে কাঁচা মরিচ আমদানিতে ১৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

আখাউড়া স্থলবন্দরে ৪ দিনের ছুটি শুরু

সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের প্রথম ‘ট্রায়াল রান’ শুরু করেছে ভূ-বেষ্টিত দেশ ভুটান। বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে এই ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত হলেও, দুর্বল অবকাঠামো এবং বিশেষ করে সড়কের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ভুটানের পণ্যের প্রথম চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে গত শুক্রবার ভোরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। শুক্রবারের কাস্টম জটিলতা কারণে ভারতে না পাঠাতে পারলেও শনিবার সকালে চালানটি ভারতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবার কথা ছিল। ভারতের সড়ক পথের অনুমতি না পাওয়ায় চালানটি আটকে যায়। ভারতের কলকাতা থেকে অনুমতি নিয়ে তবে এটি চালু করার কথা। আজ রবিবার ভারতে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লিখিত অনুমতি নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে, মৌখিক অনুমতি নিয়ে প্রথম চালানটি পাঠানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। 

ভুটানের পণ্যের চালান বহন করা কাভার্ড ভ্যানের চালক আলমগীর হোসেন বলেন, “প্রায় ২০ ঘণ্টা পথ অতিক্রম করে চট্টগ্রাম থেকে বুড়িমারী পৌঁছেছি শুক্রবার সকালে। সেই থেকে আজ রবিবার দুপুর গড়িয়ে গেল ভারতের অনুমতি পায়নি। বসে রয়েছে। এত বড় ক্ষতি কে পুষিয়ে দেবে জানি না। চরম দুর্ভোগে পড়েছি। কবে জটিলতা কাটিয়ে উঠবে সেটাও জানি না।” 

বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, “ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম চালুর কারণে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যাবসার বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এটির ফলে উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যের নতুন গতি ফিরে আসবে।” 

বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ভুটানের চালানটি শুক্রবার সকালে এসেছে। শনিবার সকালে স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম করে পাঠানোর কথা ছিল। ভারতের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এটি আটকে আছে। আমরা সব কাজ সমাপ্ত করেছি, ভারত যে মুহূর্তে চাইবে, আমরা সেই মুহূর্তেই চালানটি পাঠাতে পারব।” 

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রানজিট চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এই পরীক্ষামূলক পরিবহণকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সই হয় ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট’ চুক্তি।

ঢাকা/সিপন/মাসুদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর শ ক রব র চ ল নট প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

ভারতের অনুমতি না পাওয়ায় ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট পণ্য বুড়িমারীতে আটকে

বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতের ভেতর দিয়ে ভুটানকে ট্রানশিপমেন্টের পণ্য নেওয়ার অনুমোদন দেয়নি প্রতিবেশী ভারত। ফলে থাইল্যান্ড থেকে জাহাজে করে ভুটানের আনা পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্টের পণ্যের চালান এখন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছে।

জানা গেছে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককের আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড ৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবিত ট্রেডিংয়ের জন্য ছয় ধরনের পণ্য ফলের জুস, জেলি, শুকনা ফল, লিচু ফ্লেভারের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পু কনটেইনারে করে পাঠায়। থাইল্যান্ডের ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে পাঠানো ওই চালান ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর বুড়িমারীর স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনারটি আনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সড়কপথে ভারত হয়ে ভুটানে এসব ট্রানশিপমেন্টের পণ্য যেতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পায়নি। ফলে সেখানেই পড়ে আছে ভুটানের ট্রানশিপমেন্টের পণ্য।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও বেনকো লিমিটেডের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান বুড়িমারীতে রয়েছে। ভারত এখনো অনুমতি দেয়নি, তাই চালানটি পাঠানো যাচ্ছে না। অনুমতি মিললেই পাঠানো হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘গতকাল থেকে ট্রানশিপমেন্ট কনটেইনারটি বন্দরের মাঠে অবস্থান করছে।’ বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভুটানের পণ্যের চালানের সব কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস থেকে অনুমতি পাওয়ামাত্রই আমরা চালানটি ভুটানের পথে পাঠাতে পারব।’

উল্লেখ্য, ২২ মার্চ ২০২৩ বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে একটি প্রটোকল চুক্তি সই হয়। এর এক বছর পর, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভুটানে আয়োজিত দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রানশিপমেন্ট চালান পাঠানো হবে।

এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামে আসা পণ্যের প্রথম কনটেইনারটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাঠায়। এরপর বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনকো লিমিটেড কয়েক দফা চেষ্টা করেও চালানটি ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ভারতের অনুমতি না পাওয়ায় ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট পণ্য বুড়িমারীতে আটকে