ওয়েস্ট হাম ০: ২ লিভারপুল

এটাই কি তাহলে আসল লিভারপুল ২.০? আর্নে স্লটের অধীনে এত পরিবর্তন, এত খরচের ফল কি তাহলে মিলতে শুরু করল? এত জলদি বলা কঠিন। তবে ইদানীং লিভারপুলের জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়ে গিয়েছিল যে কাজটা, সেটা তারা করতে পারল আজ ওয়েস্ট হামের মাঠে। অবশেষে জিতল, ২-০ গোলে!

বেশ কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আজ লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট। মোহাম্মদ সালাহকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছেন! তার বদলে আক্রমণভাগ সাজালেন ২৪ কোটি পাউন্ডের দুই তারকা—আলেকজান্ডার ইসাক আর ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে নিয়ে। ইয়ুর্গেন ক্লপ যুগের পর এই প্রথম বেঞ্চে বসে খেলা দেখলেন সালাহ। আর এই সুযোগে নতুনেরা বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাদের এত দাম দিয়ে আনা হয়েছে। দারুণ এক শটে লিভারপুলের জার্সিতে লিগে নিজের প্রথম গোলটি করলেন ইসাক। অন্যদিকে, এত দিন ধরে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ ভির্টৎস জবাব দিলেন ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে। যোগ হওয়া সময়ে লিভারপুলের দ্বিতীয় গোলটা কোডি গাকপোর।

এ জয়ের পর ১৩ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল আপাতত লিগের পয়েন্ট তালিকায় ৮ নম্বরে।

লিভারপুলের জার্সিতে লিগে নিজের প্রথম গোলের পর ইসাক.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

মুক্তিপণ আদায়ে ফেসবুকে বন্ধুত্ব, ব্যর্থ হয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় নোয়াখালী আমির হোসেনের (২৫)। ঢাকায় আসেন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। একপর্যায়ে কৌশলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। মুক্তিপণ চাওয়া হয় পরিবারের কাছে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হত্যা করা হয় আমিরকে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ফেসবুক বন্ধুসহ দুজনকে মৃতুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন তারেক ওরফে তারেক আহম্মেদ ও হৃদয় আলী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রাসেল সরদারকে। একই সঙ্গে তিনজনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার এ রায় দেন। এ ছাড়া অপহরণের দায়ে এই তিন আসামিকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। অপর আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার আশকোনা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আমির হোসেন। এরপর কয়েক মাস বিভিন্ন স্থানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান পায়নি। পরের বছরের ১৩ এপ্রিল তাঁর বড় ভাই বেল্লাল হোসেন দক্ষিণখান থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এরপর অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে আমির হোসেনের বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী আমিরের সঙ্গে তারেকের ফেসবুকে পরিচয় হয়। ২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী উত্তরায় আসার কথা তারেককে জানান। বিকেলের দিকে তারেক গাজীপুরের চৌরাস্তায় গিয়ে দেখা করেন এবং সন্ধ্যায় খাওয়াদাওয়া করেন। খাওয়া শেষে কোমল পানীয়র সঙ্গে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ মেশান। রিকশায় করে বাসায় যেতে যেতে সেটা ভুক্তভোগীকে খাওয়ান। আমির বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। দুই থেকে তিন দিনেও তাঁর ঘুম না ভাঙায় এ সুযোগে তাঁর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়ার কৌশল নেন তারেক। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার টাকা না দেওয়ায় ৫০ কেজি ওজনের আটার বস্তার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আমিরকে হত্যা করেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, তারেক একটি সমকামী গ্রুপের সদস্য বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রাসেল সরদার জানান। তাঁরা দীর্ঘদিন কৌশলে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেলেদের এনে মুক্তিপণ দাবি করতেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ